Thokbirim | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কামারখালি গ্রামবাসীরা এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করল ।। জর্জ রুরাম

প্রকাশিত : অক্টোবর ০২, ২০২০, ১৫:১৯

কামারখালি গ্রামবাসীরা এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করল ।। জর্জ রুরাম

‘নারী অবলা নারী দুর্বল, তারা কঠিন কাজের যোগ্য নয়’-এ কথাগুলো মিথ্যে করে শত শত নারী আজ তপ্ত রোদে পুড়ে পুরুষদের সাথে সামিল হয়ে সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে বালু তুলছে। বস্তায় বালু ধরে পুরুষের সাথে এক কাতারে বালু ভরা বস্তা সেলাই করছে। কোন ক্লেশ নেই চেহারায়। এক সাথে পুরুষ, যুবা, প্রবীণ, যুবকদের সাথে রোদে পুড়ে স্বেচ্ছায় হাসি মুখে কাজ করছে সবাই।

এখানে সামিল হয়েছে গারো, হাজং, হিন্দু আর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম পরিবারগুলোও। কোন বাদ-বিচার নেই, কোন পার্থক্য নেই। সবাই একাত্মতাও প্রকাশ করেছে লক্ষ্য সোমেশ্বরী নদীর পাড় ভাঙন রোধে নিজের বসতভিটা সুরক্ষা।

এখানে তুমি মুসলিম, তুমি হিন্দু, তুমি হাজং বা তুমি গারো এমন কোন হীনমন্যতা নেই। মুসলিম মহিলার পান সুপারি খাচ্ছে আরেক গারো মহিলা। এক হিন্দু মহিলা গারো মহিলার আনা তেঁতুলের শরবত পান করছে অবলীলাক্রমে। কী সুন্দর মিলন, কী সহমিলন, কি ঐক্যবদ্ধতা।

সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। শ্লোগান একটাই, আমরা আমাদের বসতভিটা নদীর পাড় ভাঙন থেকে রক্ষা করতে চাই। এই নিয়ে কোন ভেদাভেদ নেই, নেই কোন পার্থক্য। যেন সৌহার্দ্য মিলন মেলা বসেছে কামারখালি গ্রামবাসীদের নদীর পারে। এমন সহমিলন, সৌহার্দ্য, কাঁধে কাঁধ রেখে একত্রে সর্ব সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধতার নজির খুব কমই দেখা যায়।

২০২০সাল সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে বসবাসরত গ্রামবাসীদের জন্যে এক বিরাট অভিশাপ। এ বছর নদীর তীর ভাঙন শুধু কামারখালী সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভাঙনের ব্যাপকতা ক্রমে ক্রমে বিস্তৃতি লাভ করেছে বিজয়পুর ক্যাম্পের সংলগ্ন হাজং বসতি, ঐতিহাসিক রাণীখং কবরস্থান, বহেরাতুলি, কামারখালি, বুলিপাড়া, বড়ইকান্দি, থাউশালপাড়া। বেশিরকম ভয়াবহ ভাঙন হয়েছে বারেন্দ্র ড্রং-এর ভিটা, গ্রেগরী রুরাম, সারথী রিছিল, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক ওরফে পলাশ(বেবী রুরামের বাবা) সেবিকা রুগা, মার্থারাণী রিছিল, বিল্লালের বাড়ি, পরমা রুগা, দিলীপ সরকার, দিলীপ সরকারের বাবার পরিবার, পরিমলের পরিবার, সুশীল, সুবলের পরিবার বেশি পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত।

অন্যোপায় না দেখে গ্রামবাসীরা নিজউদ্যোগী হয়ে নদীর পাড় ভাঙন রোধে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। গত ২০ আগস্ট নেত্রকোণার ডিসি, উপজেলার টিএনও, পানি সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাগণ নদী ভাঙন পরিদর্শন করে আশ্বাস দিয়েছিলেন নদী ভাঙন রোধে চিন্তা ভাবনার কথা। দুদিন পর উপজেলার ইউএনও ট্রলারে এসে বস্তা ফেলে শুভ উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু পরে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

কামারখালি গ্রামবাসীরা এলাকার “যুবশক্তি”র সাথে একাত্ম ঘোষণা করে স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিতে নিজেদের বসতভিটা রক্ষার্থে গঠন করে “২০২০-কামারখালি নদী ভাঙগ প্রতিরোধ কমিটি।” কামারখালি গ্রামবাসীদের এ ঘোর সংকটে সহযোগিতার হাত বাড়ায় রাণীখং, বহেরাতুলি, বিজয়পুর, মাধবপুর, কনকা, নয়াপাড়া, বামনপাড়া, নন্দীগোপ গ্রামের যুবকরা। গ্রামবাসীরা প্রযোজনীয় বাঁশ প্রদান করে।

কামারখালি গ্রামবাসীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত কার্যক্রম দেখে ও গ্রামবাসীদের ঘোর বিপদে এগিয়ে আসেন সমাজের বিত্তবান সুজনরা। গ্রামবাসীদের এ ঘোর সংকটে তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আর্থিক অনুদান ও প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক বস্তা দিয়ে যাচ্ছেন।

কমিটির এক অন্যতম সদস্য মিন্টু রিছিল বলছিল, “বস্তার এখন আমাদের আর অভাব নেই, দিনে দিনে অনেকে পাঠাচ্ছেন আমাদের জন্য।”

কারিতাসের গঠিত পাঁচটি ক্লাব যথাক্রমে যথাক্রমে কনিকা মেঘনা ক্লাব, গুচ্ছগ্রাম কংশ ক্লাব, বড়ইকান্দি নেতাই ক্লাব ও বহেরাতুলি সোমেশ্বরী ক্লাবে মোট ৮০জন সদস্য/সদস্যরা কামারখালি গ্রামবাসীদের স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করে গ্রামবাসীদের এ কার্যক্রমে সহায়তা করেছে, সারাদিন কাজ করেছে।

আসকি পাড়া থেকে তুলি চিসিম ও রঞ্জিত রুগার নেতৃত্বে ‘হরিপদ গীতরঙ্গ’ প্রতিষ্ঠানও সহযোগিতা করেছে।

এ কর্মসূচিতে একটি স্পষ্টভাবে লক্ষণীয় হল মহিলারা দলে অনেক ভারি। তারাই হেসেখেলে, পানসুপারি খেয়ে, বোতলের পানি পান করে সারাদিন বালু ভরছে, সেলাই করছে বস্তা।

যুবকরা অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বস্তা উঠানো, ট্রলারে ভরা, চিহ্নিত স্থানে বস্তা ফেলা তারাই কাজটি সমাধা করছে। সামিয়ানা টাঙিয়ে বালু খোড়া ও বস্তায় ভরছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কামারখালি গ্রামের ওপাড়ে যেন মিলন মেলা বসেছে নানা রঙের, নানা বর্ণের। যুবক-যুবতী, মধ্য বয়সী, ষাটোর্ধ প্রবীণ। সবাই এক লক্ষে চলমান,

এখানে কোন ভেদাভেদ নেই, নেই কোনো পার্থক্য। সবাই ঐক্যবদ্ধ। কামারখালি গ্রামবাসীরা এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করল।

 

আরো লেখা…

একতায় বল কিংবা দশের লাঠি একের বোঝা।। জর্জ রুরাম

অলৌকিক স্বপ্ন ।।  বিরেশ বলেন, আমি মরেই গিয়েছিলাম, বেঁচে ফিরেছি  ।। ধীরেশ চিরান

https://www.facebook.com/IndependentTVNews/videos/1211504035676807

আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে বইমেলায় 'থকবিরিম'

একুশে বইমেলায় আদিবাসীদের সাহিত্য চর্চা নিয়ে হাজির হয়েছে #থকবিরিম প্রকাশনী। দেশসেরা প্রকাশনীগুলোর পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে এটি। এক নজরে দেখে নিন……….

Gepostet von independent24.tv am Freitag, 22. Februar 2019




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost