Thokbirim | logo

২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১২ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

লামায় রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত  ৪০ পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ 

প্রকাশিত : মে ২৮, ২০২২, ২২:০২

লামায় রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত  ৪০ পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ 

লামায় রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিপুরা ও ম্রো ৪০ পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা শ্রমিক সংসদ।

২৭ মে, শুক্রবার, ২০২২ ইং পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা সরই ইউনিয়নে রাবার ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিপুরা ও ম্রো সম্প্রদায়ের ৪০ পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ ত্রিপুরা শ্রমিক সংসদ। এছাড়াও ত্রাণের আর্থিক সহযোগিতায় বাড়িয়েছেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা ছাত্র সংসদ ( টিসিএস)।ত্রাণ বিতরণে বাংলাদেশ ত্রিপুরা শ্রমিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাধন বিকাশ ত্রিপুরা সঞ্চালনায় পরেশ ত্রিপুরা সভাপতিত্বে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি রুপম দাস, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির, কেন্দ্রীয়  সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব  দীপক কুমার পাল ও এলাবাসীর পক্ষ থেকে জয়মনি ত্রিপুরা ও ইয়াংইন ম্রো। এছাড়া বাংলাদেশ ত্রিপুরা শ্রমিক সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিকে ত্রিপুরা।

দীপক কুমার পাল বলেন, এখানকার রাবার কোম্পানি ম্রো এবং ত্রিপুরাদের জুম,ফলজ বাগান,প্রাকৃতিক বন পুড়িয়ে দেয়। । তাঁরা বাংলাদেশকে মানে না এবং সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে । কেননা বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে সংখ্যা গরিষ্ঠ বাঙালি ছাড়াও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ ক্ষুদ্র জাতিসত্তারাও জীবন ত্যাগ করে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরকার ও রাষ্ট্রের সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির লোকেরা স্থানীয়দের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। তাদের ভূমি বেদখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি এ অপরাধ কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গাদেরও ব্যবহার করেছে ।এটা খুবই নিন্দনীয় । আমরা আশা রাখছি,সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন অতি শ্রীঘ্রই রাবার কোম্পানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিবে। এবং পাহাড়িদের ভূমি ও জানমালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করবে। একই সাথে পার্বত্য চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তিনি।

রুপম দাস বলেন, এখানে পাহাড়ি জাতিসত্তারা যুগ যুগ ধরে তাদের পিতৃভূমিতে জীবন যাপন করে আসছে। কিন্তু কিছুদিন আগে একটি প্রভাবশালী রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি কর্তৃক ম্রো ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জুম ও বাগান পুড়িয়ে দিয়েছে এবং স্থানীয়রা এখন খুবই অসহায় এবং খাদ্যের অভাবে সন্নিকটে। এটা খুবই নিন্দনীয়। তাই আমি সরকারের কাছে জোর দাবি জানাবো ত্রিপুরা ও ম্রো সম্প্রদায়ের ভূমি ফিরিয়ে দিন এবং তাদেরকে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহযোগিতা দিয়ে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করুন।

ডিকে ত্রিপুরা বলেন, গত ২৬ এপ্রিল লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজার লাংকম ম্রো পাড়া, জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়া ও রেংয়েন ম্রো পাড়ায় প্রায় ৪০০ একর মতো লামায় রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃক আগুন দিয়ে ত্রিপুরা ও ম্রো সম্প্রদায়ের যে জুমের জমি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা শ্রমিক সংসদের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, জুম- বাগানে আগুন লাগিয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন ম্রো ও ত্রিপুরা পাড়াবাসীরা ভয়ে এখনো জুম চাষ শুরু করতে পারেনি। এদিকে ফুরিয়ে আসছে জুম চাষের সময়। মে ও জুন এ দুই মাসের মধ্যে জুম চাষ করতে না পারলে আগামী এক বছর চরম ভাবে খাদ্য সংকটের পড়বে তিন পাড়ার বাসিন্দারা। কারণ তারা আর কতদিন ত্রাণের উপর নির্ভর করে জীবন যাপন করবে।


তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, আপনারা ভীত হবেন না। কারণ এ দেশের ধনী শ্রেণিরা আরো ধনী হতে নিম্ন শ্রেণিদের শাসন শোষণ করেন। তারা গরীবের পেটে লাঠি মেরে আরো বিত্তবান হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। শাসকশ্রেণিরা আমাদের উপর শাসন শোষণ করতে করতে আমরা আজ অস্তিত্ব সংকটে। আমাদের পিতৃভূমি কেড়ে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। উন্নয়ন, পর্যটন নামে ভূমি বেদখল করছে। তাই আমাদের আর পালাবার জায়গা নেই। আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। তাই সাহসী মনোবল হয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দখলদারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এবং সবসময় বাংলাদেশ ত্রিপুরা শ্রমিক সংসদের নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশাব্যক্ত করেন। এবং ভূমিদস্যুর মুল হোতা লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড কর্মকর্তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

সভাপতি বক্তব্যে পরেশ ত্রিপুরা বলেন, এখানে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসা ম্রো ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জুম চাষের ভূমি ও ফলের বাগানে রাবার কোম্পানির লেলিয়ে দেয়া লোকজন আগুন লাগিয়ে দিয়ে ওই পাহাড়ে পাড়াবাসীর লাগানো বিভিন্ন ফলদ গাছ, বাগান ও বাঁশঝাড়সহ জুমের জমি পুড়ে যায়। এই জমিতে এ বছরও জুম চাষের কথা ছিল তিন পাড়ার বাসিন্দাদের। কিন্তু ভয়ে এখনো জুমের বীজ বপন শুরু করতে পারেনি কেউই। তাই তাদের পরবর্তী সময়ে খাদ্য সংকটে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই আমরা মানবিক সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ ত্রিপুরা শ্রমিক সংসদের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু ত্রাণ বিতরণ করতে এসেছি। তবে এ ত্রাণ দিয়ে পর্যাপ্ত নয়। আপনাদের ভূমি রক্ষার জন্য আপনাদেরকে একতাবদ্ধ ভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে বলে জানান।

আজকে বাংলাদেশ ত্রিপুরা শ্রমিক সংসদের ত্রাণ বিতরণে গিয়ে এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে পাড়াপ্রধানসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসন জুম চাষ চালিয়ে যেতে মৌখিক নির্দেশনা দিলেও তাদের ভয় কাটছে না। তাছাড়া লামা রাবার কোম্পানির অব্যাহত হুমকি ও মহড়ার কারণে পরিবার অনুযায়ী নির্দিষ্ট পাহাড়ে জুম চাষ করতে পারছে না কেউই। মে মাসের মধ্যে প্রশাসনিকভাবে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জুম চাষে লিখিত নির্দেশনা না দিলে আগামীতে বছরব্যাপী খাদ্য সংকটে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজার লাংকম ম্রো পাড়া, জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়া ও রেংয়েন ম্রো পাড়ায় প্রায় ৪০০ একর জমিতে রাবার কোম্পানির লেলিয়ে দেয়া লোকজন আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে ওই পাহাড়ে পাড়াবাসীর লাগানো বিভিন্ন ফলদ গাছ, বাগান ও বাঁশঝাড়সহ জুমের জমি পুড়ে যায়। এই জমিতে এ বছরও জুম চাষের কথা ছিল তিন পাড়ার বাসিন্দাদের। কিন্তু ভয়ে এখনো জুমের বীজ বপন শুরু করতে পারেনি কেউই। পাড়াপ্রধানসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসন জুম চাষ চালিয়ে যেতে মৌখিক নির্দেশনা দিলেও তাদের ভয় কাটছে না। তাছাড়া লামা রাবার কোম্পানির অব্যাহত হুমকি ও মহড়ার কারণে পরিবার অনুযায়ী নির্দিষ্ট পাহাড়ে জুম চাষ করতে পারছে না কেউই। মে মাসের মধ্যে প্রশাসনিকভাবে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জুম চাষে লিখিত নির্দেশনা না দিলে আগামীতে বছরব্যাপী খাদ্য সংকটে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় পাড়ার কয়েকজন বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকেই এ এলাকায় রাবার বাগান সম্প্রসারণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাবার কোম্পানি। পাহাড় পুড়িয়ে দেয়ায় এ বছর জুম চাষ এখনো শুরু করতে পারেনি পাড়াবাসী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জুম চাষের জন্য বলা হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া তারা জুম চাষ করতে ভয় পাচ্ছে। জুম চাষ করতে না পারলে আগামী এক বছর খাদ্য সংকটের মধ্যে পড়ার আশংকা প্রকাশ করেন। তথ্যে জানা গেছে, সরই ইউনিয়নের লাংকম ম্রো পাড়ায় ১২টি পরিবারের জনসংখ্যা ৭০, জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়ার ১৬টি পরিবারের জনসংখ্যা ৮৭ এবং রেংয়েন পাড়ার ১১টি পরিবারের মোট জনসংখ্যা ৬৮। অর্থাৎ তিন পাড়া মিলিয়ে সর্বমোট ২২৫ জন ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাহাড়ে জুম চাষ ছাড়াও এসব পরিবার পাহাড়ের নিচে সমতলে ধান চাষ করে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে লাংকম ছড়ার পানিও শুকিয়ে গেছে। ফলে পাড়াবাসীকে সুপেয় পানির জন্য অনেক দূর পর্যন্ত হেঁটে যেতে হয়।

তবে বিভিন্ন তথ্য সুত্রে জানা যায়, লামা রাবার কোম্পানির ৬৪ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছে বলে দাবি করলেও ৫২ জনের লিজের কাগজ জমা দিয়েছে বলে জানা যায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর। তথ্যসুত্রে জানা যায়, লিজের শর্তানুযায়ী লিজ পাওয়ার ১০ বছরের মধ্যে বাগান সৃজনে ব্যর্থ হলে কিংবা লিজ চুক্তির অন্য যে কোনো শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিজ চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। সে হিসেবে তিন পাড়ার জুম ভূমিকে লিজ ভূমির অংশ বলে লামা রাবার কোম্পানির দাবি অযৌক্তিক মনে করে এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক তদন্ত কমিটি গঠিত ষড়যন্ত্রমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট তথাকথিত শুনানি নামে তামাশার যে সমঝোতা প্রস্তাব তা এলাকাবাসীরা প্রত্যাখান করেছেন বলে জানা যায়।

।। আদিত্য ত্রিপুরা



 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x