Thokbirim | logo

১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশের করোনা সংকট : শিক্ষা ভাবনা ও বাস্তবতা ।। পংকজ ম্রং

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০, ২২:৩৭

বাংলাদেশের করোনা সংকট : শিক্ষা ভাবনা ও বাস্তবতা ।। পংকজ ম্রং

চীনের উ্যহান প্রদেশে যখন ২০১৯ ডিসেম্বরের শেষের দিকে করোনা ভাইরাসের খবর এ দেশে প্রচারিত হচ্ছিল তখনও বাংলাদেশের মানুষ জানতো না করোনা ভাইরাস কী। জানুয়ারি কি ফেব্রয়ারির দিকে এ দেশের মানুষ জানতে পারে কিছু সংবাপত্রের মাধ্যমে যে, চীনের কোন এক জায়গা থেকে বাদুর ভক্ষণের ফলে এর বিস্তার।  তবে এখনো তা প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার যখন এদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত বার্ষিকী ১৭ মার্চ পালনে সর্ব দিক দিয়ে প্রস্তুত তখন সে স্বপ্নকে ধুলিশাৎ করে ধেয়ে আসে করোনা নামক ভাইরাস ৮ মার্চে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম বার্ষিকীর সমস্ত কার্যক্রম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থগিত করা হয়। কারণ জননেত্রী শেখ হাসিনা জানেন যে, এদেশের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, জাতির কাণ্ডারী।

১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়।  দফায় দফায়  ছুটি বাড়িয়ে আজও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মত পরিবেশ তৈরি হয়ে ওঠেনি বলা হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত  হয়ত বাড়তে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবার পর শহরের বসবাসরত শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই গ্রামে চলে আসে।  হোস্টেল এবং ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা নামমাত্র একটি বা দুটি বই নিয়ে চলে আসে গ্রামে বা বাড়িতে। তাদের অনেকের ধারণা ছিল না যে, করোনা ভাইরাস এ দেশে এত দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। যার ফলে তাদের পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সেই ক্ষতি পূরণ করার জন্য সরকার সংসদ টিভির মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস সম্প্রচার করে যাচ্ছে।

গত  মে মাস থেকে সারা বাংলাদেশে উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তত্তাবধানে উপজেলা, জেলাভিত্তিক অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। স্বায়ত্বশাসিত স্কুল কলেজের শিক্ষকগন তাদের নির্ধারিত পেজে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন।

এখন কথা হচ্ছে, আমাদের বিদ্যালয় বা কলেজের  শিক্ষার্থীদের আমরা কতটুকু অনলাইন ক্লাসে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হচ্ছি? প্রথম আলো অনলাইন পত্রিকার তথ্যমতে অনলাইন ক্লাসে মফস্বল অর্থাৎ গ্রামের তুলনায় শহরের শিক্ষার্থীরা এর সুফল পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি যে,  ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী সংসদ টিভিতে অংশগ্রহণ করে থাকে। পরিবেশ পরিস্থিতি এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে, যে শিক্ষার্থীদের সম্মানিত শিক্ষকগন মোবাইল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতেন এখন বাধ্য হয়ে তাদের বলতে শোনা যাচ্ছে অনলাইনে ক্লাসে অংশগ্রহণ কর। একটি স্বনামধন্য পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়মিত কলামে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি লিখেছেন যে, বর্তমানে প্রযুক্তিগত যত ব্যবস্থাই নেওয়া হোক না কেন ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার এর বিকল্প হতে পারে না। অর্থাৎ শ্রেণিকক্ষের বিকল্প  ডিজিটাল পদ্ধতি সব জায়গায় কার্যকর নয়। অনলাইন ক্লাস শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আওতায় আনা শিখন অনুশীলনে আনা নয়। তারপরও দেশের তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে আজ এই ক্রান্তিকালে শিক্ষার্থীদের কিছুটা বইমুখী করতে পারছে এটাই বলতে হবে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় সার্থকত।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে না পেরে আত্মহত্যার মত জঘন্য পথটা বেছে নিয়েছিল সেখানকার এক শিক্ষার্থী যা আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি এবং সেটি সবার  কাম্য ছিল না।

তবে বাংলাদেশ সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয় শিক্ষার্থীদের অনুকুলে সব সময় কথা বলছেন এবং তাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল চিন্তা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় পিইসি ও জেএসসির মত পাবলিক পরীক্ষা বাতিল এবং পরীক্ষার সিলেবাস সীমিতকরণের কথা বলা হচ্ছে। এমনও বিকল্প চিন্তা এবং প্রস্তাবনা সংবাদে প্রকাশ পাচ্ছে যে, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মত পরিবেশ তৈরি না হলে পূর্ববর্তী পরীক্ষার মূল্যায়নের মাধ্যমে অটো প্রমোশনের মাধ্যমে উত্তির্ণ করে দেয়া।

২৪ জুলাই ২০২০ সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী,  করোনার কারণে সারাদেশে ৩০ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়তে পারে।

এর মধ্যে বড় একটি সমস্যা বাল্য বিবাহ।  করোনার কারণে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের অকালে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। গোপণে অনেক অভিভাবক মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন আশংকাজনক হারে।  থানা পর্যায়ে কিছু বিয়ে আটকানো গেলেও তা আবার পরবর্তীতে গোপনে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে এমন খবরও পত্রিকায় প্রকাশিত পেয়েছে। বাল্য বিবাহ নিয়ে ২৮ সেপ্টেস্বর প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে একজন দায়িত্বশীল উর্ধ্বতন থানা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন যে, করোনার শুরুতে বাল্যবিবাহ কম ছিল কিন্তু গত কয়েক মাসে তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঝরে পড়া শিশু বা শিক্ষার্থীরা করোনার সময়ে পরিবারের অভাব অসচ্ছলতার কারণে দৈনিক দিন মজুরি দিয়ে শ্রম দিচ্ছে যা শিশু অধিকার পরিপন্থি। পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত থাকায় অনেক ছেলে শিক্ষার্থী বিপথগামি হচ্ছে।

ইন্টারনেশনাল ডে টু প্রটেক্ট এডুকেশন ফ্রম এ্যাটাক শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সম্মিলিত বৈশিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

এখন সাধারণ জনগনের প্রশ্ন কবে খুলে দেয়া হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান?  করোনা যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কী বন্ধই থেকে যাবে মাসের পর মাস?

উত্তরটা সহজ। সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেবার প্রস্তুতিতে কিছু নির্দেশনা ইতিমধ্যে জারি করেছে। সব রকম প্রস্তুতি নিয়েই পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকুল হলে সরকার সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে শেষ কথার একটি কথা সেটা হল আমাদের সরকারি নির্দেশনাগুলো মানতে হবে। যিনি দেশকে সফলভাবে পরিচালনা করছেন, যিনি শিক্ষার্থীদের ভালর জন্য সব সময় চিন্তা করছেন তিনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে সবার বিশ্বাস। লকডাউন উঠিয়েছেন সবার কথা ভেবে।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না খোলাটাও সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

সহায়ক : দৈনিক প্রথম আলো ও অনলাইন পত্রিকা।

পংকজ ম্রং : একটি বেসরকারি হাই স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক।

দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের সংহতি প্রকাশ: বাসন্তী রেমার পাশে থাকার প্রত্যয়

কাউকে ঠকাবো না, নিজেও ঠকবো না ।। মানুয়েল চাম্বুগং

আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে বইমেলায় 'থকবিরিম'

একুশে বইমেলায় আদিবাসীদের সাহিত্য চর্চা নিয়ে হাজির হয়েছে #থকবিরিম প্রকাশনী। দেশসেরা প্রকাশনীগুলোর পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে এটি। এক নজরে দেখে নিন……….

Gepostet von independent24.tv am Freitag, 22. Februar 2019

https://www.facebook.com/IndependentTVNews/videos/1211504035676807




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x