Thokbirim | logo

৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আবিমা শালবনের মান্দিরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন তো?

প্রকাশিত : জুলাই ০৯, ২০২১, ১১:০৩

আবিমা শালবনের মান্দিরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন তো?

‘আমরা গারো মানুষ খারি আর চু খাই আমগরে করোনা ধরতো না’

‘চু হচ্ছে করোনার মলম’

‘একগ্লাস চু বিচ্চি খাইলে করোনা কই যাইবো…’

উপরের কথাগুলো আবিমার মান্দিদের কথা। সবার না তবে অনেকেরই মুখে শোনা যায়। যখনই করোনা ভাইরাসের কথা বলা হয়, সাবধান করার চেষ্টা করা হয় তখনই এই কথাগুলো শুনতে হয়। তাদের বিশ্বাস চু খেলে কিংবা খারি খেলে করোনা হয় না বা ধরে না। কিংবা ধরলেও সেরে যাবে। ফলে করোনাকে অবহেলা বা হেয় করার মানসিকতা লক্ষ্য করা যায়। পীরগাছার মোড়ে যান কিংবা টিয়া মাথার দোকানে যান এমন মানসিকতার লোকের দেখা মিলবে। তাদের কাছে করোনা হচ্ছে বড় লোকের রোগ, এসি, দামি গাড়িওয়ালাদের ধরে। যারা গরিব খেটে খায় তাদের ধরে না।

খুবই হাস্যকর হলেও এটাই সত্যি এবং গ্রামের মানুষজনের কাছে এটাই বাস্তব বলে বদ্ধমূল ধারণা।

এরফলে সর্দিকাশি জ্বরকে সাধারন জ্বর ভেবে উড়িয়ে দেবার মানসিকতাও তৈরি হয়ে গেছে। যেটা আক্রান্ত পরিবারের জন্যে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দ্রুত সংক্রামিত হবার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

আলোকিত মধুপুর পেজ-র মাধ্যমে জানা যায়, ‘আজকে মধুপুর হাসপাতালে করোনা টেস্ট করাতে গিয়ে যেই পরিস্থিতি দেখেছি,এভাবে চলতে থাকলে মধুপুরে করোনা অতি দ্রুতই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। নমুনা সংগ্রহ করার পর রেপিড এন্টিজেন টেস্ট এর ফলাফল পেতে রোগীদের বাইরে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলা হয়।কিন্তু আমরা এই ১-২ ঘন্টা অপেক্ষা করতে অপারগ! কাউকে দেখলাম নমুনা দিয়ে বাইরে গিয়ে চা,পান, বিড়ি খেয়ে আসছে।আর কিছুক্ষণ পরের রিপোর্ট পজিটিভ! আবার রিপোর্ট পজিটিভ হওয়া রোগিদের অনেকে কোন ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই চলে যাচ্ছেন। করোনা পজিটিভ হওয়ার পর যদি নির্দিষ্ট কোন ব্যবস্থাপনায় বাড়িতে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হতো তাহলে অনেক ভালো হতো।কেননা পজিটিভ হওয়া রোগীরা পাবলিক অটোতে আরো যাত্রীদের সাথে মিশে যাচ্ছে।এভাবে পজিটিভ হওয়া ও আশংকা থাকা রোগীরা যদি অবাধে চলাফেরা করেন তাহলে অচিরেই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এমনিতেই ডাক্তাররা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আরেকটা বিষয় মনে কষ্ট লাগলো,দেখলাম ২-৩ জন বয়স্ক লোক আসছেন যাদের সাথে কোন লোক আসেন নাই। করোনা পজিটিভ আসার খবরে তারা খুবই হতাশায় ভোগছেন।’

এই চিত্রটি পাল্টে যেতে কতক্ষণ? যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানি? মাস্ক না পরি? সাবান জলে হাত পরিস্কার না করি? আসুন আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানি আমরা নিজেকে করোনা থেকে বাঁচাই অন্যদেরকেও বাঁচাই।

চু বিচ্চি  কিংবা খারি খেলে করোনা হবে না বা ধরবে না এই ধারণা থেকে সরে আসি। প্রয়োজন ছাড়া বাজার বা দোকানে না যাই, জটলা না করি, একই চায়ের কাপে ঘুরে ঘুরে চা না পান করি। দেখবেন আপনি এবং আপনার চারপাশ ঠিকই করোনা থেকে বেঁচে উঠবে। আমরা আবার আগের মতো সবাই একসাথে বসে আড্ডা দিতে পারবো, চু খেতে পারবো, চা খেতে পারবো, মিলন হবে, উৎসব হবে। কিন্তু সেই সময়ের জন্য, সেই পরিবেশের জন্য আমাদের সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে অপেক্ষা করতে হবে!

সবার মঙ্গল হোক!

।। জাডিল মৃ, মধুপুর।

# ছবি : থকবিরিম



 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost