Thokbirim | logo

৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

দেশে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গ্রামীণ আদিবাসী নারী এবং তাদের কৃষি পদ্ধতির গুরুত্ব

প্রকাশিত : অক্টোবর ১২, ২০২০, ২০:৩২

দেশে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গ্রামীণ আদিবাসী নারী এবং তাদের কৃষি পদ্ধতির গুরুত্ব

এক

যদিও পৃথিবীতে নারী এবং পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা হইনি, সে-ই জন্যই অনেক নারীবাদী কিংবা নারীদের অধিকারের পক্ষে যারা কথা বলেন তারা সর্বদায় চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যেন নারী এবং পুরুষের সমতা এই পৃথিবীতে সমানভাবে প্রতিষ্ঠা হয়।নারীদের প্রতি সকল ধরনের বৈষম্যমমূলক আচরণ যেন হ্রাস পায়।কিন্তু বাংলাদেশে নারী এবং পুরুষের যে বৈষম্য তা নিতান্তই খুব কম নয়! বরং প্রকট এবং সাংঘাতিক।নারীদের উচ্চশিক্ষা, কর্মের দক্ষতা, জীবন জীবিকার সংগ্রাম, ব্যক্তিগত  সম্পদ, রাজনৈতিক ক্ষমতা, পরিবার ও সমাজে অবস্থান কোন কিছুতেই নারীদের অধিকার শক্তপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নারীর মানবাধিকার, লিঙ্গ বৈষম্য, আইনি ব্যবস্থা, ভূমি মালিকানা এবং তাদের কর্ম পরিবেশ নিয়ে অর্থাৎ নারীরা সবদিক দিয়েই পিছিয়ে এবং বৈষম্যের শিকার।সুতরাং আমরা বলতেই পারি দেশে নারী এবং পুরুষের সমতা আনয়নে কিংবা বৈষম্য মূলক সমাজব্যবস্থা দূরীকরণে আরো অনেক বছর পাড়ি দিতে হবে।সু-শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে বৈষম্য মূলক আচরণ পরিবর্তন সম্ভব নয়। এবং গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমতা এবং ক্ষমতায়নের জন্য চারটি বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন৷ প্রথমত: ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নারীর মালিকানা স্থাপন।দ্বিতীয়ত: মানসম্মত কাজের পরিবেশ ও মজুরি৷ তৃতীয়ত: শান্তি ও ন্যায়বিচার বা নায্যতা৷ এবং চতুর্থত: সব স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা৷

সুতরাং বলাই যায়, নারী এবং পুরুষের সমতা ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে হলে সকলের অংশগ্রহণ সমান তালে প্রয়োজন।

দুই

তবে বৈষম্যের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমী আছে, আদিবাসী সমাজে বা সমাজব্যবস্থায়। মূলধারা সমাজের সাথে আদিবাসী সমাজ ব্যবস্থার বিস্তর ফারাক।ফলে আদিবাসী সমাজ থেকে নারী ও পুরুষের সমতা বাস্তবায়নে একটি অনুকরণীয় পন্থা হতে পারে।কেন না আদিবাসী সমাজে যেমন নারীদের গুরুত্ব আছে তেমনি পুরুষদেরও গুরুত্ব আছে।যদি বলা হয়, আদিবাসী সমাজে বৈষম্য কী একেবারেই নেই। তাহলে বলবো, বৈষম্য যে নেই সেটা বলা যাবে না, তবে হ্যাঁ মূলধারা জাতির চাইতে আদিবাসী সমাজে বৈষম্যের হার অনেক অনেক কম।ফলত আদিবাসী সমাজে নারী ও পুরুষের বৈষম্যের মাত্রা যেমন কম তেমনি নারীর সম্মান অনেক উচ্চতায়।

বাংলাদেশে গারো এবং খাসিয়া জাতিগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক বা মাতৃসূত্রীয় সমাজ।যে সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের নিয়ে গিয়েছে অন্য উচ্চতায়।যে সমাজে ‘ধর্ষণ’ শব্দ বলতে কোন শব্দ  নেই।আদিবাসী সমাজে নারী রাতে একা যেতেও ভয় পায় না, নিশ্চিতে রাতে চলাফেরা করতে পারে।যে সমাজে পুরুষদের সাথে সমান তালে কাজে যেতে পারে, কাজ করতে পারে।পরিবার কিংবা সমাজে নারীদের কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।

মূলধারা’র যে সমাজ এখন যেগুলো চিন্তা করছে বাস্তবায়নে জোর দাবি জানাচ্ছে। সেই চিন্তাগুলো  আদিবাসী সমাজ অনেক আগেই বাস্তবতায় করেছে সফলতার সাথে।যা আজো বিদ্যমান রয়েছে।নারী পুরুষের সমতার যে সৌন্দর্য সেটা আদিবাসী সমাজেই দেখতে পাওয়া যায়।বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আদিবাসী নারী অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

তিন

আদিবাসীদের কৃষিপদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম। কেন না আমরা যতই আধুনিক হচ্ছি ডিজিটাল দেশের স্বপ্ন দেখছি ততই আমরা প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।ফলে প্রকৃতি অসুস্থ্য হলে, মানুষ কখনোও সুস্থ্য থাকতে পারে না।সুতরাং প্রকৃতি যদি সুস্থ্য থাকে মানুষ অবশ্যই সুস্থ্য থাকবে।আমরা উচ্চফলনশীল ফসলের জন্য অতিরিক্ত সার বিষ প্রয়োগ করছি।ফলে মাটির গুণাগুণ যেমন নষ্ট হচ্ছে। তেমনি মরে যাচ্ছে উপকারী কীটপতঙ্গ। বিষ পানিতে মিশে মাছ মরে যাচ্ছে।বিষাক্ত ফলমূল খাবার খাচ্ছি, বিষাক্ত পানি পান করছি।সেই জন্য যেমন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে তেমনি নানা ধরনের অসুখবিসুখের মধ্যে পড়ছি।নানা রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। ফলে আমাদের বুঝতে হবে, সবকিছুই একে অপরের সাথে পরিপূরক।প্রকৃতি ক্ষতি মানে মানুষ জীবজন্তু সবকিছু’রি ক্ষতি।

আদিবাসীদের চাষাবাদ ছিল জুম কেন্দ্রীক। জুম চাষকে ঘিরে নানা উৎসব আমেজ পার্বণ কৃত্য ও কৃত্যকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।জুম চাষে সারবিষ প্রয়োগের কোন মারাত্মক সিদ্ধাত নিতে হতো না।প্রকৃতিকে ক্ষতি করে কোনদিন চাষাবাদ হতো না।প্রকৃতির প্রতি আদিবাসীরা যেমন কৃতজ্ঞ ছিল, তেমনি প্রকৃতির মাঝে বেড়ে উঠা প্রকৃতির দেখাশোনার ভালো মন্দ আদিবাসীরাই জানতো, বুঝতো। প্রথাগত যে চাষবাদ তা আজকের আধুনিক কৃষিতেও যা এখনোও প্রাসঙ্গিক।

কৃষি যেমন নারীদদের হাত ধরে আবিষ্কার ঠিক তেমনি জুম চাষাবাদে নারীদের গুরুত্ব অত্যাধিক। আদিবাসী সমাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের কৃষিতে সম্পৃক্ত সমানে সমান।এবং আদিবাসী এলাকাগুলোতে মজুরি একই(যদিও অনেক জায়গায় পার্থক্য আছে)।কৃষির জায়গাগুলোতে আদিবাসী নারীদের অংশগ্রহণ ঈর্ষণীয়। কেন না আদিবাসীদের সমাজ ছিল জুম চাষ কেন্দ্রীক। পার্বত্য চট্রগ্রাম ব্যতীত কোথাও এখন জুম চাষ করা হয় না।

চার

পরিশেষে বলতে চাই,নারী এবং পুরুষের সমতা আনয়নে যেমন দরকার দীর্ঘ দিনের সুস্থ্ সমতার চর্চা।তেমনি দরকার নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, সম্মান এবং ন্যায্যতা প্রদান।আদিবাসী সমাজে সুদীর্ঘ কাল নারীর প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ সম্মান ও ক্ষমতা আনয়নের সুপ্রাচীন রীতি চলে আসছে তা একদিনেই গড়ে উঠেনি।সুতরাং মূলধারা জাতির সেই চর্চা’টাই করতে হবে যাতে নারী ও পুরুষের সমতা নিশ্চিত হয়।এখানে আদিবাসী নারী ও আদিবাসীদের কৃষি পদ্ধতির যে পন্থা তা বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে পথ দেখাবে।

বৈষম্যের ব্যবধান মুছে যাক, নারী এবং পুরুষের সমতার সমাজ এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা হোক।

লেখক : জাডিল মৃ

কভার ছবি : নীল নন্দিতা রিছিল

জাডিল মৃ তরুন লেখক ও ব্লগার

জাডিল মৃ লেখক ও ব্লগার

জাডিল মৃ লেখক ও ব্লগার



ব্রাদার গিউম পেলেন নেদারল্যান্ড রাজার বিশেষ সম্মাননা ‘অ্যাওয়ার্ড অব দ্যা কিং

ইউটিউবটাই আমার ভালোবাসা ।। নীল নন্দিতা রিছিল

গারো ভাষা ও সাহিত্যের স্বরোপ-৪ ।। বর্ণমালা সংক্রান্ত কিছু তথ্য ।। বাঁধন আরেং

https://www.facebook.com/thokbirim/videos/782974379102661

লেখক ও মানবাধিকারকর্মী সঞ্জীব দ্রং

ব্রাদার গিউমের বাংলাদেশে বসবাসের সময় ৪০ বছর পূর্ণ হলো এই বছর। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে ব্রাদার বাংলাদেশের মানুষজনদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সেই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই প্রথম বাংলাদেশে অবস্থানরত নেদারল্যান্ডবাসী ব্রাদার গিউম নেদারল্যান্ড রাজার বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার অ্যাওয়া্র্ড অব দ্যা কিং’ পেলেন। সেই সম্মাননা প্রাপ্তি নিয়ে কথা বলছেন বিশিষ্ট লেখক ও মানবাধিকারকর্মী সঞ্জীব দ্রং

Gepostet von Thokbirimnews.com am Freitag, 9. Oktober 2020




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost