Thokbirim | logo

১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বৈঠকে আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা আন্দোলনে যাবো – জন যেত্রা

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০, ১৭:৫১

বৈঠকে আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা আন্দোলনে যাবো – জন যেত্রা

থকবিরিম : দাবি দাওয়া যদি মানা না হয় তাহলে আন্দোলনের মোড় কি ঘুরে যাবে?

জন যেত্রা : ২৪ তারিখ অবস্থান কর্মসূচি এবং বনবিভাগের সাথে ভিকটিমসহ আদিবাসী প্রতিনিধিদের বসার কথা।বনবিভাগ বলেছে আমরা আপনাদের প্রতি আন্তরিক আমরা সমাধান করতে চাই। আর লোকাল প্রশাসনও আমাদের বলেছে যে বৈঠকের আগে যেন আমরা কর্মসূচি না দেই। তাই আমরা আপাতত কোনো কর্মসূচিতে যাবো না। যদি ঐদিন বৈঠক ফলপ্রসু না হয় আমাদের দাবি দাওয়া যদি না মানা হয় তাহলে আমরা বসে থাকবো না, আন্দোলনে যাবো। এমনও হতে পারে আমরা ঐদিনই বিক্ষোভ সমাবেশ করবো, রেঞ্চ অফিস ঘেরাও করবো। আমাদের সর্বশেষ চিন্তা যে আমরা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করবো।

থকবিরিম : জমি কিংবা বাগান নাকি বাসন্তী রেমার না? সে নাকি লিজ দিয়েছে অন্য একজনকে?

জন যেত্রা :  বন বিভাগ তো বিভ্রান্ত করার জন্য শুরু থেকেই বলে আসছে এটা বাসন্তী রেমার জমি না, লিজ দিয়েছে এইভাবে নানা ধরনের কথা বলছে, কৌশল অবলম্বন করছে। আবার তারা বলছে যে বাসন্তী রেমার কলাগাছ হলে তারা কাটতো না। এভাবে তারা শুরু থেকেই বিভ্রান্তি মূলক কথা বলে আসছে। তারা ২৩ তারিখ পর্যন্ত দিবে এটা আমরা জানি।কিন্তু এইসব বলে তো আন্দোলনের মোড় ঘুরানো যাবে না। বা  এটা বলার কারণ হচ্ছে যাতে বাসন্তী রেমাকে ক্ষতিপূরণ দিতে না হয়। কিন্তু এই জমি আসলে বাসন্তী রেমারই। সে নিজেই আবাদ করেছে।

থকবিরিম : তোমাদের সাথে কে কে যুক্ত আছে? কে নেতৃত্ব দিচ্ছে?

জন যেত্রা : আমি তো শুরু থেকেই সমন্বয়ের কাজ করে যাচ্ছি। বিক্ষুব্ধ আদিবাসী জনতার ব্যানারে যে আন্দোল হচ্ছে এই আন্দোলনের সাথে অনেকেই যুক্ত আছে।অনেকেই সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জয়েনশাহী আদিবাসী পরিসদের ভূটিয়া শাখা সহযোগিতা করছে আরো সামনে ২৪ তারিখে যে বৈঠক তখন অনেকেই যুক্ত হবেন।

থকবিরিম : জয়েনশাহী আদিবাসী পরিষদ বা TWA কতটুক ভূমিকা পালন করছে?

জন যেত্রা : তারা সহযোগিতা করছে যতটুকু সম্ভব। তবে সক্রিয় আন্দোলনে এলাকাবসী, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, জয়েনশাহী আদিবাসী পরিসদের ভূটিয়া শাখা সভাপতি এডুয়ার্ড সিমসাং তারাই মূলত শুরু থেকে সহযোগিতা করে আসছে।

থকবিরিম : তোমাদের প্রধান চাওয়াটা কি?

জন যেত্রা : আমাদের সাতটি দাবি আছে। দাবিগুলো হচ্ছে

১. উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আদিবাসীদের বসব ভিটা ও আবাদি জমিতে  কোনো ধরনের বনায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ না করা।

২. বনবিভাগের যেসকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারিরা অন্যায়বাবে বাসন্তী রেমার আবাতি জমির কলাগাচ কেটে ফেলেছে তাদের স্বীয় দায়িত্ব থেকে অনতিবিলম্বে অপসারণপূর্বক সুষ্ঠ তদন্ত ও সুবিচার নিশ্চিত করা।

৩. ক্ষতিগ্রস্ত বাসন্তী রেমাকে ফসলে ক্ষতির দিগুনপরিমাণে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা

৪. জনপ্রতিনিধি বনবিভাগ ও আদিবাসী প্রতিনিদিদের নিয়ে আদিবাসী ও বন বিভাগের সীমানা চিহ্নিত করা

৫ . আদিবাসীদের বাসভূমি এোকাগুলোতে ঘোষিত গেজেটসমূহ অনতিবিলম্বে বাতিল করা

৬. আদিবাসীদের নামে মিথ্যা বনমামলা প্রদান ও হয়রানি বন্ধ করা

৭ . ঐতিহ্যবাহী আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি অধিকার সংরক্ষণ ও বসতভিটা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি ও হয়রানি বন্ধ করা।

এটা হচ্ছে বিক্ষুদ্ধ আদিবাসী জনতার সাত দফা দাবি। আমরা চাই ভূমি সমস্যার সমাধান হোক। কারণ কিছুদিন পর বনবিভাগ দাবি করবে এটা আমাদের জমি আদিবাসীরা বলবে এটা আমাদের জমি এই যে আদিবাসী এবং বনবিভাগের বিরোধ এই বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।

এখন আমদের দাবি অনুযায়ী ক্ষতি পূরণ যদি না দেয় তাহলে বৈঠকের উদ্দশ্যই থাকলো না। আর ক্ষতি পূরণ যদি না দেয় তাহলে আমি মনে করি বাসন্তী রেমার প্রতি খুবই অবিচার করা হবে। আর ক্ষতি পূরণ না দিলে দাবির জন্য আমাদের আন্দোল অব্যহত রাখতে হবে।

থকবিরিম : ২৪ তারিখের আগে কোনো কর্মসূচি?

জন যেত্রা : আজকে পর্যন্ত আমদের কোনো কর্মসূচি নাই।কিন্তু কর্মসূচি দেবার মতো কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হলে, বনবিভাগের কার্যক্রম আমাদের বাধ্য করালে আমরা  দিতেও পারি।

থকবিরিম : আন্দোলন থামানোর জন্য তোমাদের নামে মামলা করবে কিনা?

জন যেত্রা : সম্ভাবনা আছে। তারা আমাদের নামে মামলা করবে। যেহেতু আমরা দাবি আদায়ে সোচ্চার হচ্ছি ফলে তারা আমাদের দমাতে মামলা করে দিতে পারে। মামলা তো তারা যে কোনো সময় দিয়ে দিতে পারে। বন আইনে বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারিদের অধিকার দেয়া আছে তারা যে কোনো ব্যক্তির নামে যে কোনো সময বিনা কারণে বিনা অপরাধে তথ্য প্রমাণ ছাড়াই মামলা করে দিতে পারে। এখন আমি, ভিকটিম যারা, তারপর রিচর্ডা  বিপ্লব সিমসাং, ফিলিপ কুবি আমাদের এই কয়েকজনের নামে বন বিভাগ মিথ্যামালা করতেও পারে।

##

জন যেত্রা ছাত্রনেতা। ১৪ সেপ্টেম্বর মধুপুরের পেগামারী গ্রামে বন বিভাগ কর্তৃক বাসন্তী রেমার কলবাগান কর্তনের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ বিক্ষুদ্ধ আদিবাসী জনতার সমন্বয়ক’ হিসেবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জন যেত্রার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন থকবিরিমের বিশেষ প্রতিনিধি জাডিল মৃ।

 

আরো লেখা…

করোনাকালে মধুপুর শালবনে কলাগাছের লাশ ।। পাভেল পার্থ

মধুপুরে গারোদের বসবাস তিন থেকে সাড়ে তিনশ বছর আগে ।। সুভাষ জেংচাম

একান্ত আলাপে বাসন্তী রেমা- ‘আমি জীবনেও এই জমিতে গাছ লাগাতে দিবো না’

https://www.facebook.com/thokbirim/videos/1163701897348748

সামাজিক বনায়নের নামে আদিবাসীদের নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।

Gepostet von Thokbirimnews.com am Mittwoch, 16. September 2020

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost