Thokbirim | logo

৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মন্থর গতিতে কাজ চললে কামারখালি রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে ।। নীলু রুরাম

প্রকাশিত : জুন ০৫, ২০২১, ১১:৩৫

মন্থর গতিতে কাজ চললে কামারখালি রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে ।। নীলু রুরাম

এই সেই কর্ম প্রচেষ্টা ও বিভিন্ন সহমর্মী সংগঠন ও এনজিও যারা স্বতস্ফুর্তভাবে কামারখালি, বড়ইকান্দি ও বহেরাতুলি এলাকার নদীপাড় ভাঙনরোধে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছিল। নিজের বসতভিটা রক্ষার্থে এ এলাকার জনগণ নদীরপাড়ে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক ও দুর্গাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার আগমনে মানববন্ধন করেছিল।
লিখেছে,
“নদী শাসনের ব্যবস্থা হোক।
জরুরিভিত্তিতে নদী ভাঙনরোধে ব্যবস্থা করুন।
আামাদের কথা দিয়ে যান, আমরা মা-বাবার ভিটায় বড় হতে চাই।
We want to live here.”
প্রাথমিকভাবে কামারখালি যুবশক্তি স্বপ্রণোদিতভাবে নিজেদের বসতভিটা রক্ষার্থে সাময়িকভাবে রোধ করার জন্যে আশেপাশের গ্রামগুলো থেকে বাঁশ সংগ্রহ করা শুরু করে।
যুবশক্তির এ হেন কর্মোদ্যোগ দেখে তাদের সতীর্থ যুবকযুবতীরা কামারখালি গ্রামবাসীদের এমন মহা সংকটে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে এগিয়ে আসে।কামারখালিতে গঠিত হয় “কামারখালি সোমেশ্বরী নদীভাঙন প্রতিরোধ কমিটি।” স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচি ২০২০ খ্রি.।
এরপরের ইতিহাস চলমান থাকে বিভিন্ন সহমর্মী দাতাদের প্রেরিত আর্থিক অনুদান ও প্লাস্টিক বস্তা দিয়ে বালু ভর্তি করে কবলিত ঘাটগুলোতে ভাঙগন রোধের স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচি।
অন্যদিকে যুবশক্তির সদস্যরা তাদের স্বতীর্থ ছাত্রছাত্রী বন্ধুদের সাথে মিডিয়ায় শেয়ারিং ও আপডেট কার্যক্রম চলমান রাখে।
হিলারিয়াস গচি রিছিল এ কাজে মিডিয়াতে সরব থাকে করোনা কোভিড- ১৯ কালিন বিগত বছরের মার্চ মাস (২০২০) থেকে।
মিডিয়ার বদৌলতে সহমর্মী সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচিতে।
নিজস্ব তদারকি আছে কিনা প্রশ্নে জানাল যে, কমিটির সদস্যগণ ও যুবশক্তির সদস্যরা কার্যক্রমটি দিনকে দিন মনিটরিং ও তদারকি করছে।
পরিতাপের বিষয় কার্যক্রম শুরু হওয়ার মুহূর্তে পর্যোপরি বৃষ্টির দরুণ নদীতে ঢল নামে। বস্তাগুলে নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। চলমান কার্যক্রমে ব্যাহত হয়।
মিডিয়ায় কমিটির পক্ষে আরো প্রতিদিনের আপডেট দিতে থাকে দীলিপ সরকার, তুষি রেমা, মো: শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
উপজেলা প্রশাসনিক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সর্বদা আপডেট জানিয়ে যোগাযোগ রাখেন তুষি রেমা। সরকারি কর্মকর্তার সাথে কমিটির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন।
কামারখালি গ্রামবাসীদের এ হেন কর্মসূচি ব্যাপকভাবে দেশে ও দেশের বাইরে বহুল প্রচার অব্যাহত থাকে। সরকারি পর্যায়েও এ কর্মসূচি নিয়ে এক ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচিব পর্যায় কর্মকর্তা এলাকার দুর্দশা দেখার জন্যে পরিদর্শনে আসেন। আশ্বাস দিয়ে যান যে সরকার সমস্যাটি বিষয়ে ওয়াকিবহাল আছেন।সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে হালে সরকারি কার্যক্রম চালু হয়েছে কামারখালি ভূমি অফিসের দক্ষিণে, বড়ইকান্দি ও ফারাংপাড়ার উত্তরে বটগাছ থেকে।  যুবশক্তির অন্যতম ছাত্র নেতা হিলারিয়াস গুচি রিছিলের সাথে আলাপচারিতায় বর্তমান কীভাবে কাজ চলছে জানতে চেয়েছিলাম। সে জানাল,
“দুই ধাপ বালু বস্তা দিয়ে উপরের ধাপে সিমেন্ট বালু মিক্স করে দিবে।
আর নিচের টা তিনটি লেয়ার এ কাজ হবে।
সে আরো জানাল, প্রকৌশলী এমএল সৈকত স্যারের আন্ডারে কাজ চলছে
নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।”
বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে যুবশক্তি ও এলাকার কী অভিমত জানতে চাইলে জানা গেল,
“আমাদের অভিমত হচ্ছে, দ্রুত কাজ শেষ করলে আশংকা মুক্ত হব।
মন্থর গতিতে কাজ চললে এই বর্ষায় কামারখালি গ্রাম রক্ষা করা নাও যেতে পারে।”
কোন জায়গায় ফাটল ধরেছে কিনা প্রশ্নে জানাল,
“না আপাতত ভাঙন নেই।
তবে তুসি রেমার ঘাটের দক্ষিণ পাশে ফাটল দেখা দিয়েছে।”
কাজের তরান্বিত করতে ও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান দেবার জন্যে যুবশক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে
মতবিনিময় করার জন্যে তাদের নিজেদের মধ্যে আলাপআলোচনা করছে।

“ইতিমধ্যে কামারখালি যুবশক্তি কাজের গতি কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয় নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলার জন্যে একটি মিটিং ও করেছে। খুব শিগগির দেখা করতে যাবে।”

ছবি সংগৃহীত






সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost