Thokbirim | logo

১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আদিবাসী নারী ধর্ষণ ঘটনায় বিলম্ব মেডিক্যাল পরীক্ষা ও নেতিবাচক ফলাফলে হাজং সংগঠনের উদ্বেগ  জানিয়ে বিবৃতি

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২১, ১৪:৩২

আদিবাসী নারী ধর্ষণ ঘটনায় বিলম্ব মেডিক্যাল পরীক্ষা ও নেতিবাচক ফলাফলে হাজং সংগঠনের উদ্বেগ  জানিয়ে বিবৃতি

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২১) জাতীয় হাজং সংগঠন ও বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন-যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাজং আদিবাসী নারী ধর্ষণ ঘটনায় বিলম্ব মেডিক্যাল পরীক্ষা ও নেতিবাচক ফলাফলে  উদ্বেগ  জানিয়েছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পল্টন হাজং এবং  বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ হাজং এই  বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা জাতীয় হাজং সংগঠন ও বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন উক্ত মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলকে ভুল ও সন্দেহজনক মনে করছি এবং একইসাথে এই ফলাফল প্রত্যাখান করছি। আমরা বারংবার ভিকটিম ও তার পরিবারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে, ধর্ষণের ঘটনাটি সত্য ছিল। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল নেতিবাচক আসায় আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে, ধর্ষণের পরীক্ষা দ্রুত ও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সম্পন্ন করা হয়নি অথবা এ মামলাকে হালকা ও ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ফলাফল প্রকাশে কারো কোন প্রভাব বা প্ররোচনা থাকতে পারে!

ধর্ষণ ঘটনার মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলে আমাদের উদ্বেগ ও সন্দেহ প্রকাশের কারণ হল-

১. ভিকটিমের মেডিক্যাল পরীক্ষা গ্রহণে শুরু হতে অবহেলা ছিল: সকালে ধর্ষণের ঘটনার পর জরুরি মেডিক্যাল পরীক্ষা ও ভিকটিমের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে শুরু হতেই সালিশের কথা বলে সারাদিনই সময়ক্ষেপন করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসন। এরপর ভিকটিমের পরিবার বিচারের দাবি অব্যাহত রাখলে সালিশ থেকে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে এবং ভিকটিম ও ভিকটিমের অভিভাবককে থানায় আসতে বলে। ভিকটিম ও তার পরিবার দ্রুত মেডিক্যাল পরীক্ষা করতে চাইলে থানা কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপন করে পরবর্তী দিনে পরীক্ষা করানোর কথা বলে। এরপর পরবর্তী দিন ১৫ আগস্ট সকালে ভিকটিমকে মেডিক্যাল টেস্ট করানোর জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে ২৪ ঘন্টার অধিক সময়ক্ষেপন হয়ে যায়।

২. ধর্ষণ ঘটনাকালে প্রবল বৃষ্টিপাত ছিল। এছাড়া ঘটনায় শিকার ভিকটিম অত্যন্ত  ভীত ও কাতর হয়ে পড়েছিল এবং মেডিক্যাল টেস্ট এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে ঘটনার পরই ভিকটিম গোসল করে ফেলেছিল। এর ফলেও ধর্ষণের আলামত নষ্ট হতে পারে।

৩. ঘটনাকালের ভিকটিমের পড়নের ছেঁড়া কাপড় থানায় পৌঁছালেও সেটা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে না পাঠিয়ে থানার হেফাজতে রাখা হয়।

৪. ধর্ষণের শিকার কিশোরীটি হাজং সম্প্রদায়ের প্রত্যন্ত এলাকার অত্যন্ত সহজ ও সরল প্রকৃতির। বাইরের মানুষের সাথে তার মেলামেশার অভিজ্ঞতা কম এবং নিজ মাতৃভাষা ‘হাজং’ ছাড়া বাংলা সে খুব কমই বুঝতে ও বলতে পারে। মেডিক্যাল টেস্ট ও তার জবানবন্দিতে তাকে সহযোগিতার জন্য কোন দ্বিভাষীর ব্যবস্থা করা হয়নি’

বিবৃতির মাধ্যমে ৫টি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে-

১. সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার আদিবাসী তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষায় কোন অবহেলা ও ফলাফলে প্ররোচনা হয়ে থাকলে তা খুঁজে বের করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা।

২. আদিবাসী নারীর প্রতি ধর্ষণ ঘটনার সম্পৃক্ত অভিযুক্ত আসামী আব্দুল রাশিদকে রক্ষার কোন ষড়যন্ত্র চলতে থাকলে তা শক্তভাবে প্রতিহত করা।

৩. ঘটনাটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত আসামীকে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

৪. দরিদ্র, অসহায় ও অসচেতন এই ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিম ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৫. ক্ষতিগ্রস্ত নারীর মানসিক অবস্থা জোরদার করণের জন্যে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং মামলা পরিচালনায় আইনী সহায়তা প্রদান করা।

উল্লেখ্য, ১৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানাধীন সীমান্তবর্তী রাজাই গ্রামে এক আদিবাসী তরুণী (২৩) ঐ গ্রামের আব্দুল রাশিদ (৪৫), পিতা আবুল কালাম কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন। ঐ দিনই এ ধর্ষণ ঘটনায় ভিকটিমের মায়ের অভিযোগে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা হয়। মামলা নং ১২, তারিখ ১৪/০৮/২০২১ খ্রি: ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯ (১)।

।। থকবিরমি বার্তা




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x