Thokbirim | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের খ্রিষ্টভক্তদের আধ্যাত্মিকতা ।। ফাদার শিমন হাচ্ছা

প্রকাশিত : নভেম্বর ০৯, ২০২০, ২০:০৪

ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের খ্রিষ্টভক্তদের আধ্যাত্মিকতা ।। ফাদার শিমন হাচ্ছা

১. পালকীয় সংবাদ মিশনে আসছে প্রতিদিনই। গ্রাম্য কাউন্সিলেরা তাদের গ্রামে যাদের বিবাহ সংশোধন এখনো হয়নি, সেই পরিবারগুলোর তালিকা পাঠাচ্ছে মিশনে, মাস্টারদের চিঠিসহ বিবাহ প্রার্থীদের নিয়ে দলবেধে যুবক-যুবতী আসছে বিবাহের নাম লেখাবার জন্য, প্রচারক র্দীঘ তালিকা দিয়েছেন গ্রামে শিশু ও বয়স্ক দীক্ষা প্রার্থীদের, দিন নেই রাত নেই যে কোন মুহূর্তে খবর নিয়ে আসছে মুমূর্ষু রোগীদের সাক্রামেন্ত (অন্তিম লেপন) দেয়ার জন্য। উৎসাহী পিতা মাতাগণ গভীর প্রত্যাশা নিয়ে যোগাযোগ করছে স্থানীয় পাল-পুরোহিতদের সাথে তাদের ছেলে-মেয়েদের সেমিনারিতে বা সিস্টার লাইনে পাঠানোর জন্যে উপরোক্ত কার্যক্রমগুলো খ্রিস্টভক্তদের আধ্যাত্ম্কি চেতনারই প্রতিফলন।

২. উনবিংশ শতাব্দির গোড়ার দিকে যে বিশ্বাসের বীজ এ অঞ্চলের খ্রিস্টভক্তদের অন্তরে রূপিত হয়েছিল তারা তা সযত্নে লালন করে আসছে। ব্রতধারী-ব্রতধারিণীদের স্বল্পতার কারণে আধ্যাত্মিক সেবার যে অভাব তা পুষিয়ে নিয়েছে এ অঞ্চলের সুযোগ্য খ্রিস্ট সেবক-প্রচারক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং গ্রাম্য কাউন্সিলের চেয়ারম্যানগণ ও সদস্যবৃন্দ। তারা সয়ংক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন সামাজিক ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে। সুদূর পল্লিগুলোতে যেখানে পুরোহিতগণ বছরে দু-তিনবারের বেশি খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করতে পারে না সেখানে রবিবারে বা নির্দিষ্ট পর্বগুলোতে নিয়মিত প্রার্থনা পরিচালনা করে যাচ্ছেন ক্যাটিখ্রিস্ট শিক্ষক ও শিক্ষিকাগণ। এভাবে পুরোহিত ব্রতধারী এবং ব্রতধারাণীদের পাশাপাশি খ্রিস্টভক্তগণও আধ্যাত্মিক পরিচর্যার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

এরই মাঝে তাদের বিশ্বাসে যে ঘাত-প্রতিঘাত আসেনি তা হলফ করে বলা যায় না। বিশ্বাস অনুশীলনের পথে প্রধান বাঁধা হলো-দারিদ্রতা-পেটের দায়ে তারা সারাদিন ধরে অন্যের ঘরে কাজ করে, তাদের পক্ষে তো পরিবার-পরিজনদের সাথে একত্রে বসে প্রার্থনায় বসা সম্ভব নয়। পরিবারের কর্তারা(পুরুষেরা) বনে-জঙ্গলে-বিলে, কাঠ-বাঁশ ও মাছ সংগ্রহ করতে যেতে হয় দূরদূরান্তে, ফলে তাদের পক্ষে রবিবাসরীয় উপাসনায় অংশ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। অল্প শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা অভাব-অনটনের কারণেই হউক, বা ভোগ বিলাসের মোহেই হোক, গ্রাম ছেড়ে তারা শহরে যাচ্ছে কাজের সন্ধানে। অনেকে পিতামাতার স্নেহ শাসন থেকে হয় বঞ্চিত, তাতে হয়ে যায় বাঁধন হারা পাখির মত। অনেকের পক্ষে নিয়মিত উপাসনায় অংশ নেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না, ফলশ্রুতিতে তারা নৈতিক অধঃপতনে ধাবিত হচ্ছে। এটা প্রভাবিত করে পরিবার, গ্রাম ও সমাজে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যেমন-টেলিভিশন, সিনেমা, ভিসিআর ইত্যাদির প্রভাব শুধু শহর, বন্দর-গঞ্জেই নয়, প্রভাবিত হচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। যেখানে একত্রে বসে খাওয়া-দাওয়া, প্রার্থনা, রূপকথার গল্প বলা হত…এখন উপরোক্ত প্রযুক্তির উপস্থিতির ফলে যে যার মতো সময় ব্যয় করছে-ধাবিত হচ্ছে ব্যক্তি-কেন্দ্রিকতার দিকে। এতে ব্যহত হচ্ছে সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তি বন্ধন।

একদিকে পুরোহিতের স্বল্পতা, অন্যদিকে পুরোহিত, ব্রতধারি-ব্রতধারিণীদের কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়াতে ঠিক মতো খ্রিস্টভক্তদের সেবা ও আধ্যাত্মিক গঠন দিতে পারছে না ও যোগাযোগ রাখতে পারছে না। ফলে যাজক ব্রতধারি-ব্রতধারিণী ও খ্রিস্টভক্তদের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে।

৩. দৃশ্যত : উপরে উল্লেখিত কারণগুলো আধ্যাত্মিকতার যাত্রা পথের বাঁধা মনে হলেও ঈশ^র হতে উৎসাহিত ভালবাসা দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে এ ধর্মপ্রদেশের সকল মানুষ। ঐশ প্রেম ভক্তজনগণকে অষ্টকল্যাণ বাণীর মমার্থকে তাদের নিজেদের জীবনে বাস্তব সম্মতভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে।

জীবনে দুঃখ-দূর্দশা বহন করার শক্তি সঞ্চয় করেছে প্রভু যিশু খ্রিস্টের যাতনাভোগ থেকে। কাজেই ভক্তজনগণের আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস ও জীবনাবস্থা নির্ভর করে খ্রিস্টের সঙ্গে তাদের জীবনের মিলনের মধ্যে।



সীমিত পরিসরে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো গুলশান-বনানী ওয়ানগালা

গারো ভাষায় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে নির্মিত হলো নতুন গান

সহকর্মীদের কর্মজীবনে ঘটে যাওয়া ব্রাদারের কিছু স্মৃতি ।। মানুয়েল চাম্বুগং

মুখ ও দাঁতের যত্নে প্রথম যে ৩টি কাজ আপনাকে করতেই হবে ।। মার্ক প্রত্যয় রেমা

মুখ ও দাঁত নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা ।। ডা. মার্ক প্রত্যয় রেমা

ব্যথাকে নয় রোগকে ভালো করুন ।।  ডেন্টাল সার্জন মার্ক প্রত্যয় রেমা

বাবা’রা কেমন হয়? ভাবি… ।। পরাগ রিছিল

ওয়ানগালার তাৎপর্য ও গুরুত্ব || রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক

ওয়ানগালার ইতিহাস ।। রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক

দওক্রো সুআ রওয়া বা ঘুঘু পাখির নাচ ।। তর্পণ ঘাগ্রা

বাসন্তী রেমার নতুন জীবনের সূচনা, তৈরি হচ্ছে দোকান ও পাঠাগার

শুভ বিজয়া দশমী ।। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল দুর্গাপূজা




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost