Thokbirim | logo

২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আমি বাসন্তীর জন্য কিছু চাইতে এসেছি ।। রাজীব নূর

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৭, ২০২০, ২২:৪১

আমি বাসন্তীর জন্য কিছু চাইতে এসেছি ।। রাজীব নূর

আমি বাসন্তীর জন্য কিছু চাইতে এসেছি। আমার হাত পাতার অভ্যাসটা বন্ধুদের জানা হয়ে গেছে এবং নিশ্চয়ই তাদের অজানা নেই আমি এখন পর্যন্ত কারো কাছে নিজের জন্য কিছু চাইনি, যেন চাইতে না হয় সেই প্রার্থনাও করি। গত বছর দুয়েকের মধ্যে একবার বন্ধুর চিকিৎসার জন্য এবং অন্যবার করোনায় মৃতদের দাফন-কাফনের জন্য প্রকাশ্যে অর্থ সাহায্য চেয়েছিলাম। আরো একবার একটা ক্লোজ গ্রুপে সাহায্য চেয়েছিলাম, বাংলাদেশের সবচেয়ে কম মানুষের জাতি কড়াদের একটি ছেলের জন্য। সেই ছেলেটি এখন আমার বড় ভাই মুস্তাফিজুর রহমান রূপমের তত্ত্বাবধানে দিনাজপুর শহরে এসে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যাই হোক, আমার যারা বন্ধু বাসন্তী রেমার কথা তাদের কারোরই অজানা নেই বলে ধারণা করছি। মধুপুর বনাঞ্চলের পেগামারি গ্রামে বনবিভাগের লোকজন উজাড় করে দিয়েছিল বাসন্তীর কলাবাগান— এ নিয়ে আমি নিজে যত না লিখেছি, তার চেয়ে বেশি লিখেছেন, আমার বন্ধুবান্ধবীরা।
গত ১৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা এটি। টাঙ্গাইলের বনবিভাগ নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানে শোলাকুড়ি ইউনিয়নের পেগামারি গ্রামে বংশপরম্পরায় জমি ভোগকারী বাসন্তী রেমার ৪০ শতাংশ জমির ৫০০ কলাগাছ কেটে ফেলে। এটা বনবিভাগ করতে পারে না। জাতিসংঘের আদিবাসী ঘোষণাপত্রের ৪৬টি ধারার ২৬ ধারায় বলা হয়েছে, যেসব ভূমি, এলাকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ আদিবাসীরা বংশপরম্পরায় ঐতিহ্যগতভাবে ভোগদখল করে আসছে বা ব্যবহার করে আসছে, তার ওপর আদিবাসীদের অধিকার রয়েছে। আবার বলা হয়েছে, রাষ্ট্র এসব ভূমি, অঞ্চল ও সম্পদের আইনগত স্বীকৃতি প্রদান করবে এবং এ ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে আদিবাসীদের রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও ভূমি মালিকানা প্রথাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে।
কর্তনকর্তনকৃত কলাবাগানে বাসন্তী রেমা

কর্তনকর্তনকৃত কলাবাগানে নাতিকে কোলে বাসন্তী রেমা

টাঙ্গাইলের বনবিভাগের কর্তারা এই সব আইন-কানুন জানেন না, অথবা মানেন না। মাঝেমধ্যে মধুপুরের মান্দি গ্রামগুলোতে যাওয়ার সুবাদে আমার জানা আছে, কলাবাগান, পাকা আনারসশুদ্ধ বাগান উচ্ছেদ করে দিতে বনবিভাগের একটুও বাঁধে না। এর আগে ২০১৬ সালেও এমন কাণ্ড করেছিল সরকারের বন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এই বিভাগটি। বন বিভাগ যে বন কেটে বাগান বানাতে চায়, শাল বনে অ্যাকাশিয়া রোপন করে— এই নিয়ে পরে আরো লিখব নিশ্চয়ই।
বাসন্তী রেমার জমির কেটে ফেলা কলাবাগানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমেও প্রকাশ পেলে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। এই ঘটনায় মান্দিরা দিনের পর দিন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করতে শুরু করলে একটা সমঝোতা বৈঠক করে স্থানীয় প্রশাসন। ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই বৈঠকে বনবিভাগ ভবিষ্যতে আর আদিবাসীদের কলা-আনারস না কাটার অঙ্গীকার করেই রেহাই পেয়েছে, কোনো জরিমান দেয়নি। তবে সিদ্ধান্ত হয় বাসন্তী রেমার কলাবাগান ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাঁকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ ১৫ হাজার ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫ হাজার করে টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেবে। প্রকৃতপক্ষে বাসন্তী এখন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের ১৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। আশা করছি ইউনিয়ন পরিষদও টাকা দেবে এবং উপজেলা প্রশাসন বানিয়ে দেবে পাকাঘরটি।

বাসন্তী রেমা

এই সবই বাসন্তীর প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। বিভিন্ন এনজিওর কাছে বাসন্তী রেমার একটি বাড়ি একটি খামার, বালগাওয়া সমিতি, আশা এবং থাংআনি ক্রেডিট এই সংস্থা কয়েকটির কাছে মোট ঋন আছে এক লাখ ৩০,০০০ হাজার টাকা। আমরা সমমনা কয়েকজন বন্ধু মিলে চেষ্টা করছি বাসন্তীকে ঋণমুক্ত করতে। আমার সাংবাদিকতার গুরুস্থানীয়, আমাদের বড়ভাই প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাসন্তীর জমিটাকে নিষ্কণ্টক অবস্থায় এক দফা চাষের ব্যবস্থা করে দেওয়ার। বারী ভাইয়ের উদ্যোগটা কতদূর এগোলো আমার ভালো জানা নেই। আমাদের আহ্বানে এই পর্যন্ত মাত্র ৩৮ হাজার ৩০ টাকা সংগৃহীত হয়েছে। আমরা পুরো দুই লাখ টাকা সংগ্রহ করতে চাই। আমাদের চাওয়া, ঋণমুক্ত বাসন্তীকে তাঁর বাড়ির আঙ্গিনায় বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে একটি মুদিদোকানজাতীয় কিছু করে দেওয়া। ভবিষ্যতে আবার উচ্ছেদের মতো এমন খড়গ নেমে এলে যেন তিনি অসহায় হয়ে না পড়েন। সব মিলিয়ে দুই লাখ টাকা নিশ্চয়ই খুব বড় কিছু নয়।
প্লিজ আপনি আপনার সাহায্যের হাতটি বাড়ান। জানি কোভিট মহামারিতে আমরা সবাই বিপণ্ন তবু আসুন ‘বাসন্তী রেমার নিরাপত্তা হই— ভালোবাসার উষ্ণতায় পাশে দাঁড়াই’
বাসন্তীকে সহযোগিতা পাঠানোর বিকাশ নম্বরগুলো নিচের একটি ছবিতে যুক্ত করা আছে। আপনি চাইলে সরাসরি আমাকেও যোগাযোগ করতে পারেন।

।। রাজীব নূর, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক,দৈনিক সমকাল।


জংজংআ রওয়া  কিংবা জা-চকগা রওয়া  নাচ ।। তর্পণ ঘাগ্রা

বহেরাতুলি গ্রামকেও গ্রাস করছে সোমেশ্বরী ।। জর্জ রুরাম

ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দিঘলবাগ গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ।। অরন্য ই. চিরান

মেথ্রা জাজং নিয়া বা যুবতীদের চাঁদ দেখা নাচ: জিংজিংগ্রিকগা রওয়া বা প্রিয়জনকে ধরে নাচ ।। তর্পণ ঘাগ্রা

ব্রাদার গিউম পেলেন নেদারল্যান্ড রাজার বিশেষ সম্মাননা ‘অ্যাওয়ার্ড অব দ্যা কিং

ইউটিউবটাই আমার ভালোবাসা ।। নীল নন্দিতা রিছিল

গারো ভাষা ও সাহিত্যের স্বরোপ-৪ ।। বর্ণমালা সংক্রান্ত কিছু তথ্য ।। বাঁধন আরেং

https://www.facebook.com/100101444697668/videos/1163701897348748

সামাজিক বনায়নের নামে আদিবাসীদের নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।

Gepostet von Thokbirimnews.com am Mittwoch, 16. September 2020

 





সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost