Thokbirim | logo

৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

এখনও “কোদাল মারা কমিটি” সক্রিয় ।। আবিমা মারাক

প্রকাশিত : জুন ০৩, ২০২১, ১৭:৫৯

এখনও “কোদাল মারা কমিটি” সক্রিয় ।। আবিমা মারাক

কোদাল মারা কমিটি যে এখনো প্রচুর সক্রিয় তা বেসরকারি নিউজ চ্যানেল বিডিনিউজ২৪.কম এর ইন্টারভিউ’র মাধ্যমে জানতে পারলাম। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেছেন,”সেখানে যে গারো সাংসারেক ধর্মের মাংরুদাম (শশ্মান) আছে, তা তিনি জানেন না। আরো বলেছেন যে, মিথ্যেকে প্রতিষ্ঠিত করতেই নাকি স্মৃতিফলক (খিম্মা) স্থাপন করা হয়েছে। তা একেবারেই ঠিক না”। একজন গারো জনগোষ্ঠীর সচেতন ব্যক্তি হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের সভাপতি হিসেবে এমন মন্তব্য আশা করিনি। তিনি নাও জানতে পারেন সেখানে গারোদের মাংরুদাম আছে বা থাকতে পারে। কারণ সবার সব কিছু জানতে হবে এমনও নয়। কিন্তু তিনি এটা তো জানেন এই এলাকাতে গারো আদিবাসীদের বসবাস যুগযুগ ধরে, বংশপরম্পরায়। আর এটাও তিনি জানেন এক সময় সাংসারেক মান্দিরা বাড়ি থেকে দূরেই মাংরুদাম তৈরি করতেন, মৃতশব পোড়াতেন। বাড়ি থেকে বেশ দূরেই হতো সেইসব মাংরুদাম। বর্তমান যেখান থেকে দেয়াল শুরু হয়েছে সেই জায়গা কি মান্দি গ্রাম থেকে কয়েক মাইল দূরে বা বাইরে? আদিবাসীরা যে জায়গাজুড়ে বসবাস করে যে জায়গা পযর্ন্ত তাদের হাঁসমুরগি গরু চড়ে যে জায়গাজুড়ে কবরস্থান বা মাংরুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেই জায়গা কোনো দিনও খাস কিংবা বেওয়ারিস নয়। সেই জায়টা আদিবাসীদেরই। এই বিষয়টা নিশ্চয়ই সভাপতি সাহেব ভালো করেই জানেন।

তিনি কি ভুলে গেছেন অতীতে উচ্ছেদ হওয়া গারো পরিবারের কথা? যে পরিবারগুলো ছিলো বর্তমান বিমান ফায়ারিং স্টেশনের ভেতর! তবে এটা মানতে কষ্ট হয় যে, তিনি বা তাঁর সহচর জানেন না এই বিষয়টি। হয়তো চিকন কোনো স্বার্থে সেখানে মাংরুদাম আছে জানা সত্ত্বেও মিথ্যে বলা এবং সত্য কথাকে মিথ্যে পরিণত করার যে অপপ্রচেষ্টা সেটাও হতে পারে। এই যে ভিডিও ভাইরাল হয়ে জনে জনে ঘুরছে, নানা কথা উঠছে,  সভাপতি সাহেব কি এড়িয়ে যেতে পারবেন এই বিষয়টি? সবার ওয়ালে ওয়ালে তাদের নিয়ে জনসাধারণের  যে ক্ষোভ প্রকাশ হচ্ছে, বিরূপ মন্তব্য লেখা হচ্ছে সেটি কীভাবে এড়িয়ে যাবেন?

অনেক নিউজ পোর্টালে বন কর্মকর্তারা বলেছেন যে, আদিবাসী নেতৃবৃন্দই কাজের উদ্বোধন করেছেন। তাতে বাঁধা দেওয়ার কোন কারণ থাকতে পারে না। তাদের সম্মতিতেই কাজ চলমান। এই যে মাতৃ সংগঠনের সভাপতি-সাংগঠনিক সম্পাদকের দুমুখো আচরণ এবং সত্যকে আড়াল করে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার যে পাঁয়তারা সেই হিসাব কি জনসাধারণ নিবে না?। তিনি যে  নির্দেশন সৃষ্টি করলেন, জাতি কি কোনদিন ক্ষমা করবে?

কোদাল মারা কমিটি’র কার্যক্রম দেখে সুশীল মুরব্বিগণ যে চুপ আছেন তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাহলে গারো জাতির সুশীল সমাজও কি নীরবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন? প্রশ্ন ঘুরছে মাথায়।

মান্দি সমাজের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রবীণ চিসিম এর গাছাড়া বক্তব্যর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। মনে রাখতে হবে, আদিবাসীরাই তাদেরকে পদ দিয়েছে, আবার আদিবাসীরাই তাদের পদ কেড়ে নিতে পারে শুধু সময়ের অপেক্ষা।


 


 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost