Thokbirim | logo

৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিদীর্ণ সময়ের দলিল মতেন্দ্র মানখিনের ‘ধূর্তছায়া নষ্টকাল’

প্রকাশিত : মে ১৪, ২০২১, ১২:৪৪

বিদীর্ণ সময়ের দলিল মতেন্দ্র মানখিনের ‘ধূর্তছায়া নষ্টকাল’

অনেকেই কবি মতেন্দ্র মানখিনকে গারোদের কবিগুরু বলেন আবার অনেকেই প্রধান কবি বলেন আবার  কেউ কেউ কবি গুরু কিংবা প্রধান কবি মানতে নারাজ। এই নিয়ে নানাজনের নানা মত। কিন্তু সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন যে কবি মতেন্দ্র মানখিন একজন কবি। কবিতার জন্য জীবন সঁপে দিয়েছেন। কবিতা নিয়ে জীবনটা যাপন করেন নিজের বানানো ছায়কানন’ বাড়িতে।  লিখেছেন কালজয়ী গান ‘ বাঙআ জাবুচিম…’ যে গানটি প্রত্যেক গারোদের মুখে মুখে প্রচারিত। সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন গানের মাহাত্য। কবি দীর্ঘদিন ধরে কবিতা লিখলেও প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে। কাব্যগ্রন্থের নাম ‘পাথর চাপা ফুল’। দীর্ঘদিন ধরে কবিতা লিখলেও নানা কারণেই গ্রন্থকারে প্রকাশ করা হয়ে ওঠেনি।  তবে প্রথম কাব্য প্রকাশের পর থেকে প্রতিবছরই কবিতার বই প্রকাশ করছেন তিনি! ২০২১ সালে সর্বশেষ কবিতার বই ‘ কবিতার ময়ূর নৃত্য’ প্রকাশিত হয়েছে থকবিরিম প্রকাশনী থেকে।

‘ধূর্তছায়া নষ্টকাল’ কাব্যটি প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালের অমর একুশে বইমেলায়। প্রকাশ করেন গারো সাহিত্যের কাগজ থকবিরিম সাহিত্যপত্র  ও প্রকাশনী। ‘ধূর্তছায়া নষ্টকাল’ কাব্যগ্রন্থটি পাঠে আপনি বর্তমান সময়কে যেমন আন্দাজ করতে পারবেন তেমনি আপনি চলে যাবেন গারোদের অতীত ইতিহাসে। কবি যেমন বর্তমান সময়ের ক্ষতটাকে কবিতার মাধ্যমে নিপুনভাবে উপস্থাপন করেছেন,  যেতমনি নিজস্ব স্কৃতির হারানো ঐতিহ্যকেও হাতড়ে বেড়িয়েছেন।  বর্তমান সময়ে যাপিত জীবনের চিত্র কবি হৃদয়কে যেমন বিদীর্ণ করে তেমনি আর্তনাদের সুর ভেসে ওঠে কবির কবিতায়। কবি লিখেন-

অসম্ভবের পায়ে কুড়াল মারা

(সম্প্রতি খুন হওয়া সুজতা চিরান ও তার মা’র  স্মরণে)

সরলতা জীবনে এত পাপ, এত অভিশাপ

প্রায়শ্চিতেও গেলনা

কী ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর! মা – মেয়ে খুন হ’ল

আত্মীয় ঘাতক, নৃশংস খুনী, দুর্বৃত্তের দল

নিন্দা প্রকাশের ভাষা নেই, এতো একেবারে

অসম্ভবের পায়ে কুড়াল মারা!

সরল অংক খুব জটিল হয়ে গেল

কোনভাবে মেলাতে পারছিনা

এ কোন দুষ্কৃতিকারী  হায়েনার দল

রিরংসার দানব? বিশ্বাস করতে পারছিনা

ছি-ছি ! এত বিশ্রী, এত জঘন্য, এত জিঘাংসা!

এত ত্যাগ-সাধনায় কার জন্য, সাজাবো

কবিতার বাগান? বিষ্ঠা শুঁকে ঘুরে বেড়ায়

ধুরন্ধর কুকুর! এত নরাধম,এত কুৎসিত!

হে কালাচাঁদ, দ্বাপর যুগে তুমি দ্রৌপদীর

লজ্জা নিবারণ করেছিলে। আজ উত্তর-

আধুনিক যুগে জাতির এ লজ্জা আমরা

কী-দিয়ে নিবারণ করি…..?

কবি ফিরে যান অতীত ইতিহাসে তুলে আনেন যুগিসিলচির কাহিনি।

‘প্রাগৈতিহাসিক কিংবদন্তী তোমার দ্রৌপদীরূপ

রূপের মহিমা গারো মেয়ে যুগীসিলচি

তোমার অঙ্গে শতশিল্প সঙ্গীত- চারুকারু

পাহাড় অরণ্য শিরে দীপ্তিময় শিখা।’ (যুগীসিলচি)

কবি প্রমোদ মানকিনের স্মৃতি বয়ে বেড়ান পুরো দেশজুড়ে পুরো শরীর জুড়ে বয়ে বেড়ান উনার স্মৃতি স্বীকার করেন প্রমোদ মানকিনের কীর্তির কথা। যখন যতদূর যেখানে যাই ‘ কবিতায় তিনি বলেন-

‘যখন যতদূর যেখানে যাই সেখানেই প্রমোদ মানকিন

একাকীত্ব, দূর্গম পথ চলায় বিমূর্ত ছায়াসঙ্গী

নিস্ফল প্রাণ, পৌরাণিক বিষন্নতা মুছে দেয়

জলতরঙ্গের সুর পরম্পরাগত লোকায়ত জীবন ধারা

…………………

সামাজিক দায়বদ্ধতায় কাছে এসে বসে থাকেন তিনি

মূহুর্তের পর মূর্হুত যুগসন্ধিকালে অভ্যস্থ নির্ভর

ব্যর্থ জীবনের আশার স্বপ্ন হয়ে

পাহাড়-অরণ্য-সমতল বিস্তৃত গাঙ্গেয় বদ্বীপ জুড়ে

কী অদ্ভুদ উৎসারণ তার!

………….

তিনি কোনো কবি নন, ছন্দমালা গাঁথেননি কোনোদিন

অতীব সত্য,তবু তিনি কবি, বঞ্চিত সমাজের

তার কথার মাধুরীতে চাঁদ হাসে, পাহাড় অরণ্য জনপথ

নেচে ওঠে ঝর্ণাধারা অসীম রহস্যে

মরা নদীতে জোয়ার আসে জেগে ওঠে কবিতা ও দেবতা।

পাহাড় পাদদেশ থেকে  সুদূর ঢাকা নগরী এ বাংলাদেশ

কংশ নিতাই, সোমেশ^রী থেকে পদ্মা মেঘনা যমুনা

ব্যপ্ত কুয়াশার মধ্যে কেমন বিপন্ন, শোকাচ্ছন্ন আজ

শূণ্যঘরে নিষ্ফল, নিঃস্বতার আগুনে পুড়ে যায় সময়

তবু শুনি তার এগিয়ে চলার মন্ত্র মানবতার জয়গান

সঞ্জীবিত করে প্রিতিনিয়ত স্থবির এ জীবনটাকে।’

কবির হৃদয় বড় কোমল বড় কঠিন! সত্য উচ্চারিত হয় উদ্ভাসিত সূর্যালোকের  মতোই! কবি তাঁর অগ্রজ লেখকদের সম্মান জানাতে এতোটুকু কুণ্ঠাবোধ করেননি। পণ্ডিতজন রেভা. মণীনদ্রনাথ মারাক কিংবা সুভাষ জেংচামের জন্মদিনকে কেন্দ্রে করে লিখেছেন কবিতা।

কবির হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে যায় আগস্ট আসলেই। কবির হৃদয় দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে যখন তিনি মনে করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কথা। তিনি লেখেন-

‘বহমান নদী-স্তব্ধ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে

হাহাকার ওঠে বাংলার আকাশে বাতাসে

শোকের শ্রাবণে কাঁদে জননী জন্মভূমি

হে পিত: তোমার ত্যাগ, ভালবাসা ভুলি নাই।’ ( শোকের আগস্ট)

গ্রন্থে ৬৪টি কবিতা আছে।  কবি মতেন্দ্র মানখিনকে চিনতে হলে উনার লেখাকে চিনতে হলে আপনাকে উনার এই বইটি পড়তেই হবে। আর তবেই আপনি কবি মতেন্দ্র মানখিনের কবিত্বশক্তি নিয়ে আলোচনা তর্ক করতে পারবেন।তাই সবাইকে কবির কবিতা পাঠের আমন্ত্রন জানাই।

বই : ধূর্তছায়া নষ্টকাল, প্রচ্ছদ : সৌল হাচ্চা প্রকাশক : থকবিরিম, মূল্য ২০০টাকা।

।।  যুগি সাংমা


প্রমোদ মানকিন স্মরণে কবি মতেন্দ্র মানখিনের কবিতা

করোনায় পাহাড়ি আদিবাসীদের সংকটময় জীবন যাপন

করোনায় কেমন যাচ্ছে আদিবাসীদের জীবন 

করোনাকালীন তিনটি কবিতা ।। মতেন্দ্র মানখিন

একজন ভালো মনের মানুষ ব্রাদার গিয়োম ।।  কিউবার্ট রেমা



https://www.youtube.com/watch?v=eUFX7tTvm0U&t=24s



মধুপুর জলছত্রে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

ttps://www.youtube.com/watch?v=WtVe7pOQaQ8&t=182s

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost