Thokbirim | logo

৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শালবন, আবিমা, পীরেন-চলেশের রক্তমাখা লালচে মাটিতে ।। নিগূঢ় ম্রং

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৩, ২০২১, ১৬:০৬

শালবন, আবিমা, পীরেন-চলেশের রক্তমাখা লালচে মাটিতে ।। নিগূঢ় ম্রং

বেশি দিন হয়নি, এইতো প্রায় বছর দুয়েক আগে প্রথম বারের  মতো আবিমা(মধুপুর) ঘুরে আসলাম।

অনেক লড়াই সংগ্রাম, জুমচাষ, শালবৃক্ষ লালচে মাটি, শহিদ পিরেন স্নাল চলেশ রিছিলসহ আরো অনেকের বহু কথা শুনেছি তবে কখনো যাওয়া হয়নি- আবিমা, শালবন, পিরেন স্নাল চলেশ রিছিল অন্যরকম এক ভালোলাগা মনটা ছটফট করছে। কবে আবিমায় পৌচ্ছাবো, পীরেন স্নাল, চলেশ রিছিলের আত্মদানের মাটিতে পা রাখবো আর শালবনে ঘুরে বেড়াবো! বন্ধু জন রুরাম বললো, চলো একটু ট্যুর দেই মধুপুর হয়ে কলমাকান্দা! মধুপুর শুনতেই মনটা নাড়া দিলো। অনেক দিনের যাওয়ার ইচ্ছে, কত কথা কত গল্প কত ইতিহাস শুনেছি, নিজের অজান্তেই শাল বৃক্ষের পাতার মতো মন দোলছে সুবাতাসে। ঢাকায় বসে বসে একটা ছক লিপিবদ্ধ করলাম ময়মনসিংহ,আবিমা(মধুপুর) নেত্রকোনা কলমান্দা কোথায় কোথায় যাওয়া যায়।

১১ ফেব্রুরি ২০১৯ ঢাকা থেকে বাইকযোগে ময়মনসিংহ শহরের দিকে রওনা দিলাম। দুটো বাইক- বন্ধু জন রুরাম বাপ্পা রেমা এবং আমি, দুপুরের আগেই ময়মনসিং শহরে গিয়ে পৌচ্ছলাম। সেখানে বোন বন্ধু একই -রোজলিন রেমাকে নিয়ে যাবো ওদের গ্রাম গেৎচুয়া হবে আমাদের আশ্রয়স্থল। ময়মনসিংহ শহরে কিছু কাজ সাড়ার পর রওনা দিলাম ৪জন আবিমার পথে।

সূর্য অস্ত যায়, যেতে যেতে পথে- সন্ধ্যা নামে। অন্ধকার নামে আচ্ছন্ন রাত হয়। জনের  বাইক সামনে ওরা রাস্তা চিনে পথ দেখাবে তাই- পিছনের বাইকে বাপ্পা আর আমি, যেতে যেতে ওরা অনেকদুর চলে গেছে কোনো এক বাজারে গিয়ে অপেক্ষা করবে, নতুন পথ অচেনা রাস্তা চলতে চলতে দুপাশে সারিসারি শালবনের মাঝ রাস্তা দিয়ে আমরাও এগুচ্ছি, এমনিতেই আমরা নতুন তার পর আবার অন্ধকার পথ চেনা বড় দায়!

প্রথমে যাবো টেলকি বাসস্ট্যান্ড তার পর একসাথে গেৎচুয়া গ্রামে। আমরা টেলকি পার হয়ে পচিঁশ মাইল বাজারের কাছাকাছি চলে গেছি। দুপাশে শালবৃক্ষ, ঘুটঘুটে  অন্ধকার প্রচণ্ড ভয়! শীতে কাঁপছি থরো থরো, ভাগ্যিস ভয়ের কাঁপুনি ঢাকা পড়লো, খানিকটাবাদে ভাবলাম ওদের কল দেই আমরা কোথায় যাচ্ছি, রাস্তা চিনতে পারছি না। বাইক থামালো, বাপ্পা পকেট থেকে মোবাইল বের করলাম চোখ বুলাতেই ১০/১২টা মিস কল আসছে জনের। আতঙ্কে উঠলাম, গাঁ শিউরে উঠলো। এতবার কল দিলো বোঝার উপায় নেই, বাইকের শব্দ সাথে বাতাসের গতিবেগের শো শো শব্দ, ফিরতি কল দিয়ে জানলাম তারা টেলকি বাসস্ট্যান্ড এ অপেক্ষা করছে- ওদের পিছনে রেখে আমরা অনেকদূর এসেছি ওরা দেখে ডেকেছিল আমাদের আমরা শুনতে পায়নি। স্মরণে আসলে টেলকি লেখা কিছু দোকানপাট পিছনে ফেলে আসছি আমরা বাইক ঘুরিয়ে ফিরলাম আবার, ওদের পেয়ে খুঁশিতে আত্মহারা, লালচে মাটির আঁকাবাঁকা মেঠো পথ পেরিয়ে গেৎচুয়াতে পা রাখলাম। উঠোনে পা রাখতেই আমাদের সাদর সম্ভাষণ,  শীতে কাঁপছি, উঠোনে শুকনো গাছের ডালপালা এনে আগুন ধরিয়ে দিলো চেয়ারে বসে আরামসে আগুন পোহালাম। খানিকখন পর চু দিয়ে আপ্যায়ন হলো। আগুন পোহাচ্ছি- কটা গ্লাস ঢক ঢক করে গিলছি, মনে হচ্ছে স্বার্থক মধুপুর, গলা ভিজতেছে কলিজা ভরছে। খেয়ে দেয়ে ঘুমোতে গেলাম, ভাবছি কবে সকাল হবে চারপাশের প্রকৃতির রুপ দেখবো, চলেশ পিরেনের স্মৃতি কুঁড়াবো…

(চলবে)



 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost