Thokbirim | logo

৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা চু কিংবা ফানি ভিডিও’র বিকল্প কী?।। দিশন অন্তু রিছিল

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০, ১১:১০

সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা চু কিংবা ফানি ভিডিও’র বিকল্প কী?।। দিশন অন্তু রিছিল

  

গ্রামের প্রায় প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি বিশাল ভূমি নিয়ে গড়ে উঠেছে বসতভিটা। বসতভিটায় নানান জাতিয় ফলের গাছ। বিভিন্ন ফলের সিজনে থোকায় থোকায় ফল ধরে। কারোও কারোও আবার ফুলের আচ্ছাদনে আচ্ছাদিত বাড়ির আঙ্গিনা । বহু জমি জিরাত রয়েছে বসতভিটা ছাড়াও। নিজে করে অন্যদের দিয়ে পয়সা উপার্জন করে সেই জমি দিয়ে। পূর্ব পুরুষেরা অনেক পরিশ্রমী ছিলেন, বলছিলেন মধুপুরের এক ধনী কৃষক পাশে বসা আরেক সঙ্গীর সাথে, যার বয়স ৭০ এর কোঠায় । সঙ্গ দেয়া আরেক পুরুষ বলে উঠলেন, এই যে বিকেল হলে গ্রামের ছেলেরা দল বেঁধে খেলার মাঠে দৌড়াচ্ছে, এতে তাদের স্বাস্থ্য ভালো হচ্ছে , মন ভাল থাকছে কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখেন প্রায় ৯৫% ছেলে লেখা পড়ার পাট চুকিয়ে কর্মে নেমে পড়েছে, কেউবা আবার বাপের অন্ন ধ্বংস করছে। পাশেই বসা আরেকজন একটু আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, লেখাপড়ার পাট কোন লেভেলে শেষ করেছে ওরা। উত্তরে প্রথমজন বলে উঠলেন , অধিকাংশই নাইন টেন অবধি আবার কেউ কেউ এগারো- বারো ক্লাস । যখন জ্ঞানের দুয়ার খুলে তখনই জ্ঞানের দুয়ার বন্ধ করে দিয়েছে প্রায় সব ছেলেরাই। তথচ লক্ষ্যনীয় বিষয় এই যে, ইউনিভার্সিটি পড়ানোর মতো ক্ষমতা রয়েছে পরিবারগুলোর বা তাদেরও একটা কিছু করে নিজেদের লেখাপড়া চালানোর ক্ষমতা রয়েছে দেহে ও জ্ঞানে।

এর ফাঁকে দ্বিতীয় ভদ্রলোক বলে বসলো, চু ছেলেদের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। এতো কষ্ট করেও নিজের ছেলেদের ইউনিভার্সিটিতে পাঠাতে পারলেন না। টেনেটুনে দশক্লাশ পাশ করেই ঢাকায় ছুটছে কর্মের আশায় অথচ তাদের আমরা কর্মে যোগদানের জন্যে চাপ দিইনি । পাশে থাকা আরেক ভদ্রলোক বললেন, আমার ছেলেদেরও একই অবস্থা, যখন তারা দখি ফান্থি ছিল , তখন থেকেই চু’র প্রতি আগ্রহ দেখা গিয়েছিল। নাইন টেন পড়া অবস্থায় এর মাত্রা বেড়ে যায়, যা পরবর্তি পর্যায়ে মাত্রারিক্ত হয়ে পড়ে। টেনেটুনে ইউনিভার্সিটি পাস করাতে স্বক্ষম হলেও ইংরেজি বলতে পারে না দুলাইন। আমি তাদের বলি , আমি পাকিস্তান আমলে ক্লাস থ্রি পড়া মানুষ হয়েও যদি কথোপকথন চালাতে পারি ইংরেজিতে , তোমরা ইউনিভার্সিটি পাস করেও কেন তা পার না ? ছেলেদের উত্তর আসে না, আসে নীরবতার উত্তর।

আসাম ভারতের একজন গারো ভাই স্ট্যাটাস দিয়েছেন যে, উনি যতবার গারো ফিল্ম , মিউজিক ভিডিও দেখতে গেছেন, ততবারই মনে হয়েছে গারো ফিল্ম বা মিউজিক ভিডিও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী থেকে ঢেঁড় পিছিয়ে রয়েছে। তার এমন মনে হয়েছে যে, অধিকাংশ ফিল্ম বা মিউজিক ভিডিও হাস্যকর বা ফানি । যারা এই সেক্টরে আসছেন তারা নিজেদের সেরাটা দিচ্ছেন না বা মেধাবীরা আসছেন না। উনার প্রশ্ন হচ্ছে, মেঘালয়ের মতো একটা রাজ্যে অনেকবার সরকার পরিচালনা করা, রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা গারোরা কেন গারোদের উন্নয়নে কাজ করছেন না? তার কথায়, ফিল্ম, গান বিনোদন জগত হচ্ছে ভাষা সংস্কৃতিকে অন্যান্য জাতি গোষ্ঠীর কাছে তুলে ধরে। এসব দেখে অন্যান্য জাতি গোষ্ঠীরা অনুমান করে নেয় এই জাতি কতোটা এগিয়েছে।

সবশেষে উনি এই সেক্টরকে যেনো আধুনিকায়ন করা হয় বা এই সেক্টরে যারা আছেন, কাজ করছেন তারা যেন একুশ শতকের চাহিদা মত বিনোদন তৈরি করেন এর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

দিশন অন্তু রিছিল তরুণ লেখক ও সমাজ কর্মী। ‘গারো ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংকট’ নামে প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে।

 

আরো লেখা…

কূলহারা মানুষের মর্মস্পর্শী গান, প্রশাসনের হৃদয়মূলে পৌছাবে কি?

১৯৬৪ সালের রায়ত ।। আদিবাসী হত্যার জীবন্ত সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছেন এখনও ।। সরোজ ম্রং

https://www.facebook.com/IndependentTVNews/videos/1211504035676807

আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে বইমেলায় 'থকবিরিম'

একুশে বইমেলায় আদিবাসীদের সাহিত্য চর্চা নিয়ে হাজির হয়েছে #থকবিরিম প্রকাশনী। দেশসেরা প্রকাশনীগুলোর পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে এটি। এক নজরে দেখে নিন……….

Gepostet von independent24.tv am Freitag, 22. Februar 2019

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost