Thokbirim | logo

২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গারো সাধুর খোঁজে।। দিনলিপি।। তর্পণ ঘাগ্রা

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৭, ২০২১, ১৬:৪০

গারো সাধুর খোঁজে।। দিনলিপি।। তর্পণ ঘাগ্রা

এক সময় গারো বাদা গ্রামে দুই রাত দুই দিন ছিলাম। প্রথম দিন মিশনে ছিলাম। পরিচয় হওয়ার পর মিশনে থাকতে দেয়নি আত্মীয় স্বজন এসে গ্রামে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কুমিরার ঘাগ্রা অনেক। তারা ১৯৬৪ সনের আগেই ওখানে চলে যান। সন্ধ্যায় অনেক বয়স্ক-বয়স্কারা দেখা করতে আসেন। অনেক মজার আলাপ হয়। বেশি সময় তারা প্রশ্ন করেন আর আমি এক সময় খোকন সাধুর কথা উঠাই। গারোবাদা গ্রামেও নাকি তার আশ্রম ছিল। গারোদের মাঝেও সাধু আছে এই প্রথম শুনেছি। খোকন নাকি প্রথমে বড় ডাকাত ছিল পরে সাধু বাবা হয়ে যায়।

কাগজে রৎনাকর ডাকাতের কথা পড়েছি, নিজাম ডাকাতের কথাও পড়েছি। তারা পরে বড় সাধু বাবা হয়ে যায়।কিন্ত গারো ডাকাতের সাধু বাবা হওযার কথা এই প্রথম শুনেছি। তার কাহিনি  জানার জন্যে প্রশ্ন করলাম, কিউ ভালোভাবে বলতে পারেনি।

এক জন বললো এখানে তার আশ্রম ছোট ছিল তবে গাসুওয়া পাড়ায় বড় আশ্রম, সেখানেই সে মারা যায় বলেন। পরের দিন আমি গেলাম পানদো দললং বা ব্রিজ দেখতে। এই পনদো ব্রিজকে নিয়ে গারোদের অনেক গান আছে ‘পানদো দললং  নিনামা মামা’ এ রকম। আবার গারো ইতিহাসেও পাওয়া য়ায়।

পানদো গ্রামে গারোরা বসবাস করেছে। সংদু নদীর পানি খেয়েছ, গারো ভাষায় আসং পানদো চিগা সংদু। সেখান থেকে গোহাটি গিয়ে তারপর সাধু বাবার আশ্রম খুঁজতে গাসুওয়া পাড়ায় এলাম। সেখানকার বয়স্করাও বলে, খোকন সাধু এই গ্রামেই মারা গেছে, তার অনেক শিষ্যের কথাও জানাল। তারা বাংলাদেশে তার জন্ম বলেছে। তার বেশি বলতে পারেনি। এক মাস দেশে ফিরে এলাম ময়মনসিংহ ব্রাদার হাউসে এক দিন বিশ্রাম নিয়ে সকালে হালুয়াঘাটে উঠলাম। উদ্দেশ্য একটাই সাধু বাবার পরিচয় জানা। গাজিরভিটা গেলাম,সাজিত মড়লের বাড়িতে গেলাম। চা খেতে খেতে সাধু বাবার কথা প্রশ্ন করলাম। হাঁ সে সাধুকে চিনে,তার শ্বশুর নয়ারাম লস্করের বন্ধু বললো সাধুর জন্ম  স্থান তলোওয়া পাড়ায়।

সাজিত মড়ল বলে, খোকন বড় ডাকাত ছিল। সে সাধারণ লোকদের ডাকাতি করেনি, জমিদার তালুকদারদের ডাকাত করেছে। টাকা পয়সা এনে নিজে খরচ না করে গরিবদেরকে দিয়ে দিয়েছে আর তার দল ছিল না। সে একাই ডাকাত করেছে।

তলোওয়া পাড়াতে গিয়ে একজন বৃদ্ধ লোক পেলাম। সে নাকি সাধু বাবার শিষ্য তার অনেক কাহিনি শুনেছি- লেখেছি। এভাবে প্রায় পনর বিশ পৃষ্ঠা লিখে রেখেছি। সাধু বাবা হওয়ার পর প্রচুর বৃষ্টি হলেও এক ফোটা বৃষ্টিও নাকি তার শরীরে পড়তো না, কাপড় শুকনো থাকতো। এরকম মস্ত বড় কাহিনি । পরে এরকম আরো গারো সাধু বাবা খুঁজে পেয়েছি, শক্তিরাম বাবাজি, সাধু পানচিং, এই সাধু নাকি মৃত মানুষকে  প্রার্থনা জীবন দিতে পারে। সাধু পানচিং সম্পর্কে আমি বেশি কিছু জানি না, অল্প লোকের মুখে শুনেছি, তাই লিখতে সাহস পাইনি।



 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost