Thokbirim | logo

৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নতুন কোনো অশনি সংকেত মধুপুর গড়াঞ্চলের গারো সম্প্রদায়ের জন্য?

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০, ০০:৪৪

নতুন কোনো অশনি সংকেত মধুপুর গড়াঞ্চলের গারো সম্প্রদায়ের জন্য?

আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর২০২০) বন বিভাগ কতৃর্ক গারো নারী বাসন্তী রেমার ৪০ শতাংশ জমির সমস্ত কলাগাছ কর্তনের প্রতিবাদে মানবন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করেছে  মধুপুরের সম্মিলিত আদিবাসী ছাত্র-জনতা। মানব বন্ধনটি অনুষ্ঠিত হবে জলছত্র ২৫ মাইল বাজারে সকাল ১০টায়। মানব বন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করেছে  ‘মধুপুর সম্মিলিত আদিবাসী ছাত্র-জনতা’।
বিভিন্ন নিউজপোর্টালে প্রকাশ মতে জানা যায় যে, মধুপুর গড়াঞ্চলের গারো অধ্যুষিত  পেগামারী গ্রামের বাসন্তী রেমার ৪০ শতাংশ জমিতে আবাদ করা কলারবাগান জোরপূর্বক কেটে ফেলেছে মধুপুর দোখলা বনবিভাগ কর্তৃক।  সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় কোনো ধরনের মাইকিং কিংবা নোটিশ ছাড়াই বাসন্তী রেমার কলার বাগান কেটে ফেলার ঘটনাটি ঘটে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার উপর ক্ষতি হয়েছে বলে জানান বাসন্তী রেমা।
মধুপুর গড়াঞ্চলের আদিবাসীরা সর্বসময় থাকে বাস্তুভিটা হারানো ভয়ে, সর্ব সময় থাকে নিরাপত্তাহীনতায়। এলাকার বিভিন্ন জনের নামে ১০/১২টা করে রয়েছে বন মামলা।  ২০০৪ সালের ইকোপার্ক বিরোধী আনন্দোলনে প্রাণ দেন পীরেন স্নাল। ২০০৭ সালের গারো নেতা চলেশ রিছিলকে মেরে ফেলা হয়। লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে শিশিলিয়া স্নাল বুলেট বিদ্ধ হন। বর্তমান সময়ে নতুন করে চলছে বনায়ন কিংবা বৃক্ষরোপণের নামে নিরীহ গারো সম্প্রদায়ের বংশপরম্পরায় চাষকৃত জমি দখলের পায়তারা।
প্রথিতযশা সাংবাদিক রাজীব নূর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, -‘টাঙ্গাইলের মধুপুরে কয়েকদিন ধরেই জমি উদ্ধারের নামে স্থানীয় মান্দিদের (গারোদের) মাঠের ফসল ট্রাক্টর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান চালাচ্ছে বনবিভাগ। উপজেলার আরণখোলা ইউনিয়নের আমতলী গ্রামে ইতোমধ্যে ১০ গারো পরিবারের পাঁচ একর জমির আনারস, পেঁপে, আদা, হলুদ, কলা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের পেগামারীতে দরিদ্র বাসন্তী রেমার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কলাবাগানটিও কেটে উজাড় করে দিয়েছে বনবিভাগ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ লোকজন বনবিভাগের রেঞ্জ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
জানা আছে, এই জমির পাশে বনবিভাগের ২০০৭-০৮ সালের দিকে আগর চাষের প্রকল্প ছিল। মান্দিদের দাবি, ওই প্রকল্পের বাইরে থাকা আমাদের এ জমিতে তখনও ফসল ছিল। তখন আগর চাষ ব্যর্থ হয়। আগের ব্যর্থ প্রকল্পের জমির সঙ্গে আমাদের জমি দেখিয়ে বনবিভাগ এখন নতুন করে কাজু বাদাম চাষের প্রকল্প নিয়েছে। এ কারণে আমাদের ক্ষতি করছে তারা।’
এই যে নতুন করে  জমি উদ্ধারের নামে স্থানীয় মান্দিদের (গারোদের) মাঠের ফসল ট্রাক্টর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান এটা কীসের আলামত? একেক সময় একেক নকশা নিয়ে হাজির হন বনবিভাগ। কোন সময় পার্কের নামে দেয়াল তৈরি, কোনো সময় জমি উদ্ধারের নামে চাষকৃত  আনারস, পেঁপে, আদা, হলুদ, কলা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে এটা কী তাহলে নতুন কোনো অশনি সংকেত মধুপুর গড়াঞ্চলের গারো সম্প্রদায়ের জন্য?
।। ডি. আর. মারাক, ময়মনসিংহ




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost