Thokbirim | logo

৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কিংবদন্তি গারো নেতা খেলারাম ভূঁইয়া

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০, ১৯:৫৮

কিংবদন্তি গারো নেতা খেলারাম ভূঁইয়া

প্রভাবশালী গারো নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম- খেলারাম ভূঁইয়া। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজলার কালিয়ানীকান্দা গ্রামে বসবাস করতেন। শেরপুর এলাকা থেকে শতবছর পূর্বে এখানে এসে বসতি গড়ে তোলেন। হালুয়াঘাটের দুজন গারো কয়েকশো একর জমির মালিক ছিলেন। একজন আচকিপাড়ার পরান শাহ এবং দ্বিতীয়জন এই খেলারাম ভূঁইয়া। উভয়েই সমসাময়িক বলে ধারনা করা হয়। খেলারাম ‘ঘাগ্রা’ মাহারীর হওয়া স্বত্বেও কয়েকশো একর জমির মালিক হওয়ার কারণে তিনি ‘ভূঁইয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন। খেলারাম ভূঁইয়ার বংশধরের তেমন কেউ আর হালুয়াঘাটে নেই।
জাতি বিদ্বেষপ্রসূত হিংস্রতার ছোবলে টিকতে না পেরে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। কালের সাক্ষী হয়ে খেলারাম ভূঁইয়ার খননকৃত বিশাল পুকুরটি কালিয়ানীকান্দা গ্রামে তার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এখনো বিদ্যমান রয়েছে। এই পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে খেলারাম ভূঁইয়ার বাড়ি ছিলো। এই বাড়ির স্থানে এখনো কয়েকটি গারো পরিবারের বসবাস রয়েছে।
খেলারাম ভূঁইয়ার নানা কিংবদন্তি এলাকায় এখনো প্রচলিত রয়েছে। প্রচুর টাকা ছিলো তার, তিনি টাকা দিয়ে বিড়ি টানতেন। একবার তার বাড়িতে ডাকাত আসে। তিনি ডাকাতদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “তোদের যা খুশি নিয়ে যা, কিন্তু কারো ক্ষতি করিস না।”
খেলারাম ভূঁইয়ার মেয়ে ছিলো বেশ কয়েকজন। মেয়ের জামাইগণ বেকার ও অলস প্রকৃতির ছিলো। সে কারণে তিনি জীবিত থাকতেই তার অনেক ধনসম্পত্তি শেষ হয়ে যায়।
খেলারাম ভূঁইয়া একজন পরোপকারী সমাজ নেতা ছিলেন। অনেক গরিবকেই থাকার জন্য তিনি নিজের জায়গা দান করে দিয়েছিলেন। তিনি ঠিক কত সালে মারা গেছেন, তা জানা সম্ভব হয়নি। পুকুরের পশ্চিম পাড়ে তাকে দাফন করা হয়েছিলো।
খেলারাম ভূঁইয়ার কবরে ইট ও পাথরের ঢালাইয়ে ‘মঠ’ নির্মাণ করা হয়েছিলো। জনশ্রুতি রয়েছে, খেলারাম ভূঁইয়ার কবরে বহু সোনা-রূপা ও কাঁচা টাকা দেওয়া হয়েছিলো। এতে মানুষের লোভ জন্মায়। সোনা-রূপা চুরি করার ফন্দি করে। কবরে তখন পাহারা বসানো হয়।
চোর তো চুরি করবেই! চোরের দল তখন দূর থেকে মাটির নিচ দিয়ে খনন করে কবর পর্যন্ত চলে আসে।সোনা-রূপা ও টাকা-পয়সা চুরি করে নিয়ে যায়। মঠটি খুবই মজবুত ও দৃষ্টিনন্দন ছিলো। কিন্তু মঠের নিচে মাটি খনন হওয়ার কারণে খু্ব কম সময়েই তা ধসে পড়তে থাকে। গত শতাব্দির শেষ সময়ে মঠটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
##
তথ্যসংগ্রহ ও ছবি:  হালুয়াঘাট দর্পণ
আরো লেখা..

একান্ত আলাপে বাসন্তী রেমা- ‘আমি জীবনেও এই জমিতে গাছ লাগাতে দিবো না’

https://www.facebook.com/thokbirim/videos/1163701897348748

সামাজিক বনায়নের নামে আদিবাসীদের নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।

Gepostet von Thokbirimnews.com am Mittwoch, 16. September 2020




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost