Thokbirim | logo

১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বাবা’রা কেমন হয়? ভাবি… ।। পরাগ রিছিল

প্রকাশিত : নভেম্বর ০১, ২০২০, ২২:৫৯

বাবা’রা কেমন হয়? ভাবি… ।। পরাগ রিছিল

ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ি। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে বাড়িতে কাউকে না বলে সিনেমা দেখতে গিয়েছি কয়েকজন মিলে। নাইট শো। দশটায় শুরু হবে, ভাঙবে রাত একটায়। দিনের বেলা একটা ভীতি তো থাকতো-ই, যদি স্যারদের সাথে সিনেমা হলের আশপাশে দেখা হয়ে যায়! যথারীতি সিনেমা দেখলাম। হল ভাঙলো রাত একটায়। কোন যানবাহন-যানবাহন বলতে একমাত্র রিক্সা; পেলাম না। অগ্যতা হেঁটে বাড়ির পথে যাত্রা। বাড়ির রাস্তার মাঝামাঝি পৌঁছেছি। রাত দেড়টা। দেখলাম আমাদের পিছনে ফেলে চুপচাপ একটি সাইকেল সামনের দিকে চলে গেল। বাবা!
লজ্জা-ভীতি তোলপাড় করতে থাকলো ভেতর মনে…। রাস্তায় দেখা হলো, কিছু বললো না? এবার বাড়িতে গেলে নিশ্চয়ই বকাঝকা খাব? বাবা কি খোঁজ নিতে নিতে, সিনেমা দেখতে গিয়েছে জেনে বাজার অব্দি চলে এসেছেন? সিনেমা হলের সামনে কোনো দোকানে অনেকক্ষণ বসেছিলেন, কখন সিনেমা ভাঙে আর কখন আমাদের চেহারা দেখতে পাবে সেই অপেক্ষায়? না, পরেও আর কোনোকিছুই বলেন নি। মধ্যরাতে আলোআঁধারি রাস্তায় এবার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে গেছি জেনে পেছন থেকে ছায়ার মতো কেবল সামনে চলে গিয়েছিলেন…।
তখন ক্লাস টেন কি ইন্টারে ভর্তি হয়েছি। মাঝেমাঝে শখের বসে গোল্ডলিফ টেনে আশপাশের মানুষদের জানান দেই, আমরা যৌবনে পদার্পণ করেছি! আশপাশে পরিচিত মুরুব্বী আছে কিনা একটু খেয়াল করে নিতে হয়, ব্যস এটুকুই। রাংরাপাড়া মোড়। বাড়ি থেকে কমপক্ষে সাড়ে তিন কিলো দূরে। রাত সাড়ে সাতটা কি আটটা। এখানে পরিচিত মানুষজন আর কে থাকবে? আর এই সময়, রাতে। পলাশ দা রিছিলস্ নামে সেখানে একটি মুদির দোকান দিয়েছেন। পলাশদা নেতা মানুষ। অর্থনৈতিকভাবে সামনে এগোতে এই প্রচেষ্টা। পালাক্রমে ছোট ভাইয়েরা যে যখন সময় পায় দোকানে থাকে। আমরা চারজন সেই দোকানে বসে আনন্দে গোল্ডলিফ কি বেনসন একটা কিছু ধরিয়েছি, অর্ধেকও শেষ হয়নি। এক রিক্সাওয়ালা আমাদের কাছে এসে টর্চলাইট সাধছেন। আমরা সবাই ধরে নিয়েছি, এই লোক ভুলক্রমে ভুল মানুষদের কাছে টর্চ সাধছে, তাই, আমরা তো নই, আমাদেরকে তো কারো টর্চ দেয়ার কথা না। উত্তর দিয়ে জানতে চাচ্ছি, কে টর্চ পাঠিয়েছে? জানতে পারলে যথাযথ প্রাপক খুঁজে পেতে আমরাও সাহায্য করতে পারি, সেই ভাবনায়।
উনি কিনা বলছেন, না, আপনাদেরকেই পাঠিয়েছে! আমরা মাথা উঁচু করে তাকালাম উনি যেদিকে নির্দেশ করছেন, সেদিকে। দেখি, রিক্সায় বাবা চুপচাপ বসে আছেন। অন্ধকারে বাড়ি ফিরে যেতে সমস্যা হবে বলে রিক্সাওয়ালাকে দিয়ে টর্চলাইট পাঠিয়েছেন…।
বাবা’রা কেমন হয়? ভাবি…।

নভেম্বরের এই তারিখে-ই বাবার দেহান্তর ঘটে। বাবার আত্মার সদ্গতির জন্য প্রার্থনা যাচনা করি…।

 মা-বাবার সাথে কবি পরাগ রিছিল। ছবি থকবিরি






সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x