Thokbirim | logo

১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অনুবাদ ।। বাধ্যতার সুফল ।। আংকেল আর্থার

প্রকাশিত : অক্টোবর ০৫, ২০২১, ০৯:৫৪

অনুবাদ ।। বাধ্যতার সুফল ।। আংকেল আর্থার

ধরুন আপনি খুব দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। তা দেখে একজন ট্রাফিক পুলিশ দূর থেকে আপনাকে থামতে বললেন। ঐ মূহূর্তে একজন দক্ষ্য চালক হিসেবে আপনার থামার কথা। কিন্তু রাগ করে বা জেদ বসত দুর কি হবে গাড়ি চলন্ত অবস্থায় আছে এখন থামতে পারবো না বলে আপনি আরো দ্রুত গতিতে চালিয়ে গেলেন।

এতে কিন্তু আপনি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করেছেন। মনে রাখবেন ট্রাফিক আইন মেনে না চলার জন্য আপনাকে হয়তো মোটা অংকের টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে, জেলও কাটতে হতে পারে এবং এমনকি আপনার হয় তো মৃত্যুর মুখোমুখি এক্সিডেন্টও হতে পারে। আসলে যেকারণে গাড়ি চালককে ট্রাফিক পুলিশের আইন বা সংকেতগুলো পালন করা দরকার বলছিলাম সেটি হলো কোনো আদেশ বা নির্দেশ দেওয়া যদি সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে বাধ্য হয়ে মেনে চলা হয় তাহলে কিন্তু অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কিছু কিছু ছেলেমেয়েদের জীবনের দিকে তাকালে দেখবেন যে, যখন তাদের মা কোনো কিছু করতে বলেন তখন তারা কোনো কিছু না ভেবেই তাৎক্ষণিকভাবে সেটি করতে চেষ্টা করে । কাজটি করার শেষে তারা বুঝতে পারে বা অবাক হয় তাদের মা আসলে কেন সেই কাজটি করতে বলেছিলেন। এটা অনেক ভাল দিক যে কোনো কিছু করতে বললে সাথে সাথে তাৎক্ষণিক কাজটি করে ফেলা। কেননা অনেক সময় সেই বাধ্যতার জন্যই বিভিন্ন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। জেরির শৈশবে সেই ধরণের একটি ঘটনা ঘটে। তখন সে তার বাবা-মার সাথে নিউজিল্যান্ডের বসবাস করছিল। একদিন বাবা মা তাকে নিয়ে আগ্নেগিরি পর্বত দেখতে যান। পর্বতে উঠে তারা দেখলো হাজারো রংবেরংয়ের গাছ দিয়ে ভরা, পথগুলো আবার ধুলাবালি নুড়ি পাথরে স্তর পড়তে পড়তে প্রায় মোটা বা পুরু হয়ে গেছে। যে কারণে পর্বতে উঠতে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে এবং নামতে আরো বেশি অসুবিধা হয়ে পরছে।

চারিদিকে নুড়িপাথরের বিস্তরণের জন্য বার বার পিছলে পরার সময় গাছে ধরে ভারসাম্য দিতে দিতে একসময় তারা প্রায় ১-২ কিলোমিটারের পথ পারি দেই এবং বেশি উচুতে বরপে ঢাকা স্থানে পৌঁছে। তারপর এক ঘন্টার পর জেরির বাবা-মা মনে করল ফিরে গেলে এখন সবচেয়ে ভাল হবে।

তাই তারা দুজনে নুড়িপাথরে পিছলের পথ ধরে নিচে নেমে যায় এবং নয় বছরের বালক জেরি পর্বতের সামনের দিকে এগুতেই থাকে। যেতে যেতে অনেক দূর পর্যন্ত যায়। যেখান থেকে তিন চার মিটার নিরাপথে লাফ দেয়া সম্ভব না। এটা যদি কেউ করে থাকে সেটি বোকামি হবে এবং অবশ্যই কেউ অতিদ্রুত দৌঁড়াতে পারবে না, সে তার ভারসাম্য হারাবে।

যদি তুমি দৌঁড়েও থাকো এমন একটা সময় আসবে খুব উচু খাড়া পাহাড় বলে তুমি বুঝতেই পারবে না যে তুমি পড়ে যাচ্ছ। জেরির মা-বাবা নিচে নামার পর লক্ষ্য করল তাদের আদরের ছেলে জেরি তাদের সাথে নাই। তখন বিকেলের রক্তিম মাকা সূর্যটা ডুবে যাচ্ছে। অর্থ্যাৎ অন্ধকার নেমে আসছে। এতে তারা বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে । তারা একে অপরকে ধিক্কার দিয়ে দোষারোপ করে বলতে লাগলো আমরা নিরাপদে নামার জন্য পরস্পরকে সাহায্য করেছে ঠিকই কিন্তু আমাদের একমাত্র ছেলে কোথায় বা কতদূরে আছে তা লক্ষ্য করতে ভুলে গেছি।

তারা একে একে জোরে ডাকলো, জেরি, তুমি কোথায় । পাহাড়ের অনেক উপর থেকে উৎফুল্ল মনে সে উত্তর দিলো, আমি এখানে, আসছি, আমি আসছি।

তাড়াতাড়ি চলে আসো, বাবা রাগান্বিত স্বরে বলল। উত্তরে ছেলে বলল, ঠিক আছে বাবা আমি দ্রুতই আসছি। তখন জেরি সত্যি সত্যিই দ্রুত হাঁটতে আরম্ভ করলো। নিচে সে তাকিয়ে দেখে এখনও অনেক পথ বাকি আছে সমতল ভাল রাস্তায় পৌঁচ্ছতে। চারদিকে অন্ধ্যকারের ছায়া নেমে আসায় সে আরো দ্রুত পথ পাড়ি দিতে শুরু করলো এবং একসময় সে তার বাবা মাকে আবছা আবছা দেখতে পেয়ে লাফ দিল। লাফ দিতে দিতে একসময় সে বুঝতে পারলো যে সে নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারছে না। সে বারবার প্রতিটি লাফ দেওয়াকে থামাতে চেষ্টা করছে কিন্তু কোনো মতেই সে থামাতে পারছে না। সে নিচে লক্ষ্য করে এখনও প্রায় ৬ মিটারের মতো পথ বাকি আছে এখন সে কি করবে ভেবে পায় না, সে জোরে কেঁদে কেঁদে বলল, আম্মু আমি থামতে পারছি না, থামতে পারছি না।

ছেলের এই অবস্থা দেখে বাবা মা স্তম্ভিত হয়, তাদের আদরের ছেলে বড় বড় লাফ দিয়ে আসছে, ভারসাম্য রাখতে পারছেনা। জেরির প্রতিটি দীর্ঘ লাফগুলো মৃত্যুর জন্য ঝুকিপূর্ণ। তার মা চিৎকার করে কেঁদে কেঁেদ বলল থামতে বল তাকে থামতে বল। তার বাবা বলল, না এখন তাকে থামতে বলা ঠিক হবে না। কারণ সে এখন থামতে পারবে না। তারপর হাত দিয়ে ইসারা দিয়ে তাকে যতুটুকু বুঝানো যায় সেভাবে সে জোরে বলল, জেরি তুমি নিচে শুয়ে পড়ো, শুয়ে পড়ো।

বাবার এই কথা জেরির কানে গুলির মতো লেগে গেল; বাবার এই নির্দেশনায় মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় মনে করে সে মেজেতে শুয়ে পড়লো। যেখানে পড়ে জেরি কাঁদছিল সেখানে তার বাবা-মা উঠে গেল এবং অক্ষত অবস্থায় তাকে খুঁজে পেল। তারা ছেলেকে খোলে নিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখলো এবড়ো থেবড়ো ধারযুক্ত অনেক পাথরগুলো দেখে অনেক ভয় পেল এবং একে অপরকে বলল, ইস্ ছেলেটা যদি আমাদের কথা মতো বাধ্য হয়ে শুয়ে না পড়তো তাহলে তার কোনো একটা দুর্ঘটনা হতো। আমাদের কথায় বাধ্য থাকায় আমাদের ছেলেটা মারাত্মক বিপদ থেকে মুক্তি পেল।

তাৎক্ষনিক বা বলার সাথে সাথে বাধ্য হয়ে কাজ করা ছেলেমেয়েদের একটি অমূল্য মূল্যবোধ। বিশেষ করে জ্ঞানে বয়সে অভিজ্ঞজনেরা যখন কোনো কিছু করতে বলে বা নির্দেশনা দেন সেগুলো বাধ্যতার আদর্শে আমাদের সবারই পালন করা দরকার।

অনুবাদ: মানুয়েল চাম্বুগং



 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost