Thokbirim | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়নের প্রতিবাদে গারো আদিবাসীদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : মে ৩০, ২০২১, ১৬:৪৯

ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়নের প্রতিবাদে গারো আদিবাসীদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

রবিবার (৩০ মে ২০২১) টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় টেলকী বাজারে সকাল ১১ টার দিকে গারো আদিবাসীদের ভূমি ও কবরস্থানের উপর ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়নের নামে গাছ কেটে গেস্ট হাউজ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল আয়োজন করেছে ‘মধুপুরের বিক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতা’।

ছাত্রনেতা লিয়াং রিছিলের সঞ্চালনায় ও বাগাছাস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জন জেত্রার সভাপতিত্বে উক্ত সমাবেশে  বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলীক মৃ, জিএসএফের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রলয় নকনেক, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সদস্য গৌতম কর ও নারী নেত্রী লিজা নকরেক, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই ও আজিয়া’র সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মানকিন প্রমুখ।

লিয়াং রিছিল তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরেও মধুপুর গড়াঞ্চলের আদিবাসীদের ভূমির মালিকানা ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। উপরন্তু বিভিন্ন সরকারের সময় জাতীয় উদ্যান, ইকোপার্ক, ইকো ট্যুরিজম, ফায়ারিং রেঞ্জ ও সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণার নামে আদিবাসীদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদের নীল নকশা করেছে।

বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান বলেন, টাঙ্গাইল বন বিভাগ বন বিভাগ গায়ের জোরে এই প্রকল্পটির স্থাপনা নির্মাণ করছে। এভাবে প্রকল্পের নামে যদি বনবিভাগ আদিবাসী উচ্ছেদ বন্ধ না করে তাহলে আগামী দিনে আদিবাসী ছাত্র-যুব-জনতার স্রোত সে প্রকল্প রোধ করতে বদ্ধ পরিকর হবে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলীক মৃ বলেন,  বন বিভাগ বন রক্ষার বদলে প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে যে কৃত্রিম বন সৃজন করছে তা ভালো হবে না। এভাবে যদি প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করা হয় তাহলে ভারতের নাগরিকদের মত একদিন অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, বন বিভাগ যেভাবে আদিবাসীদের বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা বন মামলা দেয়া হয়েছে অবিলম্বে এসব মিথ্যা বন মামলা প্রত্যাহারসহ টেলকীর প্রাচীন শশ্মান ভূমিতে প্রাচীর ও প্রকল্পের অন্যান্য স্থাপনা বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামায় বলেন, আজকে পাহাড় কিংবা সমতলে সরকার উন্নয়নের নামে যে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তা আসলে আদিবাসী উচ্ছেদের জন্য। গাইবান্ধার সান্তাল পল্লি, বান্দরবানের ম্রো আদিবাসী এবং কুলাউরার খাসিয়া আদিবাসী কেউ সরকারের এই উন্নয়নে ভালো নেই।

আজিয়া’র সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মানখিন বনবিভাগের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিষয়ে  প্রশ্ন রাখেন, গজারি গাছ কেটে আনারসের বাগান করা হচ্ছে। সেখানে কী বন গবেষণা করা হচ্ছে নাকি আনারস বা কলা’র গবেষণা চলছে? তিনি আরো জানতে চান, বনবিভাগের নানা প্রকল্পে কেন দেয়াল তৈরি করা হয় তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে!

সভাপতির বক্তব্যে জন জেত্রা বলেন, শশ্মান আদিবাসীদের জন্য পবিত্র স্থান। এই স্থানে বনবিভাগ গায়ের জোর দেখিয়ে যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে তাহলে মধুপুরের আদিবাসী ছাত্র-যুবরা বসে থাকবে না। এছাড়া প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে যদি কৃত্রিম বন সৃজন করতে চান, তাহলে আদিবাসীরা অতীতে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে তেমনি আগামীতেও রুখে দাঁড়াবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন তিনি।

উক্ত সমাবেশ থেকে সাত দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়। এই সাত দিনের মধ্যে যদি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা না হয়, তবে মধুপুরের আদিবাসী ছাত্র-যুব-জনতা আরো কঠোর কর্মসূচি হাতে নেবে বলে হুশিয়ারী দেন করেন তারা। সমাবেশ শেষে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে একটি মিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ছবি জাডিল মৃ।

।। জাডিল মৃ, মধুপুর।



 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost