Thokbirim | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আত্মকথা ।। রাণীখং-এ ফেলে আসা দিনগুলো ।। ফাদার শিমন হাচ্ছা

প্রকাশিত : অক্টোবর ২৭, ২০২০, ২২:২৪

আত্মকথা ।। রাণীখং-এ ফেলে আসা দিনগুলো ।। ফাদার শিমন হাচ্ছা

১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ সম্ভবত আগস্ট মাস। ঢাকার আর্চবিশপ (প্রয়াত) মাইকেল রোজারিও ভারপ্রাপ্ত পালপুরোহিত হিসেবে আমাকে পাঠানো হলো রাণীখংএ পাল-পুরোহিত ফাদার পরিমল রোজারিও’র স্থানে। যাজকীয় জীবনের মাত্র নয় মাসের অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞগতার দিক দিয়ে নিতান্ত শিশু, অপরিপক্ক। এ সময়ে যে কাজটি করতে হয়েছে সেটা হলো ১৯৮৭খ্রি. ৮সেপ্টেম্বর সদ্য ঘোষিত ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশ ও এ ধর্মপ্রদেশের জন্য মনোনীত প্রথম ধর্মপাল শ্রদ্ধেয় বিশপ ফ্রান্সিস এ.গমেজের অভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য এ ধর্মপল্লির খ্রিস্টভক্তদে সংগঠিত করা; ধর্মপ্রদেশের নির্ধারিত অনুদান সংগ্রহ করা, আর যারা-যারা এ অভিষেক অনুষ্ঠানে যাবে তাদের নামের লিস্ট করা। দ্বিতীয় কাজটি ছিলো ১৯৮৮ খ্রি. ফেব্রুয়ারি মাসে, রাণীখং ধর্মপল্লির ৭৫তম এবং মান্দিদের প্রথম যাজক ফা. ডামিয়েনের যাজকীয় জীবনের ৫০তম জুবিলি উদযাপন করা। এ দুটো কাজ আমার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিলো নিঃসন্দেহে। তবে আর্চবিশপ মাইকেল রোজারিও, মহা-ধর্মপ্রদেশের সকল যাজকবৃন্দ ও রাণীখং মিশনের সকল খ্রিস্টভক্তদের অপার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। ১৯৮৮খ্রি. এপ্রিলের শেষ দিকে আমাকে বিড়ইডাকুনিতে বদলি করা হয়। সেখানে আমি ছয় মাসের মত ছিলাম। এর পর দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ ময়নসিংহ ক্যাথেড্রালে (সাধু পেট্রিকস) ধর্মপল্লির পাল পুরোহিত হিসেবে কাজ করেছি।
২০০১ খ্রি., জানুয়ারি মাসে ভালুকাপাড়ার পাল পুরোহিত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সেখানে ৫ বছর কাজ করেছি। বিশপ পনেন পল কুবি সিএসসি আমাকে রাণীখং মাতৃ ধর্মপল্লিতে পাঠিয়ে দেন বিশেষ একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। এ উদ্দেশ্যটি ছিল-২০১০খ্রি. গারো অঞ্চলে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের শতবর্ষ জুবিলি উদযাপন। এ অনুষ্ঠানটি করা হবে রাণীখং মাতৃধর্মপল্লির পবিত্র মাটিতে যেখানে ক্যাথলিক মণ্ডলীর প্রথম বীজ বপন করা হয়েছিল। এতো বড় অনুষ্ঠানের সমন্বয় সাধন করা একটি বড় চেলেঞ্জ ছিলো আমার জন্য। মনে, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সংশয়, ভয়-নিয়েই এ চেলেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলাম। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো এ কাজে ঈশ্বর স্বয়ং আমার সহায় থাকবেন এবং মানুষের সহযোগিতা তো আমি পাবই। এ শতবর্ষ উদযাপনের জন্য প্রথম যে কাজটি করতে হয়েছে, সেটা হলো বিভিন্ন কমিটি গঠন, বাজেট ও অর্থসংগ্রহ। ধাপে ধাপে নির্ধারিত কাজের জন্য যে কমিটিগুলো করা হলো, তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে সমন্বয় সাধন করা এবং মাঝে মাঝে তাদের সাথে মিটিং করা। কাজটি খুবই কষ্টকর ছিল, কারণ কমিটির সদস্যবৃন্দ প্রায় সবাই বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরত ছিলেন। সবাই ব্যস্ত মানুষ ছিলেন তারা। এরই মাঝে ২০০৭খ্রি. ২রা এপ্রিল, আমার হার্ট এ্যাটাক হয়েছিল, ৯ এপ্রিল (ঊধংঃবৎ গড়হফধু) ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক ও রির্সাচ ইনস্টিটিউটে আমার বাইপাশ অপারেশন হয়েছিল। এ দুর্বল এবং অসুস্থ শরীর নিয়ে প্রায় একটি বছর কাজ করতে হয়েছিল আমার। সকলের প্রার্থনা ও ঈশ্বরের ভালবাসার স্পর্শে আমি সুস্থ হয়ে উঠি। বলা দরকার এ শতবর্ষ উদযাপনের জন্য ব্যস্ত থাকতে হয়েছে আমার। এ ব্যস্ততার কারণে ঠিকমত পালকীয় কাজ সুন্দরভাবে করা হয়ে উঠেনি। তথাপিও এ শতবর্ষ উদযাপনে যে লক্ষণীয় বিষয়গুলো আমার কাছে ধরা পড়েছে সেগুলো পাঠক মণ্ডলীর কাছে তুলে ধরছি-
০১. গঠিত কমিটিগুলো আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন কাজগুলো সুন্দর করার জন্য।
০২. বিশপ, যাজক, ধর্মব্রতধারী- ধর্মব্রতধারিনী ও সর্বস্তরের খ্রিস্টভক্তগণ একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করেছেন।
০৩. ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশসহ বাংলাদেশের অন্য ধর্মপ্রদেশের খ্রিস্টভক্তগণ যথাসাধ্য সক্রিয় সাহায্য সহযোগিতা করেছেন-বিশেষভাবে, অনুদান দিয়ে পরামর্শ দিয়ে এবং কায়িক পরিশ্রম দিয়ে।
০৪. রাণীখং মিশনের আশে-পাশের গ্রামের গারো, হাজং, হিন্দু, মুসলমান তাদের বাড়ি আঙ্গিনা খুলে দিয়েছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অতিথিদের জন্য। তাদের উদারতা ও ত্যাগস্বীকার স্মরণযোগ্য।
০৫. জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন বি.জি.বি.বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণ শান্তি শৃঙ্খলা রাখার ক্ষেত্রে অকুণ্ঠ সহযোগিতা করেছেন।
০৬. জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অনুষ্ঠানে স্বঃতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল যেন একটি সর্বস্তরের জনগণের মিলন মেলা।
০৭. অনুষ্ঠানের সময়ে প্যান্ডেলের ভেতর নীরবতা ও বাইরে শৃঙ্খলা যা দেশি বিদেশি আগত অতিথিবৃন্দের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে।
তারপরেও কিছুটা ত্রুটি-বিচ্ছুটি যে ছিলো না, তা বলা যাবে না। বিশেষভাবে অপর্যাপ্ত পায়খানা ঘর, বাইরে যথেষ্ট বাতি ছিলো না, বিশপ, ফাদার, সিস্টার এবং বিদেশি অতিথিদের তেমন ভাল ব্যবস্থা ছিলো না, জনগণের জন্য যথেষ্ট প্যান্ডেল করা যায়নি। কিছু কিছু মানুষ কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে চেষ্টা করেছে। এ দুর্বলতা দিকগুলোর দায়ভার বহন করতে আমার কোনো লজ্জা নেই।
এর পরেও রাণীখং মাতৃমণ্ডলীতে আমার যাবতীয় কাজ আনন্দের ছিলো, ছিলো সুখের। সকলেই আমাকে যে কোনো কাজে অকুণ্ঠ সাহায্য করেছেন, দিয়েছেন পরামর্শ। আজ এ দিনে সশ্রদ্ধমনে স্মরণ করতে চাই সত্য ধর্ম সন্ধানী জিরিং হাজং, থদিং হাজং, থিমান দাংগ, উজির রুরাম ও সিন্ধু রুগাকে। যারা ন্যায়, সত্য, সুন্দর ও খ্রিস্টের জীবনময় পবিত্র বাণী এ রাণীখংবাসীর হৃদয় মন্দিরে বপন করেছিলেন। আমরা যারা এ বাণী গ্রহণ করেছি, আলোকিত হয়েছি, সামনের দিকে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এ অগ্রপথিকদের ধন্যবাদ।
রাণীখংবাসীরা সৌভাগ্যবান। এ মাটিতে দু দুবার শতবর্ষ উদ্যাপন করা হলো। এ রাণীখং মিশনের ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের ১৩টি মিশনের এক আধ্যাত্মিক বন্ধন রয়েছে। ৮০,০০০(আশি হাজার) ক্যাথলিক খ্রিস্টভক্তদের সাথে রয়েছে নিবিড় সর্ম্পক। এ সম্পর্কের সুতো ধরে আজ এ ধর্মপ্রদেশের সকল খ্রিস্টভক্ত আনন্দিত। রাণীখং ধর্মপল্লির সকল খ্রিস্টভক্তদের অভিনন্দন। শতবর্ষ শুভ হোক, হোক সুন্দর।



আত্মকথা ।। জীবনের বাঁকে নোঙ্গর ।। ফাদার শিমন হাচ্ছা

আত্মকথা ।। আমার বাইপাস অপারেশন ।। ফাদার ‍শিমন হাচ্ছা

আমার প্রিয় মানুষ সুভাষ জেংচাম ।। ফা. শিমন হাচ্ছা

বাসন্তী রেমার নতুন জীবনের সূচনা, তৈরি হচ্ছে দোকান ও পাঠাগার

শুভ বিজয়া দশমী ।। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল দুর্গাপূজা

নভেম্বরে নতুন গান ‘সালনি থেং’সুয়ে’ নিয়ে আসছে গারো ব্যান্ড দল-ব্লিডিং ফর সার্ভাইভাল

ওয়ানগালার তাৎপর্য ও গুরুত্ব || রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক

সোমেশ্বরী(সিমসাং)নদীর অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

আত্মকথা ।। আমার বাইপাস অপারেশন ।। ফাদার ‍শিমন হাচ্ছা

সংগঠনের ৩১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএমএসসি

বাসন্তী রেমার হাতে তুলে দেওয়া হলো দুই লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকা 

কোভিড-১৯ ।। নিজে সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করি।। মানুয়েল চাম্বুগং

সামনে আরো ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় গান নিয়ে আসতে পারবো আশা করছি ।। পিংকি চিরান (এফ মাইনর)

গানের শিক্ষক পল্লব স্নাল স্মরণে ।। মতেন্দ্র মানখিন



 

ভিডিও



https://www.youtube.com/watch?v=_fX-GOMuPWk




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost