Thokbirim | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

করোনাকালীন পঙক্তিমালা ।। কেনুস সম্রাট ম্রং

প্রকাশিত : এপ্রিল ২২, ২০২১, ১২:৩৩

করোনাকালীন পঙক্তিমালা ।। কেনুস সম্রাট ম্রং

লকডাউন এ নোটডাউন

যদি বেঁচে যাই,

আলগোছে এড়ায়ে শত সহস্র করোনার হাত

দেখা হবে বিজয়ে;

নতুবা জানোতো এ যুদ্ধে কুপোকাত

কোনো সৈনিক- যার আত্ম-কথাও বেমালুম গায়েবী হয় ইথারে।

কোনো শুভাকাঙ্খী জন, প্রিয়জন,স্নেহ শীতল হাত

শত যোজন দূর; সুদূর আকাশে যেনো দূরতম অধরা  চাঁদ!

জীবন মানে সংগ্রাম জানি,

কিন্তু এ কোন অলক্ষণে সময়!

এ কোন অপাংক্তেয় শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে- কাতরানো

শূন্যের দূর্গ ভাঙার মিছে করাঘাতে

নিজ শক্তির ভারে মুখ থুবরে পড়া এ কোন মানব সভ্যতা ?

কোনদিকে যাই, কার কাছে?

খাঁচাবদ্ধপক্ষাঘাত পৃথিবী-গোলক;

নদী নিরাপদ নয়, প্রবাহমান সুশীতল বাতাস,

সুনিদ্রা আনয়নে নিজস্ব আবাস।

মানবের পাশে মানবের দাঁড়ানো শিষ্টাচার এখন নয়,

হাতে হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র ভীত্তিহীন এখন, ভয়!

হস্ত প্রক্ষালনে দায়মুক্ত হয় দুর্মতি পিলাত:

আমাদের এত্তো দায়ভার কীসের–পিত?

মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হওয়ার আগেই আরেকটি কফিন,

এ বিশ্বকে ফিরিয়ে দাও তার পূর্বের সে সুদিন,

এ আলো, বাতাস ,জল, মৃত্তিকা ,ফুল-ফল,

শত্রুমুক্ত হোক এ বিশ্ব, বিষমুক্ত-নির্মল, নির্ভয়-ধরাতল।

করোনার বিবিধ পংক্তিমালা

একি অবিমিশ্র শান্তি, অনির্ণিত সুখ!

আর কেন হৃদয় মন সভয়ে শঙ্কিত (?)

ওহো! সবকিছু হয়ে গেছে মুক্ত।

কোয়ারেন্টাইন বাস; রুদ্ধশ্বাস- পন্ড

হাট- বাজার,দোকান-পাট খোলা; পেলো ছন্দ।

অলিতে গলিতে,ভূঁতুড়ে সিঁড়িতে

চিরায়ত লোকারণ্যের আপ ডাউন।

পাড়া আর মহল্লাতে,জেলা থেকে বিভাগে

নিরাসক্ত,পর্যুদস্ত লকডাউন।

ঢাকামূখী ঘুরে গেছে জনতার স্রোতে,

‘ছেড়ে দে মা কেন্দে বাঁচি’-র অবস্থায় যেনো করোনা-ভূত।

সামাজিক দূরত্ব, দাঁড়ায় যে যার মতো,

তিন ফিট্, দুই ফিট্ – গা ঘেঁষেই মূলত।

কে কার আগে রবে, বাঁচলে ত্রাণ নিতেই হবে,

জুতা ,স্যান্ডেল পাহারাতেগোল দাগ চিহ্নিত।

“ লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করেই বাঁচতে চাই।”

প্রতিপক্ষ হোক দৃশ্য বা অদৃশ্য।

মনে আশা,বুকে বল-তবুও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চল,

অর্থনীতির চাকাও সচল করতে হবে অবশ্য!

হে সংগ্রামী জাতি, হে বীর কর্মযোদ্ধাগণ,

তোমাদের ত্যাগে ও পূণ্যে সোনার বাংলার এ গ্রহদোষ কেটে যাবে খন।

 

ঢাকা সমাচার-১

এ শহর তোর ছাড়তে হবে ভাই

এখানে নেই কৃষি জমি , নদী -নালাও নাই।

কর্মস্থলে ঝুলছে তালা,বস্ লাপাত্তা হায়!

বাড়িওয়ালার ভাড়া মিটায়;তাতে কোন ছাড় নাই।

সকাল বিকাল রাঁধো বাড়ো- খাচ্ছো রাজার হালে,

ব্যবসা পাতি , অফিস ডিউটি রাখছো শিকেয় তোলে।

পায়ের উপর পা তুলে বসে সময় কাটাও শুয়ে,

মেদ বাড়ছে, ভুঁড়ি বাড়ছে জাবর কেটে,খেয়ে খেয়ে।

আর কিছু বাড়–ক না বাড়–ক, বাড়ছে টেনশান,

খরচের ঘোড়ায় লাগাম দিলেও -পড়ছেনা তাতে টান।

তারচে ভাই গ্রামে ফিরে যাও, কৃষিতে দাও মন,

সবজি ফলাও, গরু চড়াও,ধান ফলাও মণে মণ।

কী হবে ভাই বসে বসে, অলীক স্বপ্নের ভেলায় ভেসে,

সময় যে বয়ে যায়!

মাটি হয় মায়ের মতো,আসুক দুঃসময় যতো

তার কাছে পাবেই পাবি ঠাঁই।

নদ্দা ঢাকা ১৮.০৫.২০২০

৪.

ঢাকা সমাচার ২

চলো গ্রামে ফিরে যাই,

ঢাকায় থেকে, মরছি ধুঁকে, হতাশায় নিরাশায়।

কেউ ভালো নেই, মুখে তাকালেই,হাঁড়ির খবর হয় জানা

চাকরিওয়ালা, ফেরিওয়ালা, একই সূঁতায় বোনা।

মাথাগুঁজার ঠাঁই না হলে- ত্রাণ দিয়ে হবে কী!

কয়টা মাসের বাড়ি ভাড়া রাখতে পারবি বাকি?

   সঞ্চয় ভেংগে সংসার চালাও- উৎসব, উপহার

আগামী দিনে,জর্জরিত হবে ঋণে; বর্ধিত হবে সূদেরহার।

ঢাল নেই, তলোয়ার নেই যেনো নিধিরাম সর্দার

এক একজন কর্ম-যোদ্ধা এমনি নির্বিকার।

যে হাতে সৃষ্টি বাংলাদেশের, যে হাত এনেছে স্বাধীনতা

সেই কোটি হাত অথর্ব আজ, নিদারুন স্থবিরতা।

অতএব, চলো গ্রামে ফিরে যাই, মাটি ও মা’য়

আরেকবার খুঁজে ফিরি শৈশব, বাঁচার উপায়।

নদ্দা, ঢাকা ১৯.০৫.২০২০

৫.

শঙ্কা মোচনীয়া তন্ত্র

দেখো, খড়কুটো আঁকড়ে ধরেও বাঁচতে পার কিনা;

ডুবন্ত মানুষের দু’দন্ডের বাসা; এই ভাসমান ঘাস।

হৃদয়ে বাজাও আশা জাগানিয়া সুর-বীণা,

¯স্নিগ্ধতার তরী পাড়ি দেবেই দীর্ঘশ্বাস।

কেউ নেই, কিছু নেই! খা খা শূন্যতা, একা

টানেলের ওপারেও নিñিদ্র আঁধার-অদৃশ্য আলোক রেখা।

চলার আনন্দেই চলতে থাকো; ভয়েই যে বাড়ে ভয়,

রাত্রি যতোই নিবিড় হবে জেনো- নিকটেই সূর্যোদয়।

“ যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ”- মনে রেখো সর্বদাই,

তুমি থেমে গেলে, থামবে শুধু তুমি -কার কিবা আসে যায়!!

নদ্দা ঢাকা ,২০.০৫.২০২০

৬.

সুখ পাখি

লকডাউনে আটকে গেছে ডানা

সড়ক পথে; গাড়িতো চলেনা

কচ্ছপ গতিই শেষ ভরসা নাকি!

আর কতো দূর- কতো দূর সুখ পাখি?

একবার জেগে আবার শুতে যাই

স্বপ্ন-ভঙ্গে দু’চোখ  কচ্লায়

জেগে জেগেও চক্ষে দেখতে পাই

স্বর্গ হতে আসছে উড়ে কী জানি একটা কী?

আর কতো দূর- কতো দূর সুখ পাখি?

জানি, একটি কথায় সবাই জানতে চায়

সুখ পাখিটা আসছে কবে ভাই?

ভাল্লাগেনা বসে থাকা ঠায়

হাওয়ায় ভেসেই জীবন চলবে কী?

আরও কতো দূর -কতো দূর সুখ পাখি?

হয়তো একদিন হবে এমনি একটি ভোর

পাখির কাকলীতে, ফুলের সৌরভে সুমধুর

সুখ পাখিটাও বসবে এসে ডালে

রৌদ্রোজ্জ্বল দিন, রবে অমলিন,সুনির্মল আকাশ তলে।

নদ্দা, ঢাকা ২৯.০৫.২০২০

 

৭.

অমোছা ভয়

তুড়ি মেরে কি উড়িয়ে দেওয়া যায়?

কেননা,জুতো যার পায়ে জানে সেই-বিঁধছে কোথায়,

তীরে দাঁড়ালেই দেখা যেতো যদি সাগরের ’মাৎস্য ন্যায়’?

কারো কারো কথায়,বোধহয় সূর্যোদয়, সূর্য অস্ত যায়,

পাথরে খুশবো বেরোয় অতীব ধন্বন্তরি তরিকায়,

বজ্রনিনাদ ক্ষীণ আর্তনাদে অস্ফুট গোঙায়।

আমি দৃশ্যত নই তথৈবচ; শম্বুক- আকার,

ভালোবাসার ছোঁয়াও লাগে অসহনীয় ভার।

কিংবা স্পর্শকাতর প্রাণ, গুল্ম -গোত্র লজ্জাবতী

প্রাণদায়ী বৃষ্টি জলও আনে যারপরনাই দুর্গতি!

বাঘ! বাঘ! মিছেমিছি হেঁকে যায় খবিশ রাখাল,

বাঘ বুঝিবা শ্বাশ্বত নয়,

কালের কাহনে সেঁটে থাকে কিছু অমোছা ভয়,

চিরদিন চিরকাল।

নদ্দা,২৫.০৬.২০২০

বিশ্বাসভঞ্জন করোনা

মৃত্যু সেতো পালা বদলের খেলা

পরিযায়ী পাখির স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।

তথাপি এই অমোঘ সত্যও সহজেকি মানা যায়?

পৃথিবীর বাতাস ভারী হয় আর্তনাদে; বিরহ -বেদনায়।

ইদানিং মৃত্যুগুলো বড়বেশী সেলুকাস!

জীবনান্ত নয়, এ যেনো তাই অংকুরেই বিনাশ।

বয়োবৃদ্ধের সমানুপাতিক শিশু ও আবাল,

কবে, কখন, কোথায় অবান্তর, অঘোষিত স্থান, কাল।

কে চলে যায়,কার বা আপন!

প্রিয়হারা কেবা,দুঃখী, অভাগাজন?

শোকতাপ নিরুত্তাপ মিশে যায় বিরস হাওয়ায়,

পাছে পাঁচ কান হবে, এই শংকা,ভয়ে-সব চেপে যায়।

ও করোনা, তুই হতিস্না এত্ত অপরাধী!

 মৃত্যু জানি বিধির বিধান-বিশ্বাস তুই না ভাঙতে যদি!!



কেনুস সম্রাট ম্রং’র প্রকাশিত গ্রন্থের নাম ‘ ওয়ানগালা আনচিংনি ওয়ানগালা’। তিনি পেশায় শিক্ষক। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।



করোনাকালীন তিনটি কবিতা ।। মতেন্দ্র মানখিন

একজন ভালো মনের মানুষ ব্রাদার গিয়োম ।।  কিউবার্ট রেমা




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost