Thokbirim | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আত্মকথা ।। একটি শোক সংবাদ ।। ফাদার শিমন হাচ্ছা

প্রকাশিত : অক্টোবর ৩০, ২০২০, ২২:১৫

আত্মকথা ।। একটি শোক সংবাদ ।। ফাদার শিমন হাচ্ছা

আগস্ট মাসের ১২ তারিখ ২০১৯ খ্রি: ঈদুল আযহার দিন, মুসলমান ভাইদের ধর্মীয় মহোৎসব, একটি আনন্দের দিন; উৎসবের দিন। এ আনন্দের দিনেই মরিয়ম নগর ধর্মপল্লির পাল-পুরোহিত শ্রদ্ধেয় ফাদার সুবল কুজুর সি.এস.সি. সকাল ১০:৩০ মি: বিশপ হাউজে চা খাওয়ার মুহূর্তে এ শোক সংবাদটি আমাকে দিয়ে আমাকে ব্যথিত করেছে। সেটি হলো মরিয়ম নগর মিশনে ফাদারদের ঘরের ডাইনিং হলের ঠিক সামনে আমার নামে কাঁঠাল গাছটি শুকিয়ে এখন মরমর অবস্থা। সংবাদটি পেয়ে খুবই কষ্ট পেলাম।

১৯৮৪ খ্রিস্টব্দের কথা। তখন আমি হোলি স্পিরিট মেজর সেমিনারি বনানী থেকে সবে মাত্র ৩য় বর্ষ শেষ করলাম। আমাকে এক বছরের পালকীয় অভিজ্ঞতার জন্য মরিয়ম নগর ধর্মপল্লিতে পাঠানো হলো। তখন এ ধর্মপল্লিতে ছিলেন শ্রদ্ধেয় ফা: ট্রিপি সি.এস.সি এবং ফা: পিটার রেমা। সেখানে যাওয়ার দিন ও তারিখ আমার মনে নেই, তবে সময়টা ছিলো বিকেল ৩টা। আমি সেখানে যাবো, তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফাদারদের সাথে দেখা করার জন্য সেখানে একটি রেওয়াজ ছিলো যে, আগে গির্জা ঘরে গিয়ে প্রার্থনা করতে হবে, আমিও তাই করলাম। গির্জা ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই অনিল কুবি, প্রদীন চিরান; সুদিন চিরান; জেরুম ম্রং (স্কুল পরিদর্শক) ও বাসিন মাস্টার আমাকে পথ দেখিয়ে আমার থাকার ঘরে নিয়ে গেলেন। তাদের সাথে সাক্ষাতের প্রথম দিনে তাদের অভ্যর্থনা, আতিথ্য আমার ভালো লাগল। ইতোমধ্যেই আমার আসার সংবাদ পাওয়া মাত্র ফাদার ট্রিপি সি.এস.সি ঘর থেকে বেরিয়ে আমাকে চা খাওয়ার জন্য ডাইনিং হলে নিয়ে গেলেন। ফাদার পিটার রেমা তার চিরাচরিত অভ্যাস মত হাতে প্রার্থনার বই নিয়ে গির্জা ঘরে গেলেন প্রার্থনা করতে। চা খাওয়ার পর ফাদার ট্রিপি সি.এস.সি মিশন কম্পাউন্ড দেখালেন এবং মিশন কম্পাউন্ডে যারা আছেন সিস্টারগণ, হোস্টেলের ইনচাচর্; বাবুর্চি; কর্মচারী; মাস্টারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। রাত্রে খাওয়ার সময় এক বছরের কর্ম পরিকল্পনা দুই ফাদার ও আমিসহ তিনজন মিলে ঠিক করলাম।

কর্ম পরিকল্পনা মাফিক কাজ এগিয়ে চলছে মাস দুয়েক হবে। এরই মাঝে কোন এক দুপুরে খাওয়ার পর আমরা তিনজন আমাদের নিজেদের ব্যবহৃত প্লেট গ্লাস, চামুচ ভাত তরকারির বাসনগুলো ধোয়া মোছা করছিলাম। ঠিক তার পাশে একটি ছোট কাঁঠাল চারা দেখে ফাদার ট্রিপি সি.এ.সি. আমাকে অন্যত্র নিয়ে লাগাতে বললেন। ফাদার ট্রিপিকে আমি বললাম এ কাঁঠাল গাছটি এখানে থাকলে আমরা প্রত্যেক দিন সকাল, দুপুর, রাত্রে পানি দিতে পারব, গরু ছাগল নষ্ট করতে পারবে না, সার গোবর দিয়ে বড় করতে পারব, আর বড় হয়ে ফল ধরলে খাওয়া যাবে। ফাদার ট্রিপি আমার কথা রাখলেন। আমার দায়িত্ব বেড়ে গেল পানি দেওয়া, সার দেওয়া; আগাছা পরিস্কার করা, মাঝে মাঝে বিষ দেওয়া এ সবই আমার প্রত্যেক দিনের রুটিনে পরিণত হলো। গাছটি দ্রুত বাড়তে লাগল। এ গাছের প্রতি আমার এত যতœ দেখে ফাদার ট্রিপি এ কাঁঠাল গাছটির নাম রাখলেন “শিমন কাঁঠাল গাছ”।

এ কাঁঠাল গাছটির বয়স এখন ৩৫ বছর পূর্ণ হলো। তিন (৩) বছর পর ফল ধরা শুরু করলে ৩৩ বছর যাবৎ ফল দিচ্ছে এ গাছটি। প্রতি বছর ৫টি করে ফল ধরলেও ৩৩ X ৫=১৬৫ (একশত পঁয়ষট্টি), শিমন কাঁঠাল গাছটি ১৬৫টি ফল দিয়ে এখানে ফাদার, কর্মচারী, অতিথিদের ছেলেমেয়েদের আপ্যায়ন করেছে; জীবন দিয়ে ৩৫টি বছর মানুষকে তৃপ্ত করেছে। ৩৫টি বছর বেশি কিছু তো নয়। আর এ অপরিণত বয়সে এটি এখন মৃত্যু পথযাত্রী। এ সংবাদ আমার জন্য বেদনার, মনোযন্ত্রণার, অত্যন্ত শোকের। শিমন কাঁঠাল গাছটি মরিয়মনগর মিশন কম্পাউন্ড থেকে ইতিহাসের পাতা থেকে বিস্মৃত হবে, এখানে কর্মরত ফাদার, সিস্টারদের পরম্পরাগত এ গাছটির বিষয়ে কথা প্রচলিত ছিলো এখন থেকে থেমে যাবে এটাই নিয়ম। কিন্তু হোক না নতুন করে শুরু- আগামী প্রজন্মের জন্য- ফাদার সুবল কাঁঠাল গাছ অথবা ফাদার আশিষ আমের গাছ?

সৃষ্টি হোক একটি গল্প, একটি ইতিহাস।



ওয়ানগালার তাৎপর্য ও গুরুত্ব || রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক

ওয়ানগালার ইতিহাস ।। রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক

দওক্রো সুআ রওয়া বা ঘুঘু পাখির নাচ ।। তর্পণ ঘাগ্রা

বাসন্তী রেমার নতুন জীবনের সূচনা, তৈরি হচ্ছে দোকান ও পাঠাগার

শুভ বিজয়া দশমী ।। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল দুর্গাপূজা

নভেম্বরে নতুন গান ‘সালনি থেং’সুয়ে’ নিয়ে আসছে গারো ব্যান্ড দল-ব্লিডিং ফর সার্ভাইভাল

https://www.youtube.com/watch?v=OUjpZh56QXk




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost