Thokbirim | logo

৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গারো  খ্রিস্টানদের খ্রিষ্টরাজার পর্ব কিংবা ওয়ানগালা উৎসব ।। মানুয়েল চাম্বুগং

প্রকাশিত : নভেম্বর ২২, ২০২০, ১০:১২

গারো  খ্রিস্টানদের খ্রিষ্টরাজার পর্ব কিংবা ওয়ানগালা উৎসব ।। মানুয়েল চাম্বুগং

“এথেন্সের মানুষেরা, আমি দেখতেই পাচ্ছি যে, সব দিক দিয়েই আপনাদের মধ্যে যথেষ্ট দেবভক্তি রয়েছে! আপনাদের এই শহরে ঘুরতে ঘুরতে আমি যখন আপনাদের নানা পুণ্যনির্মিত লক্ষ্য করছিলাম, তখন এমন একটি বেদীও আমার চোখে পড়ল, যার গায়ে লেখা আছে, ‘এক অজ্ঞাত দেবতার প্রতি নিবেদিত।’ তাই শুনন; যাঁকে আপনারা, না জেনেও ভক্তি করেন, আমি এখন তাঁর কথাই আপনাদের সকলকে জানিয়ে দিচ্ছি! পরমেশ্বর যিনি এই জগৎ ও তার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তার সমস্তই গড়ে তুলেছেন, সেই স্বর্গমর্তের প্রভু যিনি, মানুষের হাতে তৈরী মন্দিরে তিনি তো বাস করেন না…। তিনি নিজেই তো সকলকে প্রাণ, প্রাণবায়ু, সমস্ত কিছুই দান করে থাকেন, ” শিষ্যচরিত ১৭:২২-২৫। এই এথেন্সবাসীদের মতো গারো জাতিও খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পূর্বে তাতারা-রাবুকা, সুসিমী-সালজং ও আসিমা-দিংসিমা প্রভৃতি অজ্ঞাত দেবতাদের পূজা-অর্চনা করতো। খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পর তারা এসব অজ্ঞাত দেবতাদের বাদ দিয়ে ঈশ^র প্রভুকে বিশ্বাস করতে শুরু করে। তথ্যানুসারে জানা যায় সেই সময় গারোরা সাংসারেক ধর্ম ছেড়ে দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু তারা তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতির ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিসহ আরো অন্যান্য কিছু ছাড়তে পারছিল না। যার কারণে ধর্মযাজকগণ তাদেরকে বকাবকি করতেন। শাস্তি দিতেন। এমনকি হিন্দুদের পূজা পার্বণে যেতেও নিষেধ করতেন।

একসময় ধর্মযাজকরা তাদের এই ভুল ধর্মশিক্ষা দেয়াকে বুঝতে পারেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় ভাটিকান মহাসভার সংবিধানের শিক্ষার আলোকে বুঝতে পারেন যে, প্রত্যেকটি জাতিগোষ্ঠীরই প্রার্থনানুষ্ঠানে নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি চর্চা করার ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে। ১৯৬৩-১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে রোমে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ভাটিকান মহাসভা সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা সুস্পষ্ট বর্ণিত আছে , “যে সমস্ত বিষয় মণ্ডলীর কল্যাণের সাথে তথা ইহজগতে জনসমাজের কল্যাণের সাথে জড়িত অর্থ্যাৎ যে সমস্ত বিষয় সবসময় সকল স্থানে নিরাপদে সংরক্ষণ ও সকল প্রকার ক্ষতি থেকে রক্ষা করা আবশ্যক তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই যে,খ্রিষ্টমণ্ডলী কাজের সেই স্বাধীনতা উপভোগ করে যা মানুষের পরিত্রাণের সাধনে মন্ডলীর দায়িত্বের জন্য প্রয়োজন।” এই শিক্ষায়  প্রবুদ্ধ হয়ে ধর্মযাজকরা গারোদেরকে অনুমোতি দেয় উপাসনা অনুষ্ঠানে তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে। এতে গারোরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে দলে দলে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন।

একটা জিনিস মাঝে মাঝে চিন্তা করলে আমার খুবই ভাল লাগে, সেটি হলো খ্রিস্টমাতামন্ডলী কতই না উদার, জগতের বাস্তবতার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে নিজ নিজ মাতৃভাষায় ও কৃষ্টি-সংস্কৃতির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রভুর প্রশংসাগান করতে। বলা হয়ে থাকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়ার অনেক আগে থেকেই গারোদের ওয়ানগালা উৎসব বিলিন হয়ে গিয়েছিল; সেই প্রাণের উৎসব ওয়ানগালাকে পুনরায় সজিবতায় ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ কাথলিক মন্ডলী দ্বিতীয় ভাটিকান মহাসভার ধর্মীয় স্বাধীনতার শিক্ষানুসারে চিন্তা করলেন। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে মান্দি উপাসনা সাব কমিশনের উদ্যোগে, তৎকালীন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের মহামান্য আর্শ্চবিশপ মাইকেল রোজারিওর অনুমোদনে খ্রিস্টরাজার মহাপর্ব দিনে বিড়ইডাকুনি ধর্মপল্লীতে খ্রিস্টরাজার ওয়ানগালা উৎসব সর্বপ্রথম আয়োজন করা হয়।

খ্রিস্টরাজার পর্বদিনে ওয়ানগালা অনুষ্ঠান করার অর্থ হলো, খ্রিস্টান হয়ার পর আমরা এখন ঐশ সত্য ঈশ^র প্রভুকে জানতে পেরেছি। তাই তো আমরা এখন সালজং নামক সূর্য্যদেবতাকে বাদ দিয়ে এই বিশ^ভ্রমান্ড যিনি সৃষ্টি করেছেন সেই প্রভু যীশুকে কেন্দ্র করে ওয়ানগালা আন্দোৎসব করে থাকি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বর্তমানে গারোদের মধ্যে ৯৯ ভাগ খ্রিস্টান হয়ার পরও দেখা যায় মধুপুরের কয়েকটি গ্রামে ও ঢাকার কিছু কিছু জায়গায় ওয়ানগালা অনুষ্ঠানে সাংসারেক রীতিতে ওয়ানগালা উদ্যাপন করা হচ্ছে। আমি জানি না তারা আগের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য সাংসারেক রীতিতে ওয়ানগালা উৎসব করছে, না-কি লোক দেখানোর জন্য করছে, না-কি সত্যিকার অর্থে ওয়ানগালানুষ্ঠান করা হচ্ছে। যদি লোকদেখানোর জন্য কিংবা ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য সাংসারেক রীতিতে ওয়ানগালা অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে তাহলে সেটি হবে আমাদের খ্রিস্টানদের জন্য বিরাট একটা ভুল। কারণ সত্য প্রভু  ঈশ্বরকে আমরা বিশ্বাস করি; অসত্য দেবমূর্তিকে আমরা পূজা করিনা। যে ঐতিহ্যে বিশ্বাসের কোনো সত্য ভিত্তি নেই সেই সালজং মিত্তিকে আমরা কেন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবো? সালজং দেবতা আসলে কে সবাই জানে, সালজং হচ্ছে সূর্য্য। তারপরও কেন যে তারা বর্তমান প্রজন্মকে ভুল শিক্ষা দিয়ে বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। আসলে সেই কথাই ঠিক; কেউ জেগে ঘুমালে তাকে উঠানো বড়ই কঠিন।

সাংসারেক রীতিতে খ্রিস্টানদের কেন ওয়ানগালা উদযাপন করা উচিত নয়

১. সালজং দেবতার পরিচয় ইতিমধ্যেই বলেছি যে সালজং হচ্ছে সূর্য্য দেবতা। তাই সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে যীশুকে বাদ দিয়ে কোনো গ্রহ-নক্ষত্রকে আমাদের পূজাঅর্চনা করা ঠিক নয়।

২. আম্বি-আচ্চুরা (নানা-নানীরা) অবুঝমনে ওয়ানগালা উৎসবে সূর্য্যদেবতা মিসিসালজং-কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে বলে সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য খ্রিস্টান হয়ে সূর্য্যদেবতাকে ওয়ানগালা অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ দেয়ার কোনো যুক্তিযুক্তিকতা আমি খোঁজে পাই না।

৩. ওয়ানগালা উৎসব পরিচালনার জন্য একজন কামালের প্রয়োজন হয়, সেই কামাল কতটুকু দক্ষ-প্রশিক্ষিত সেটি দেখার বিষয়। তাছাড়া অনেক সময় দেখা যায় কোনো কবিরাজ বা ওজাদেরকে ওয়ানগালা পরিচালনার করার জন্য আনা হয়।

৪. ওয়ানগালা অনুষ্ঠান পরিচালনার সময় যে মন্ত্রগুলো কামাল পড়েন, সেই মন্ত্রগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ঐমন্ত্রগুলোর মধ্যে ঐশ^তত্ত্বের কোনো ভিত্তি নাই। শুধুমাত্র মন্ত্রগুলো আবৃত্তি করার জন্য করা হয়। যারা কারণে উপস্থিতজনতা অনেকেই হাসাহাসি করে থাকেন। আরো লক্ষ্যণীয় যে অনেক কামালই মদ খেয়ে মাতালের মতো প্রার্থনা পরিচালনা করে।

৫. ঈশ্বরের দশ আজ্ঞার প্রথম আজ্ঞায় আছে, “তুমি আপন প্রভু ঈশ্বরকে পূজা করবে, কেবল তাঁরই সেবা করবে।” তাই একজন খ্রিস্টবিশ্বাসী হিসেবে সালজং নামক কোনো দেবতাকে আমাদের পূজা করা ঠিক না।

৬. অনেকেই মনে করেন, রোমান কাথলিকরা গারোদের কৃষ্টি-সংস্কৃতিগুলো বাদ দিয়ে ওয়ানগালা অনুষ্ঠান করে থাকে। আসলে তাদের এই ধারণাটি একদম ভুল। কারণ ওয়ানগালা উৎসবে গারোদের ঐতিহ্যগত সকল সংস্কৃতি যন্ত্রপাতিগুলোর সমন্বয়ে সুস্থ ও পরিকল্পিত কাঠামোগতভাবে ওয়ানগালা অনুষ্ঠান করা হয়।

মান্দি সংস্কৃতিতে খ্রিস্টানরা কেন খ্রিস্টরাজার ওয়ানগালা উৎসব করে

১. বাইবেলের পুরাতন নিয়মের আদিপুস্তকে বর্ণিত আছে এই বিশ^জগত সৃষ্টি করার সময়, ঈশ^র চতুর্থদিনে দিন ও রাত্রীকে পৃথক করার জন্য আকাশে গ্রহ, নক্ষত্র ও উপগ্রহ সৃষ্টি করেন। তাই এর জন্যই আমরা সৃষ্টিকর্তা ঈশ^রকে বাদ দিয়ে  তাঁরই হাতে গড়া সূর্য্যগ্রহকে কেন্দ্র করে আমরা ওয়ানগালা উৎসব করি না। খ্রিস্টকে রাজার আসনে বসিয়ে ওয়ানগালা উদ্যাপন করি।

২. খ্রিস্টকে রাজা করে আমরা ওয়ানগালা উৎসব করি। কারণ আমরা যিশুর বিষয়ে জানি, “পুত্র তো অদৃশ্য পরমেশ্বরের প্রতিমূর্তি; নিখিল সৃষ্টির অগ্রজাতক তিনি। কারণ তাঁরই আশ্রয়ে স্বর্গলোক ও পৃথিবীর বুকে সবকিছুই সৃষ্টি হয়েছে; দৃশ্য সব-কিছুই, আবার অদৃশ্য যা-কিছু আছে, তাও ঊর্ধলোকের যত সিংহাসন, যত প্রভুত্ব; আধিপত্ব্য বা কর্তৃত্ব- সমস্তই সৃষ্টি হয়েছে তাঁরই দ্বারা এবং তাঁরই উদ্দেশ্যে”, কলসীয় ১:১৫-১৬; শিষ্যচরিত ১৭:২৪-২৯; প্রত্যাদেশ ১০:৬।

৩. খ্রিস্টরাজার মহাপর্ব দিনে আমরা মান্দি কৃষ্টি-সংস্কৃতিতে খ্রিস্টরাজার ওয়ানগালানুষ্ঠান করি; কারণ “যিশু খ্রিস্ট রাজার রাজা, প্রভুর প্রভু তিনি”, প্রত্যাদেশ ১৯:১৬। যিশুর যে রাজা আমরা এটি জানতে পাই যিশুর মুখেই। পিলাত যখন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তাহলে তুমি কি রাজা?” যিশু তখন বলেছিলেন, “আপনি নিজেই তো বলছেন, আমি রাজা! সত্যের স্বপক্ষে যেন সাক্ষ দিতে পারি, এর জন্যেই আমি জন্মেছি এর জন্যেই এই জগতে এসেছি। সত্যের মানুষ যারা তারা প্রত্যেকেই আমার কথা শুনে”, যোহন ১৮:৩৭।

৪. ওয়ানগালা উৎসব পরিচালনার জন্য প্রধান পৌরিত্যকারী যাজককে/কামালকে মান্দিরা তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি অনুযায়ী খুতুপ-দো’মি পড়ান। কারণ এই কামালই হলেন অপর খ্রিস্ট। খ্রিস্টের প্রতিনিধি হয়ে তিনি ওয়ানগালানুষ্ঠান পরিচালনা করেন। পোপ দ্বাদশ পিউস তাঁর লেখা বিশ্বজনীন পত্রে বলেন, “সেই একই যাজক খ্রিস্ট যিশুকে তাঁর পূণ্য ব্যক্তিকে, তাঁর সেবাকর্মী যাজক সত্যিকারভাবে প্রতিনিধিত্ব করেন। সেবাকর্মী, প্রাপ্ত যাজকীয় অভিষেকের গুণে, সত্যিকারে মহাযাজকেরই সদৃশ হয়ে ওঠেন এবং খ্রিস্টের আপন ব্যক্তিত্বের ক্ষমতা ও স্থানে কাজ করার অধিকার লাভ করেন।” সাধু টমাস আকুইনাসও একই কথা বলেন,“সকল যাজকত্বের উৎস হলো খ্রিস্ট: প্রাক্তনবিধানের যাজক খ্রিস্টেরই প্রতিছবি এবং নববিধানের যাজক, খ্রিস্টের স্থানে কাজ করেন।” যাজকের বিষয়ে বাইবেল বলেন, “………..তাহলে তোমরা হয়ে উঠবে এক পবিত্র যাজক-সমাজ; তোমরা তখন এমন আধ্যাত্মিক যজ্ঞ উৎসর্গ করতে পারবে, যা যীশুখ্রিস্টের নিবেদনে পরমেশ্বরের কাছে গ্রহণীয় হয়”, ১ পিতর ২:৫।

৫. খ্রিস্টরাজার ওয়ানগালা উৎসবের প্রার্থনার কাঠামোতে রয়েছে ঐশসত্য ও গারোদের ঐতিহ্য সংস্কৃতির সমাহার। ধন্যবাদের এই ওয়ানগালা আনন্দোৎসব শুরু হয় কাথলিক মণ্ডলীর সর্বশ্রেষ্ট বা প্রধান উপাসনা পবিত্র খ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে। যে খ্রিস্টযাগের রীতিটি উপাসনার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বাইবেলের বিভিন্ন শিক্ষা ও ঘটনার সম্মিলনে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। খ্রিস্টরাজার ওয়ানগালা উৎসবের প্রার্থনানুষ্ঠানের কাঠামোটি আপনারা অনেকেই জানেন। তাই আমি সেবিষয়ে আলোকপাত করছিনা। শুধুমাত্র ওয়ানগালার খ্রিস্টযাগের মূল অনুষ্ঠানটি তুলে ধরছি। এই মূল অনুষ্ঠানে দেখবেন সত্যিই একটা আধ্যাত্মিক ও ঐশতত্ত্ব রয়েছে। ওয়ানগালার মূল পর্ব শুরু হয় মূলত পৌরহিতের উপদেশের পর। ওয়ানগালা অনুষ্ঠানের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি নেয়া হয়েছে ফাদার পিতার রেমার তৈরি কাঠামো থেকে।

ক) থক্কা অনুষ্ঠান: কামাল যিনি পৌরহিত্য করেন তিনি প্রার্থনা করবেন: হে পরম করুণাময় পিতা তোমার সম্মুখে উপস্থিত ভূমির ও মানুষের শ্রমের এই দ্রব্যবস্তুগলোকে তোমার পবিত্র ত্রিত্ত্বে চিহ্নিত করার জন্য আমরা তোমার কাছে থক্কা দানের প্রস্তুত করা উপকরণ, চালের গুড়ি নিয়ে এসেছি। অনুনয় করি, তুমি ইহা আশীর্বাদ করে পুণ্যমণ্ডিত কর যেন এর দ্বারা পবিত্র ত্রিত্বের দ্রব্য বস্তুগুলোকে চিহ্নত করার মধ্য দিয়ে এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল সৃষ্টির উপর পবিত্রাত্মার শক্তিতে রাজাধিরাজ খ্রিস্টের মধ্যস্থতায় তোমার রাজত্ব ক্রমান্বয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠে।

+ পিতা ও পুত্র ও পবিত্রাত্মার নামে। আমেন।

খ) থক্কা দান: যাজক দ্রব্য বস্তুগুলোকে পবিত্র ত্রিত্বের নামে চিহ্নিত করে থক্কা প্রদান করবেন।

যাজকের প্রার্থনা: হে পরমেশ্বর, তোমার পবিত্র ত্রিত্বের নামে এ দ্রব্য বস্তুগুলোকে চিহ্নিত করে থক্কা প্রদান করছি। এর ফলে সমস্ত সৃষ্টির উপর পবিত্রত্মার শক্তিতে রাজাধিরাজ খ্রিস্টের মধ্যস্থতায় তোমার রাজত্ব ক্রমে সুপ্রতিষ্ঠত হোক।

গ) পবিত্র জল সিঞ্চল: চরুগালা ।

১.      জল আর্শীবাদ: কামাল (যাজক) জল আর্শীবাদ করবেন: হে পরম করুণাময় পিতা, মিনতি করি এই জল আশীর্বাদ করে পুণ্যমণ্ডিত কর যেন এর দ্বারা এই দ্রব্য বস্তুগলোকে সিঞ্চিত করণের মধ্য দিয়ে সকল সৃষ্টি পাপজনিত ধবংসাত্মক সর্বপ্রকার মন্দতার দংশনে ক্ষত-বিক্ষত ও বিপথে গ্রস্ত হওয়া থেকে নিরাময় লাভ করতে পারে এবয় তোমর শক্তিতে সঞ্জীবিত হয়ে উঠে।

+ পিতা ও পুত্র ও পবিত্রাত্মার নামে। আমেন।

২.      (জল সিঞ্চন) যাজক দ্রব্য বস্তুগলোর উপর পবিত্র জল সিঞ্চন করবেন: হে পরম পিতা, তোমার পবিত্র ত্রিত্বের নামে এ দ্রব্য বস্তুগুলো উপর পবিত্র জল সিঞ্চন করছি। অনুনয় করি, এই সিঞ্চনের ফলে সকল সৃষ্টি পরিত্রাত্মার শক্তিমে রাজাধিরাজ খ্রিস্টের মধ্যস্থতায় পাপজনিত ধবংসাত্মক সর্বপ্রকার মন্দতা ও অনন্ত মৃত্যু থেকে ক্রমান্বয়ে নিরাময় লাভ করে তোমাকেই লাভ করুক। আমেন।

ঘ. দ্রব্য বস্তুগুলো উৎসর্গ: নির্ধারিত লোকেরা উপস্থিত ক্রুশের চারিদিকে দাঁড়িয়ে দ্রব্যগুলোকে হাতে উঁচু করে ধরবে যখন যাজক উৎসর্গের প্রার্থনাটি করবেন।

উৎসর্গ প্রার্থনা: হে পরম করুণাময় পিতা, সকল জাতির মানুষ এবং এ বিশ্বের সমস্ত কিছুকে তোমার কাছে উৎসর্গ করতে আমরা এ দ্রব্য বস্তুগুলোকে তোমার কাছে নিবেদন করছি যেন এর ফলে পবিত্রাত্মার শক্তিতে এবং প্রভু যীশুর মধ্যস্থতায় সকল জাতির মানুষ এবং বিশ্বের সমস্ত কিছু ক্রমান্বয়ে তোমার দিকেই ধাবিত হয়। এ মিনতি করি, তোমার কাছে আমাদের বিশ্বরাজ খ্রিস্টের নামে। আমেন।

ঙ. সাসাৎ সআ : ধূপারতি দান।

       যাজক ক্রুশ ও দ্রব্যগুলোর প্রতি ধূপারতি দেবেন।

       ধূপারতি দানের শেষে দ্রব্যবস্তুগুলোকে যথাস্থানে রাখবেন।

       ধূপারতি দানের আগে যাজকের প্রার্থনা: – হে পরম পিতা, তোমার মহিমা ঘোষণা করতে বিশ্বরাজ খ্রিস্টের নামে আমরা তোমার কাছে এই ধূপারতি নিবেদন করছি। মিনতি করি এর ফলে পবিত্রাত্মার শক্তিতে রাজাধিরাজ খ্রিস্টের মধ্যস্থতায় সারা বিশ্বে ক্রমান্বয়ে তোমার মহিমার রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হোক। আমেন।

পরিশেষে খ্রিস্টরাজার মহাপর্ব দিনে সবাইকে জানাই শুভ ওয়ানগালা ও যীশুনা রাসং (যিশুতে প্রণাম)। আজকের এই ওয়ানগালার আনন্দঘন মূহুর্তে বিশ^রাজ প্রভ যিশু খ্রিস্টকে কৃতজ্ঞভরা অন্তরে ধন্যবাদ জানায় তাঁর সমস্ত ভালবাসা ও অনুগ্রহদানের জন্য। রাজাধিরাজ প্রভু যিশুর নিকট আশীর্বাদ যাচনা করি, গত একটি বছরে যেভাবে তিনি আমাদেরকে সকল বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষা করেছেন; বিশেষ করে এই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় আমাদেরকে সুস্থ রেখেছেন, আগামী দিনগুলিতেও যেন ঠিক তেমনিভাবে তিনি আমাদেরকে সুস্থ রাখেন ও সুন্দর সুখি জীবন দান করেন।




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost