Thokbirim | logo

২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১২ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

‘ওয়াত্তা-চেংআ’ কোভিড-১৯ লকডাউনে অন্যভাবে উপার্জন ।। অনিমেষ তজু

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০, ২৩:১৯

‘ওয়াত্তা-চেংআ’ কোভিড-১৯ লকডাউনে অন্যভাবে উপার্জন ।। অনিমেষ তজু

মহামারি করোনার আতঙ্কে মার্চের ১৮ তারিখ ঢাকা ছাড়লাম। সঙ্গে স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি ধলাপানিতে চলে গেলাম যেখানে জীবনের শিকড়। গ্রামে গিয়ে চারিদিক নয়ন মেলে দেখি- গ্রামের সৌন্দর্য এখনও ম্লান হয়ে যায়নি। শুধু ডিজিটালের ছোঁয়ায় বিদ্যুতের আলোয় গ্রাম রূপবতী হয়ে সেজেছে! বাহ্! গ্রামের বিস্তৃত ধানের ক্ষেত, সবুজ গাছ-পালা, পাখির ডাক, বাগানের ফুল, সকালের সূর্য, রাতের তারারা বেশ মিতালী করছে এখনও। গ্রামের  টাটকা শাক-সবজি, পুকুরের মাছ যেন ভূড়িভোজনের নিমন্ত্রণ করছে । সকাল ও সন্ধ্যায় মায়ের রান্নার সুগন্ধ মন উদাস করছে! সব মিলে এখানে কোভিড-১৯ এর মাঝেও আমার ছেলেবেলার  প্রিয় গ্রামকে ফিরে পেলাম!

মান্দি রুআন

মান্দি রুআন

সময়টি ছিল বড় কঠিন, কোভিড-১৯! আমার বাঁশের বাঁশিতে বিষাদ সুর; কাব্যময় জীবনের ছন্দপতন ঘটাল সহসা! চীনের উহান থেকে করনা যখন বাংলাদেশে পা রাখল, এমনি অফিস-আদালত বন্ধ হয়ে গেল। আমার কিছুই করার রইল না। অতঃপর, লকডাউন চলল নাগাতারে, নিজের ঘরেই হয়ে গেলো বন্দী জীবন। সংকোচিত হল উপার্জন, ফলে সংসার চালানো হলো কঠিন। কিছু দিন গেল উপায় নিয়ে ভাবতে ভাবতেই। কিন্তু মিলাতে পারছি না যে, ভাবছি টুয়িশনি করব? লকডাউনে ছাত্র/ছাত্রী পাব না, তাই করা যাবে না। এমনি সময় মাথায় একটি বুদ্ধি এলো।

ঈশ্বর আমাকে যে তালান্ত দিয়েছে, আমি হাতের কাজ জানি। সেই অনেক বছর আগে করেছিলাম তা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। তাই ঘরে থাকা পুরান দাউ বাজারে নিয়ে ঠিকঠাক মত আগে শান দিয়ে নিলাম। এরপর ৮০ টাকা মূল্যের একটি মড়াল বাঁশ কিনলাম। সে বাঁশকে বেতি ছিঁড়ে কুলা, চালুন, দুলি, খালয়, ডিগা ইত্যাদি বুনন করে বিক্রি করতে শুরু করলাম। বেশ বাঁশের জিনিসের চাহিদা অনেক। এরপর গ্রামবাসীর কাছ থেকে এত অর্ডারি আসতে শুরু করল আমি চাহিদা পূরণ করতে হিমসিম খেয়েও পারলাম না। বিশেষ করে গারোদের মান্দি রুয়ান, মান্দি খকসি, দুলি এর প্রতি এখনও অগাধ ভালবাসা আছে। এভাবে লকডাউনের সময় ৪টি মাস যাবত গ্রামের বাড়িতে কাজ করে টাকা উপার্জন করে সংসারে সহযোগিতা করতে সক্ষম হয়েছি।

সময়ের আর্থিক চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে ওয়াত্তা-চেংআ (বেতি দিয়ে বুনন শিল্প); আমার প্রায় দীর্ঘ বছর না করা কাজ পুন:অনুশীলন করার সুযোগ গ্রহণ করলাম, গ্রামের মানুষকে হারিয়ে যাওয়া পরিবেশ বান্ধব নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর গুরুত্ব মনে করিয়ে দিলাম, অন্যদিকে কোভিড-১৯ এর সময় কিছু পয়সা আয় করলাম। অতঃপর, ২৫ জুলাই আবার গ্রাম ছাড়লাম কাজে যোগদান করতে।

কাজ করতে করতে ভাবলাম, গারোদের ওয়াত্তা-চেংআ চর্চার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা অতীব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা দরকার কথাটি যে, একসময়  গারো পরিবারে ঘরে ঘরে ওয়াত্তা-চেংআ চর্চা ছিল এবং নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অন্য প্রতিবেশীর পরিবারের চাহিদা মিটাত। কিন্তু আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে এই চর্চা। আমি মনে করি যারা এই কাজের দক্ষ লোক বেঁচে আছেন তাঁদের কাছে এই প্রজন্মের শিখে রাখা প্রয়োজন। সর্বোপরি, গারোদের অন্যান্য শিল্প সংস্কৃতির পাশে এটাকেও স্থান দেয়া উচিত। এর জন্য দরকার এই প্রজন্মের সম্মিলিত রেনেসাঁ।

তিনশত (৩০০) গারো, কোচ ও বর্মণ আদিবাসী পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

https://www.facebook.com/IndependentTVNews/videos/1211504035676807

আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে বইমেলায় 'থকবিরিম'

একুশে বইমেলায় আদিবাসীদের সাহিত্য চর্চা নিয়ে হাজির হয়েছে #থকবিরিম প্রকাশনী। দেশসেরা প্রকাশনীগুলোর পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে এটি। এক নজরে দেখে নিন……….

Gepostet von independent24.tv am Freitag, 22. Februar 2019




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x