Thokbirim | logo

১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বহেরাতুলি গ্রামকেও গ্রাস করছে সোমেশ্বরী ।। জর্জ রুরাম

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৪, ২০২০, ২৩:৪৪

বহেরাতুলি গ্রামকেও গ্রাস করছে সোমেশ্বরী ।। জর্জ রুরাম

অঞ্জনের বাবার কথা অনুযায়ী রাণীখং ফুটবল মাঠ থেকে দক্ষিণে ভাংতি বাজারের দোকানদার রমজানের বাড়ি পর্যন্ত নদী ভাঙন ধরেছে। সরেজমিনে দেখা গেল গীতারাণী রিছিল, শান্ত চাম্বুগং, অঞ্জন রেমা, সুরমা রেমা, জোস্না মানখিন, শিপ্রা রিছিলের প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরত্বের গাছগাছালি যতটুকু পারে কেটে ফেলেছে। অনেকে কাটার সময় পাইনি। চোখের সামনে আমার কয়েকটা মেরাগোডা গাছ পইরা গেল। ঘটনা ঘটেছে সন্ধ্যায়। শিপ্রা রিছিলের আকাশি এতোবড় গাছ নদী গর্ভে ভেসে গেলো, কাটার সময় পায়নি।

সুরমা রেমা নদী ভাঙন শিপ্রা রিছিলের ঘাটে বলছিলো “কাটার সময় পাইনি। গাছ পইরা গেল। ঘটনা ঘটেছে সন্ধায়। শিপ্রা রিছিলের আকাশী এত বড় গাছ নদীর গর্ভে ভেসে গেল, কাটার সময় পায়নি। আজ বালুচরে গারো মহিলা, যুবক-যুবতী শিশুরা বস্তায় বালু ভরছে। গারো পরিবারে ঘরগুলো তালা মারা। সবাই সোমেশ্বরী বালুচরে। বালুচরে দেখা গেল ক্ষতিগ্রস্ত ভিটার পরিবারের সদস্যদের। বেশি নদীর পাড় ভেঙছে গীতারাণী রিছিল, সুরমা রেমা, স্বপ্ন রেমা, জোস্না মানখিন ও শিপ্রা রিছিল। দেখা গেল সবাই গারো দু’একজন বাঙালি। বালু ভরছে শিপ্রা রিছিল, খুশি রিছিল, শান্ত চাম্বুগং, স্বপ্ন রেমা, সুরমা রেমা, ছবি রিছিলের মা, মেডোরার মা গীতারাণী রিছিল।

শিপ্রা রিছিল বলছে, আমরা শূন্য থেকে শুরু করেছি। আমরা সবাই স্বেচ্ছাশ্রম সামিল হয়েছি। কেউ সহমর্মিতা প্রকাশ করে সহায়তা দিলে আমরা কৃতজ্ঞভরে স্বাগত জানাব।

সে নদীর দিকে আঙুল তুলে বলছিল, আমাদের মোট ২ একরের মত ভিটাবাড়ি ছিল এখন অর্ধেকও নেই। সব নদীর জলে। স্পীড রিছিল বালুচরে কর্মরত সদস্যদের জানাল বহেরাতুলির যুবকরা কমিটিকে এ কাজে মোট ২০০০.০০ নগদ টাকা প্রদান করেছে। এটাও এক ধরনের সংগ্রাম। প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার লড়াই। বহেরাতুলি গ্রামবাসীরাও সেই সংগ্রামে নেমেছে। সোমেশ্বরী নদী ভাঙন রোধে তারাও আবালবৃদ্ধবণিতা এ সংগ্রামে সামিল। তারা নদীর পাড় ভাঙন রোধ করতে সংগ্রামে নেমেছে। তারা জানে এ সংগ্রামে জয়পরাজয় রয়েছে, তবুও নিজস্ব স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। কে চায় নিজের বাপদাদার  ভিটা চোখের সামনে নদীতে তলিয়ে যেতে!



আরো পড়ুন



ব্রাদার গিউম পেলেন নেদারল্যান্ড রাজার বিশেষ সম্মাননা ‘অ্যাওয়ার্ড অব দ্যা কিং

ইউটিউবটাই আমার ভালোবাসা ।। নীল নন্দিতা রিছিল

গারো ভাষা ও সাহিত্যের স্বরোপ-৪ ।। বর্ণমালা সংক্রান্ত কিছু তথ্য ।। বাঁধন আরেং

https://www.facebook.com/thokbirim/videos/782974379102661

লেখক ও মানবাধিকারকর্মী সঞ্জীব দ্রং

ব্রাদার গিউমের বাংলাদেশে বসবাসের সময় ৪০ বছর পূর্ণ হলো এই বছর। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে ব্রাদার বাংলাদেশের মানুষজনদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সেই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই প্রথম বাংলাদেশে অবস্থানরত নেদারল্যান্ডবাসী ব্রাদার গিউম নেদারল্যান্ড রাজার বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার অ্যাওয়া্র্ড অব দ্যা কিং’ পেলেন। সেই সম্মাননা প্রাপ্তি নিয়ে কথা বলছেন বিশিষ্ট লেখক ও মানবাধিকারকর্মী সঞ্জীব দ্রং

Gepostet von Thokbirimnews.com am Freitag, 9. Oktober 2020




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost