Thokbirim | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শুধু মানবিক নয়— প্রাকৃতিক পৃথিবীও চাই ।। ফারহা তানজীম তিতিল

প্রকাশিত : জুলাই ১৬, ২০২১, ১২:৫৬

শুধু মানবিক নয়— প্রাকৃতিক পৃথিবীও চাই ।। ফারহা তানজীম তিতিল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে আমার শিক্ষক আনু মুহাম্মদ একদিন ক্লাসে বলছিলেন, কম্পিউটরের এতো দাম, এতো তার যত্ন— মানুষের যত্ন এতো কম কেন? তখন কম্পিউটর রুমকে এসি করার একটা চল ছিল। জুতো পায়ে রুমটিতে প্রবেশে ছিল নিষেধাজ্ঞা। কম্পিউটর তো একটা ইলেকট্রনিক যন্ত্র, আর মানুষ সেটির নির্মাতা। মানুষের মতো সৃজনশীল প্রাণীর চেয়ে যন্ত্র কেন বেশি মূল্যবান হবে? এই আলোচনাটা হয়েছিল বছর কুড়ি আগে। কিছুকাল পরে বয়স বাড়ার সঙ্গেসঙ্গে যখন মানুষের মূঢ় নির্দয়তা দেখতে শুরু করলাম, তখন ভাবলাম মানুষের মতো নৃশংস প্রাণী আর হয় না। প্রিয় শিক্ষকের কথা নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। কম্পিউটার নিয়ে আনু স্যারের কথা একটা ব্যাজস্তুতি ছিল। তখনও আমাদের মতো পিছিয়ে থাকা দেশে কম্পিউটর ব্যবহার এমন সর্বব্যাপী হয়নি। মোবাইল ফোন তো আরো দুর্লভ বস্তু। মূলত ছাপাছাপির কাজেই ছিল কম্পিউটরের ব্যবহার। লেটার প্রেসের সুন্দর বর্ণবিন্যাস, যা আমাদের কাছে এখন স্মৃতি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা কিছু, তা হটিয়ে দিয়ে কম্পিউটর আসতে লাগল। এখন তো প্রত্যেকের হাতে হাতে মোবাইল ফোন, ঘরে ঘরে ব্যবহৃত হচ্ছে কম্পিউটর। কম্পিউটর, ল্যাপটপ মধ্যবিত্ত পরিবারের নতুন প্রজন্মের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ডিভাইসে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোবাইল ফোনের সক্রিয় সংযোগ বা সিম সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ২০১৭ সালে সিম সংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ৭ লাখ। পরের বছর ২০১৮ সাল শেষে দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখে। এরপরের আর কোনো তথ্য আমার হাতে নেই এবং আমি যে কথাটি বলতে চাই, তার জন্য এত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া জরুরি নয়। কেবল চিত্রটা বোঝা দরকার আমাদের। কেউ কেউ একই ফোনসেটে একাধিক অপারেটরের সিম ব্যবহার করছেন। কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ১৩ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে, এমনটাই প্রতিষ্ঠিত জনশ্রুতি। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার, ফটোকপিয়ার, টেলিভিশন সেট, ভিসিডি-ডিভিডি প্লেয়ার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রেফ্রিজারেটর, নানা ধরনের ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক খেলনা, ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহারেও বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। দেশে আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার এতটাই বেড়েছে যে আমরা উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছি ভেবে আহ্লাদিত হই অনেকেই।
এই উন্নয়নের উল্টো পিঠও আছে। সব ধরনের ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেগুলো যে বর্জ্য পদার্থে পরিণত হয় এবং সেসব বর্জ্য যে পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনছে— সেটা আমরা ভাবছি কম। কিন্তু ভাবা জরুরি। আমরা মানুষেরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে শুরু করেছি যে কম দিন যায়নি তো, ওই সব ফোনসেটগুলোর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রতিবছরই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পরিত্যক্ত মুঠোফোনগুলো বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে এবং এই সব বর্জ্যেরও যে ব্যবস্থাপনা দরকার, অনেকেরই তা জানা নেই। এমন কী ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) কথাটাই এ দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে অজানা রয়ে গেছে। এটা যে কত বড় বিপদের কথা, তা অনুধাবন করা দরকার। বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বা ই-বর্জ্য তৈরির প্রধান পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন সেট, কম্পিউটর ও ল্যাপটপ। এই সব পণ্যের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পুরানো কম্পিউটর ফেরত নেওয়া বা রি-সাইকেল করার জন্য কোন নিয়মনীতির বাধ্যবাধকতায় পড়ে কিনা জানা নেই। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) বরাত দিয়ে লন্ডনের ‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকা ২০১৭ সালের মে মাসে এক প্রতিবেদনে লিখেছিল, ‘২০১৪ সালে পৃথিবীতে মোট উৎপাদিত ইলেট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ২ লাখ মেট্রিক টন। এর সিংহভাগ উৎপন্ন হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোতে, কিন্তু ৯০ শতাংশই রপ্তানি বা ‘ডাম্প’ করা হয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংগঠন গ্রিনপিস লিখেছে, উন্নত দেশগুলো তাদের উৎপাদিত ই-বর্জ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রপ্তানি করে আসছে এক দশকেরও বেশি সময় আগে থেকে। ব্যবহৃত বা সেকেন্ডহ্যান্ড কম্পিউটার, মুঠোফোন ইত্যাদি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি তারা এশিয়া ও আফ্রিকার অপেক্ষাকৃত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রপ্তানি বা পাচার করার মাধ্যমে সেগুলো নিষ্কাশনের উপায় খোঁজে।


আনু স্যারের কথাতেই ফিরি, স্যার প্রশ্ন করেছিলেন, ‘মানুষের যত্ন এতো কম কেন?’ এখন জানি কিছু মানুষ অন্যকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে হলেও নিজে বর্ণাঢ্য জীবন যাপন করতে চায়। মানুষ তো সেই প্রাণী, যারা বিলাসব্যসন ভালবাসে। মানুষের আকাঙ্ক্ষার কাছে প্রকৃতি অসহায় হয়ে পড়ে মাঝেমাঝে। শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিতে এলো ব্যাপক পরিবর্তন। যন্ত্রকৌশলের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে মানুষেরা আরো ভোগপ্রবণ হয়ে পড়ল। যন্ত্রের আবিষ্কার মানুষের জীবনকে কিছুটা সহজ করে দিল। আঠারো শতকে মৃত্যুহার কমে যাবার ফলে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। শিল্প বিপ্লবের সূতিকাগার ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসেই ১৮০০ সাল থেকে ১৮৫০ সালে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়। উন্নয়নের বিস্তারের সঙ্গেই ঘটল জনসংখ্যার বিস্তার। পরে অবশ্য উন্নত দেশগুলোতে জন্মহার এবং মৃত্যুহার প্রায় সমান হয়ে পড়ে। যদিও অনুন্নত দেশগুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধি মোটের ওপর অব্যাহত থাকল। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ১৬০০ সালে ছিল প্রায় ৫০ কোটি। আর ২০০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটি। দ্রুত মানুষ বেড়ে যাবার ফলে তাদের জন্য শুধু খাবার নয়, দরকার পড়ল অন্যান্য সব ধরণের ভোগ্য উপকরণ। শুধু মানুষের সংখ্যা বাড়ল তাই নয়, মানুষের জীবনযাত্রার ধরণে এতো বেশি ভোগপ্রবণতা এলো যে, উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলো অনেক। এই উৎপাদন আবার খুব একটা সমভাবে বিতরণ করা হলো না। উৎপাদন এবং অসম ভোগ বাড়ল একসঙ্গে।
উৎপাদন বৃদ্ধির পক্ষে উন্নয়ন সমর্থিত তত্ত্বগুলোর জন্ম হতে থাকল। এগুলো প্রধানত সমাজতান্ত্রিক ধারার বিপরীতে প্রবৃদ্ধিবাদী অ্যাপ্রোচের প্রস্তাব করা হলো এসব তত্ত্বে। অনেক উৎপাদন আর অনেক ভোগকে মানুষের সামনে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হলো। মানুষ উৎপাদনমুখী এবং চিন্তাবিমুখ হতে থাকল। অল্প লোক বেশি ভোগ করল, বেশি লোক বঞ্চিত হলো এবং বেশি ভোগ করার স্বপ্ন দেখল। সবাই কেবল সুখ চাইল। সবার সুখের জন্য তারা কারখানা বানালো। যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ালো। প্রকৃতিবিমুখ উৎপাদন চলল অবিরত।
শিল্পবিপ্লবের পরের দুই শ’ বছর মূলত মানুষ নিজেদের সুখ ছাড়া কিছু ভাবল না। অলস, স্থবির মানুষেরা কেবল আরো চাই, আরো চাই করল। এর ফল দাঁড়াল যে, মানুষদের মধ্যে বস্তুগত সম্পদের ব্যবধান অনেক বেড়ে গেল। অন্য উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের নানা প্রজাতি দ্রুত বিলুপ্ত হতে শুরু করল। মানুষদের মধ্যে যারা আদি রীতিনীতি মানতে চেষ্টা করল, তারাও বিলুপ্ত হতে থাকল। প্রকৃতির জমানো হাজার বছরের সম্পদ দ্রুত শেষ হতে থাকল। তবু বেশিরভাগ মানুষ কেবল ভাবতে থাকল কি করে আরো একটু আরাম পাওয়া যায়। তার জন্য তারা গাছ কেটে নিল। নদীতে বাঁধ দিল। মাটিকে বিদীর্ণ করে বেশি ফসল ফলাতে শুরু করল বেশি উৎপাদনের আশায়।
আজ একুশ শতকে পৃথিবীতে ছয় ভাগের একভাগ মানুষ অভুক্ত থাকে। কিন্তু উন্নয়নের সুফলভোগীরা মানবিক পৃথিবীর কথা বলছে এখনো। বলছে না প্রাকৃতিক পৃথিবীর কথা। ভোগের বৈষম্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া কিন্তু বাস্তব জীবন কঠিন করেছে অধিকাংশের জন্য। এক শ’ কোটি মানুষের না খেয়ে থাকা, প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয় কিন্তু সাধারণের সুবিধা কমিয়েছে দ্রুত। বেশিরভাগ মানুষ বেঁচে থাকছে আনন্দহীন সংগ্রাম করে। সংগ্রাম মানব জীবনের আবশ্যক বিষয়। কিন্তু নিরানন্দের জন্য বৈষম্য এবং অতিশ্রম অবশ্যই দায়ী।
ভোগপ্রবণ মানুষের সমাজ প্রকৃতিতে এতো ময়লা জমিয়েছে যে, প্রকৃতি সহসাই তা গিলে নিতে পারছে না। তার বাতাস, মাটি, পানি সব আবর্জনাময়। তার সবুজ নিঃশেষিত। প্রকৃতির বিষোদগারে মানুষও আজ দিশেহারা। তারা যতটুকু ওষুধ খুঁজে বের করছে, তার চেয়ে অনেক বেশি অসুস্থ হচ্ছে। ম্যালথাস বলেছিলেন, মানুষের সংখ্যা খুব বেড়ে গেলে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে তার ভারসাম্য হবে। এখন তো বেঁচে থাকা মানুষেরা এক শ বছর বাঁচার শক্তি রাখে না। বেঁচে থাকতে অনেক খাবার, পোশাক, ওষুধ আর অস্ত্র লাগে। শুধু গাঁয়ের শক্তি আর প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে বেঁচে থাকা যায় না। টাকা খেয়ে বাঁচতে হয় মানুষকে। সারাজীবন তাই টাকা আয় করতে আর ব্যয় করতেই ফুরিয়ে যায়। এই বেঁচে থাকাকে কি প্রাণ পাওয়া বলা যায়?
লেখার শুরুতে শুধু বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক বর্জ্যের কথা উল্লেখ করেছি। উন্নত বিশ্ব আরো বেশি দ্রব্য ভোগ করতে অভ্যস্ত। দ্রব্য ভোগের পর শুধু আবর্জনা তৈরি হয় না। সবচেয়ে বেশি আবর্জনা তৈরি হয় পণ্য উৎপাদনের সময়ে। তাছাড়া, উৎপাদনের জন্য যে কাঁচামাল এবং জ্বালানি দরকার হয়, তাতে করে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো অনেক অনবায়নযোগ্য সম্পদ। বর্জ্য রিসাইকেল না হবার কারণে প্রকৃতির জল, বাতাস, মাটি, পানি এতো দূষিত হয়েছে যে, সেগুলো মানুষ এবং অন্য প্রাণীর বেঁচে থাকার পরিবেশকে অসহনীয় করে তুলেছে।
অনেক আগেই পৃথিবী নামের গ্রহটি বসবাস অনুপযোগী হয়েছে। তা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। বরং এখনো চলছে নদী, সাগর নষ্ট করার নানা প্রক্রিয়া। যন্ত্রবিপ্লব এবং শিল্পবিপ্লবের আনন্দের দিনে মানুষ অনেকটাই ভুলে গেল যে তাকে আসলে প্রকৃতির সঙ্গে সমঝোতা করেই বাঁচতে হবে। প্রকৃতির সুরক্ষা নিয়ে যখন মানুষ সজাগ হলো, তখনও দেখা গেল, উন্নয়নের লক্ষ্যগুলো সচরাচর প্রকৃতির স্বস্তির বিরোধী। আরেকটা অসুবিধা হলো, মূলধারার যে প্রচুর মানুষ এখন বেঁচে আছে, তারা প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের সূত্র প্রায় ভুলে গেছে। কারণ দু’ শ’ বছরের মধ্যে যে মানুষদের জন্ম, তারা পণ্যের সঙ্গেই বসবাস করেছে আসলে। পাপুয়া নিউগিনি, ফিজি, ইকুয়েডর, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো কিছু দেশ তাদের দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং আদিবাসী সংস্কৃতি বজায় রাখতে তৎপর হয়েছে। কারণ, এইসব মানুষেরা প্রকৃতি সংরক্ষণের নিয়ম জানেন। পানামার কুনা ইন্ডিয়ানদের মতে, ‘যেখানে বন আছে, সেখানে আদিবাসী আছে। যেখানে আদিবাসী আছে, সেখানে বন আছে।’



ফারহা তানজীম তিতিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আদিবাসীদের বন্ধু

ফারহা তানজীম তিতিল

।। ফারহা তানজীম তিতিল  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আদিবাসীদের বন্ধু




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost