Thokbirim | logo

১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঈশ্বরের বাক্য প্রচারে এক মেষপালকের নাম জন রুগা ।। জর্জ রুরাম

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১, ১২:২৬

ঈশ্বরের বাক্য প্রচারে এক মেষপালকের নাম জন রুগা ।। জর্জ রুরাম

বিধাতা কাকে কখন, কীভাবে তাঁর নিজের কাজে নিয়োজিত করেন তা আমরা সসীম মানবজাতির পক্ষে তা উপলব্ধি করতে পারি না। যেমন পূর্ব জীবনে সৌল খ্রিস্টানদের নির্যাতন, নিপীড়ন করত।  সেই উৎপীড়ককে সদাপ্রভু বেছে নিলেন বিজাতীয়, রাজন্যবর্গ ও ইস্রায়েল জাতির নিকট তাঁর বাণী প্রচারক হিসেবে মনোনীত করলেন প্রভু আনানিয়া বলেছেন,”তুমি যাও, আমি তাকে বেছে নিয়েছি, যাতে বিজাতীয়দের কাছে, রাজাদের কাছে ও ইস্রায়েলদের কাছে আমার সুসংবাদ ঘোষণা করে।”- “নতুন মানুষের আবির্ভাব ৩০৭-০৮ পৃ:।

ষাট দশকে প্রচারক হিসেবে রাণীখং মিশন থেকে জন রুগা হালের চিটাগাং মেট্রোপলিটান আর্চডায়োসিসে  গিয়েছিলেন ১৯৬৩ সালে। ভাংতি থেকে চুল কেটে পায়ে হেঁটে নিজ গ্রাম পশ্চিম বিজয়পুর যাচ্ছিলেন। দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার। রাস্তায় সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় জানা গেল তিনি কাজ করেছেন বান্দরবন জেলার রুমা, থানচি ও আশেপাশের এলাকায়। তিনি ত্রিপুরা সমাজে কাজ শুরু করেন।

তখন নাকি সে এলাকায় কর্মরত ছিলেন একজন আমেরিকান ও একজন কেনাডিয়ান ফাদার। দুজন পুরোহিতগণ তাঁকে বলেছেন, “যত পার তাদের সাথে মিশতে চেষ্টা কর!” জন রুগা তখন টগবগে য়ুবক। তিনি নাকি পুরোহিতদ্বয়কে বলেছিলেন, “তাদের সাথে মিশতে গেলে তো মদ পান করতে হবে!” কর্তৃপক্ষ শুধু নাকি বলেছিল, “নিজে মাত্রা রেখে পান কর!” ধর্মপ্রচারের কৌশল তাঁকে জানান দিল পুরোহিতদ্বয়। তাই তিনি যে এলাকায় কাজ করেছেন সবার সাথে মিশতে চেষ্টা করেছেন। এ কৌশল তাকে তাঁর নির্ধারিত কর্মে দারুণ সফলতা ও সহায়তা দান করেছে।

যুবক-যুবতী, ছেলেমেয়ে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবার সাথে মিশতে চেষ্টা করেছেন। মদের আসরেও সঙ্গ দিয়েছেন। মাঝে সাঝে পানও করেছেন আসরে একাত্মতা প্রকাশ করতে।

তিনি মোট পাঁচ বছর অত্র এলাকার বিভিন্ন গ্রামে কাজ করেছেন। তিনি তাদের ধর্ম শিক্ষা দিতেন, প্রার্ত্থনা শিখাতেন, তাদের নিয়ে প্রার্থনা করতেন প্রতিদিন। তাদের সাথে মিশতে গিয়ে লোকজনদের সাথে জুমেও কাজ করতেন তাঁর নিজের টার্গেট সঠিক রেখে।

তিনি স্মৃতিরোমন্থনে বলেছিলেন, “থানচি এলাকায় যুবকরা আমাকে প্রায় দু’একরের মত পাহাড় দিয়েছিল আমাকে জুম করতে।”

তারা বলত, “আমরা এর ফসল নেব না, এটা তোমার খাওয়ার জন্য। বাকি যা থাকে তুমি চাইলে বিক্রি করতে পার, আমরা কোন ভাগ নেব না।”

তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমি প্রায় ২০-২৫ ধান পেতাম। এ ছাড়া শাকসবজি, তিল ও কার্পাস তুলা তো আছেই!”

সেই ষাট দশকের প্রচারক জন রুগা এখনো প্রতিদিন সকালে হাঁটেন প্রায় দু কিলোমিটারের মত রাস্তা। আমার অনেক সিনিয়র। ষাট দশকের দিকে আমি বান্দুরা হাইস্কুলের ছাত্র। আনুমানিক তাঁর বয়স হবে আশির উপরে। অব্শ্য এখন মাঝে সাঝে লাঠি নিয়ে সকালে বেরুন। প্রতি রোববারে গির্জায় আসেন, মিস নাই। ঠান্ডা প্রকৃতির মানুষ। সব সময় চুপচাপ থাকেন। প্রয়োজন না হলে কারো সাথে যেচে কথা বলেন না। তাঁর আসল বাড়ি কামারখালি। জামাই এসেছেন বিজয়পুরে, স্ত্রী রুরাম মাহারি। এককালে সচ্ছল পরিবার ছিল পাক আমলে।  মাথার চুল কাশবনের ফুলের ন্যায়  সাদা। এখনো বেশ স্টেমিনা রয়েছে।

প্রতিদিন হাঁটেন বলেই এখনো সতেজ রয়েছেন। বিজয়পুরের তাঁর সকালের আরেক সঙ্গী ললিত রিছিল বয়সের ভারে সকালে বেরুন না। শরীর নাকি দিনে দিনে ভার লাগছে। সহজভাবে এখন হাঁটতে পারেন না।



 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost