Thokbirim | logo

৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

লড়াইয়ে পাহাড় সমান নারী ।। প্রত্যয় নাফাক

প্রকাশিত : জুলাই ২১, ২০২১, ১২:২২

লড়াইয়ে পাহাড় সমান নারী ।। প্রত্যয় নাফাক

১৯৫৫ সালের শুরু হওয়া ভিয়েতনাম যুদ্ধের কথা ভাবলে আমাদের সামনে সবার আগে চলে আসে মার্কিন সাম্রাজ্য বিস্তারের বিপরীতে এক দল লড়াকু নারীর গল্প । পৃথিবীব্যাপী শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ মুক্তির সংগ্রাম এবং লড়াইকে আরো শক্তির সম্ভার হিসেব সামনে নিয়ে এসেছে । এমটায় বলছিলেন ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিজের যুদ্ধা মাকে হারানো বিবিসি সাংবাদিক হিউঙ লাই । বিবিসির এই সাংবাদিককে মাত্র ১৬ মাস বয়সে রেখে লড়াইয়ের ময়দানে চলে গিয়েঠছিলেন উত্তর ভিয়েতনামের প্রথম নারী বিষয়ক সংবাদ দাতা ডুয়ং থি জুয়ান কাই । ১৯৬৯ ভিয়েতকং নামের গেরিলা বাহিনী সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে ধরা পড়ে লড়াইয়ে নিজেকে আত্ম ত্যাগ করেন এই নারী । ভিয়েনামের যুদ্ধে যেসকল আলোকচিত্র পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছেলো তাদের মধ্যে অন্যতম আলোকচিত্র নিশ্চয় এইটি যেখানে মার্কিন বিমানবাহিনী ১ম লেফটেন্যান্ট জেরাল্ড সান্টো ভেনানজি উত্তর ভিয়েতনামি এক যুবতী, সৈনিকের দ্বারা বন্দী হন ।
১৯৯২ এর এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া বসনীয়ার যুদ্ধের পর , যুদ্ধের অস্ত্র হিসাবে গণহত্যার পর গণধর্ষণ মানবতা বিরোধী অপরাধ এই আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির পেছনে যিনি নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন তিনি নিজে যুদ্ধে ধর্ষনের পর ধর্ষণের শিকার হওয়া নারী নুসরেতা সিভাচ ।যুদ্ধের ময়দানের নিযার্তন যাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি যুদ্ধের পরেও ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিপরীতে করেছেন লড়াই । এই লড়াই যেমন মুক্তির লড়াইয়ে মুক্তির ,তেমনি মধ্যযুগিয় ধ্যান ধারনায় নারীদের অবহেলাকে লাথি মেরে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে লড়াই ময়দানে লিঙ্গ নির্ধারণের সুযোগ নেই ।

আজকে বাংলাদেশের পাহাড় জুড়ে জাতি গত নিপিড়নের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড়ি নারী দের নিপীড়ন ।পুজির বিকাশ পাহাড়ি নারীদেরো মুক্তি দিচ্ছে না । একদিকে পুঁজির পণ্যতে রূপান্তর এবং অন্যদিকে শারীরিক নিপীড়ন ধর্ষণ । একদিকে যেমন শোষণ নিপীড়ন তেমনি এর বিপরীতেও ৯০ এর দশকে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের হাত ধরে পাহাড়ের রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার পাহাড়ি নারী ।রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সামনে পাহাড়ে লড়াকু নারীদের শক্তির জায়গা হিসেবে মাথা তুলতে থাকে পাহাড়ি নারীরা । কল্পনা চাকমার মত সৈনিক তৈরি হতে থাকে এই শক্তির হাত ধরে যাদের রাষ্ট্র ভয় পেতে শুরু করে এবং অপহরণ করেত বাধ্য হয় । সারা পৃথিবী জুড়ে আদিবাসী নারীদের দিকে ধেয়ে আসা বঞ্চনার বিপরীতে লড়াই করেছে সমান তালে এই নারীরা । ২০০৪ সালে অসম রাইফেলসের একদল জওয়ান ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় থাংজাম মনোরমাকে । যাকে ধষর্ণ করে হত্যা করে ভারতীয় সেনারা এর প্রতিবাদে মনিপুরী মায়েরা নারীরা নগ্ন হয়ে রাজপথে নেমে আসে । এই ঘটনায় বিশ্বের সবথেকে বৃহৎ গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত কেপে ওঠে । মনিপুরি নারীর বীরত্ব শুধু এখানে থেমে নেই নুপিলান ১৮৯১ সালে ইংরেজরা মণিপুর দখল করে নেয়। ব্রিটিশ সেনার কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হন মণিপুরের মহারাজ কুলরাজ সিংহ । যুদ্ধবন্দি করে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ব্রিটিশ রাজত্বে শাসন আর শোষণ চরমে ওঠে। ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট মেজর ম্যাক্রয়ালের সরকারি বাসভবনটি পুড়িয়ে দেন সরকার বিরোধী কয়েকজন বিপ্লবী। এই বাসভবনটি নতুন করে তৈরির কাজে মনিপুরিদের বিনা পারিশ্রমিকে বাধ্যতামূলক শ্রমদানের নির্দেশ দেন ম্যাক্রয়াল। হাজার-হাজার মহিলা সমবেত হয়ে ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানান। ব্রিটিশ ফৌজ দিয়ে মহিলাদের দমন করার চেষ্টা হয়। কামানের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় মণিপুরি মায়েদের। ছিন্নভিন্ন হয়েও সরকারের আদেশ মানতে অমান্য করেন মহিলারা। শেষ পর্যন্ত ম্যাক্রয়ালকে ওই নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হয়। মণিপুরি মহিলাদের সে দিনের সংগ্রাম ছিল ‘প্রথম নুপিলান’ (First Nupi Lan) । মেয়েদের যুদ্ধ।
যা বলছিলাম রাষ্ট্র ভয়ে কল্পনাকে অপহরণ করে কিন্তু কল্পনার উত্তরসুরী ? যারা মনে প্রাণে মুক্তি চায় ? তারা তো থেমে নেই পাহাড়ে । ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটির শহরতলী রাঙাপান্যায় এলাকায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পায়তারে করলে সেখানে বাহিনীর সাথে সংঘাতে রাজপথে নেমে আসে পাহাড়ি মায়েরা । যারা অস্ত্রের মুখে লাঠি নিয়ে দাড়িয়ে যায় এবং বাহিনীকে পিছু হটাতে বাধ্য করে । ২০০৯ সালের ৮ মে কদুকছড়ির ঘিলাছড়িতে এক নারীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নারীরা রাস্তায় নেমে সেনা অধিনায়কের জিপ অবরোধ করে এবং সেনা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত জওয়ানকে প্রত্যাহার-সাজা দিতে বাধ্য হয়। পৃথিবীব্যাপি নারীর মুক্তির লড়াই এবং জাতি মুক্তির সংগ্রামের নারীর ভূমিকার সাথে পাহাড়ে শোষণ মুক্তির লড়াইয়ে নারীর ভুমিকা নিয়ে বলতে গেলে যা দাঁড়ায়” আপোসহীনতার যে ডাক চেঙ্গীর রূপবতী শরীর জুড়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ে সে ডাকে নিশ্চয় সাড়া দেবে সাঙ্গুর পাড় বেয়ে ছুটে চলা বহু কল্পনা। ”

জাতি মুক্তির প্রশ্নে, শোষণের প্রশ্নে নারীর সংগ্রাম যুগ যুগ জিও ।।



 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost