Thokbirim | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আজ গরিয়া নৃত্য সমাপ্তি মাধ্যমে শেষ হচ্ছে ত্রিপুরাদের বৈসুর আমেজ

প্রকাশিত : এপ্রিল ১৯, ২০২১, ১৩:৩৭

আজ গরিয়া নৃত্য সমাপ্তি মাধ্যমে শেষ হচ্ছে ত্রিপুরাদের বৈসুর আমেজ

বৈসাবির সুরের আমেজ পাহাড় জুড়ে। বিশেষত ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈসু, বিজু এবং সংগ্রাই প্রধান সামাজিক উৎসব। চাকমাদের ফুল বিজু বা মারমাদের পানি খেলার মতোই ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের ধারক গরিয়া বা গরয়া নৃত্য। বৈসুর অন্যতম আকর্ষণ গরিয়া নৃত্য। মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল থেকে এ নৃত্য শুরু হয়েছে। আজ সোমবার ( ১৯ এপ্রিল ২০২১) শেষ হবে। প্রতিবছরই পাহাড়ের গ্রামে গ্রামে চলে গরিয়া নৃত্য। গরিয়া নৃত্যে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ে সুখ, আনন্দ ও সমৃদ্ধি কাব্যই ভেসে উঠে। সুদীর্ঘ কাল থেকে ত্রিপুরা কৃষিনির্ভর জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে আছে। কৃষিই এখানকার প্রাণ। জুমভিত্তিক কৃষি যাতে সমৃদ্ধ হয়। রোগবালাইয়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার জন্য গরিয়া দেবতা বা ভগবানের কাছে এই প্রার্থনা ভেসে উঠে গরিয়া নৃত্যে। ত্রিপুরাব্দের তালাং মাসে বৈসু বা বৈসুক উদযাপিত হয়। এরই মধ্যে ২৯ চৈত্র হার বৈসু, ৩০ চৈত্র বৈসুমা ও ০১ বৈশাখ বিসি কাতাল । তিন দিনব্যাপী চলে বৈসুর নানা আয়োজন। বৈসু উদযাপনে ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর অন্যতম আকর্ষণ গরিয় বা গরয়া নৃত্য। ত্রিপুরা গরয়া দেবতার পূজা করে। এটি ত্রিপুরাদের আদি ঐতিহ্য। ত্রিপুরাদের দেবতা গরিয়াকে মুগ্ধ বা স্তুতি করতেই এই নৃত্য পরিবেশিত হয়।

প্রতিবছরে ন্যায়ে এইবারেও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন ত্রিপুরা এলাকায় গরিয়া পূজা বা নৃত্য হয়েছে। ‘ত্রিপুরা সংস্কৃতির সঙ্গে গরিয়া বা গরয়া নৃত্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার ক্রমাগত বিকাশ ও বহুল প্রচারের লক্ষ্যে প্রতিবছর গরয়া নৃত্যের আয়োজন করা হয়।

ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস- ভগবানের আরেক নাম গরিয়া বা গরয়া। দেবতা গরয়াকে তুষ্ট ও সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা এবং সুখ লাভ করার উদ্দেশ্যেই এই নৃত্য পরিবেশিত হয় যার মধ্যে মানব জীবনের নানা ক্রিয়াকলাপ ফুটে উঠে বলে বিশ্বাস করেন তারা।

বৈসু উপলক্ষে মঙ্গলবারে হার বৈসু থেকে গরিয়া শুরু হলে বুধবারে বৈসুমা দিনে খাগড়াছড়ি জেলায় বিভিন্ন জায়গায় পানিতে ফুল এবং কাপড়ের টুকড়ো ভাসায় আদিবাসী ত্রিপুরা নারীরা।

গরিয়ায় সর্বমোট ২২টি মুদ্রায় পরিবেশিত হয় এই নৃত্য। যেমন, জুমে ধান রোপণ, ছড়ার মাছ শিকার, হাতে হাত ধরে চলা, দেবদেবীর প্রার্থণা ইত্যাদি। গরিয়া নৃত্যে অংশগ্রহণকারীদের খেরেবাই নামে ডাকা হয়। রীতি অনুযায়ী গরিয়া নৃত্যে অংশগ্রহণকারীকে টানা তিন বার অংশ নিতে হবে। যদি কোনো খেরেবাই টানা তিনবার অংশ নিতে না পারে তবে তাকে গরয়া দেবের পুজো করতে হবে।
নারীদের গরিয়া নৃত্যে অংশ নেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও বর্তমানে শুধু পুরুষই অংশগ্রহণ করে থাকেন। বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে খেরেবাইরা গরিয়া নৃত্য পরিবেশন করে।

খেরেবাই কোন বাড়ির উঠানে প্রবেশ করলে তার দল নির্দিষ্ট কিছু সংকেতিক আওয়াজের মাধ্যমে গরিয়া দলের আগমনী সংবাদ দেয়। এরপর চলে গরিয়াদের পরিবেশনা।

ত্রিপুরা রীতিতে বৈসাবি উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হল ঐতিহ্যবাহী গড়াইয়া নাচ।

আশপাশের পাড়া প্রতিবেশীরা গৃহস্থের বাড়ির উঠানে বসে গরিয়া পরিবেশনা উপভোগ করে। এসময় দলের একজন ত্রিশুলের মতো লাঠির মাথায় স্থাপিত গরিয়া দেবের বহন করে, তার নাম অচাই, আর তার পিছনে থাকে দেওরাই। আর যিনি “খারাম” (ঢোল) বাজায় তার নাম হরদাৎ, আর নৃত্য পরিবেশনকারীদের দেখাশুনার করে থাকেন তাকে সিপাই নামে ডাকা হয়।

উল্লেখ্য, বৈসু আসলে ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী গরিয়া নৃত্য প্রতিবছরের বৈসুর আগমনে হয়ে ০৭ দিন ব্যাপী চলে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে আজ সোমবারে সমাপ্তি হচ্ছে গরিয়া বা গরয়া নৃত্য।

।। আদিত্য ত্রিপুরা

ছবি: ব্রজেন্দ্র কার্বারী পাড়া, মাটিরাঙ্গা



খাগড়াছড়ি গুইমারায় এক আদিবাসী নারীকে মারধরের অভিযোগ

https://www.youtube.com/watch?v=ll1Owqx9IdM




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost