Thokbirim | logo

১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-৭ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০, ১১:১৫

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-৭ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

১৯৪৬ সনে মিস হ্যারিস অস্ট্রেলিয়া হইতে এই দেশে ফিরিয়া আসিয়া আবার এই স্কুলের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। মিস জে. এ. রেডম্যান Miss Hogben (মিস হগবেন) এর নিকট হইতে ময়মনসিংহ মিশন ভিক্টোরিয়া বালিকা স্কুলের দায়িত্বভার গ্রহনের জন্য সেখানে গমন করেন। এই বৎসর সরোজ বালা সাংমা কলিকাতা হইতে ফিরিয়া আসিয়া এই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হয়। এই বৎসরে উল্লেখযোগ্য ঘটনা-বাংলা প্রেসিডেন্সির  ছোট লাট লর্ড কেসি এই অঞ্চলে তিন  দিন ব্যাপি সফরকালে এই স্কুলও পরিদর্শন করেন। শুধু তাই নয় তাঁহার বিজয়পুরে অবস্থান কালেও এই স্কুলের মেয়েরা সেখানে গিয়া তাঁহার মনোঞ্জনের জন্য নৃত্য-গীত পরিবেশন করে।

১৯৪৭ সনের আগস্ট মাসে ভারত বিভক্ত হইয়া পাকিস্তান ও হিন্দুস্থান (ভারত) নামে দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়। এই অঞ্চল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের আনন্দ উৎসবে এই স্কুলের মেয়েরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করে। এই বৎসর এই অঞ্চলের হাজং জাতির কমিউনিস্ট আন্দোলনের নামে টঙ্গ প্রথা বিরোধী বিদ্রোহ ভীষণ আকার ধারণ করে। ইহাতে ছাত্রীদের সব সময় ভীত ও সন্ত্রস্ত থাকিতে হয়। এমন কি বিরিশিরি কমিউনিস্টদের দ্বারা আক্রান্ত হইলে বোর্ডিং এর মেয়েদের প্রয়োজনবোধে স্বল্পকরুনীয়া গ্রামে সরাইয়া নিবার ব্যবস্থাও করা হয়।

১৯৪৮ সনে ১৩ জন ছাত্রী সেলাই ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট লাভ করে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির পরীক্ষায় ১৫জন ছাত্রী সকলেই পাশ করে। এথেল মোমিন সেলাই ডিপ্লোমাতে কৃতিত্ব অর্জন করে। ১৯৪৯ সনে স্কুলের শিক্ষিকা সরোজবালা সাংমা বিবাহের জন্য পদত্যাগ করিয়া চলিয়া যান। টাইফয়েড ও অন্যান্য রোগ ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। দুই জন ছাত্রী-কলমি ও সুফলতা মারা যান। তাই বৎসর শেষ হইবার আগেই স্কুল বন্ধ করিয়া দেওয়া হয়। মিস ফ্লো হ্যারিস দীর্ঘদিন কাজ করিবার পর এই বৎসর বিদায় নিয়া দেশে চলিয়া যান।

১৯৫০ সনে গারো ব্যাপ্টিস্ট ইউনিয়নের হীরক জুবিলি উৎসব তারিনীতে জাতীয় মিশন বৈথেলে অনুষ্ঠিত হয়। এই স্কুলের বোর্ডিং এর মেয়েরা তাহাতে যোগদান করে। এক রাত্রিতে উৎসবের অনুষ্ঠান চলাকালে পেট্রোমাক্সের আগুনে সভা মন্ডপে অগ্নিকা- ঘটে। মেয়েরা ও অন্যান্য লোকেরা ভয়ে সভা মণ্ডপ হইতে বাহির হইয়া পড়ে। তবে কোনো লোক আহত হয় নাই। শীঘ্রই সেই প্রজ্জ্বলিত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই বৎসর সীমান্ত এলাকার কমিউনিস্ট আন্দোলন আবার ভীষণ আকার ধারণ করে। ফলে অনেককে বাড়ি ছাড়িয়া অন্যত্র নিরাপদ স্থানে থাকিতে হয়। ইহাতে স্কুলের কাজেরও বিঘ্ন ঘটে। এই বৎসর বোর্ডিং এর নূতন রান্নাঘর নির্মিত হয়।

১৯৫১ সনে বর্ষাকালে এই স্কুলের কিছু সংখ্যক শিক্ষিকা গাইডার ট্রেনিং সপ্তাহ উদযাপনে যোগদানের জন্য ময়মনসিংহে গমন করেন। সেখান হইতে বিরিশিরিতে ফিরিবার পথে এক নৌকা দুর্ঘটনায় তাহারা পতিত হন। নৌকাটি জলের ঘূর্ণাবর্তে পড়িয়া একটি গাছে লাগে এবং নৌকাটি দুই খন্ডে ভাঙিয়া যায়। তাহারা প্রাণপণে সাঁতার দিয়া আসন্ন মৃত্যুর হাত হইতে রক্ষা পান।

১৯৫২ সনে এই স্কুলে সপ্তম শ্রেণি খোলা হয়। এই বৎসর বিরিশিরিতে গাইড র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ইহার পর রাণীখং এ ব্লুবার্ডের র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলে ব্লুবার্ডস সেই র‌্যালিতে অংশ গ্রহণ করে। সেই র‌্যালিতে পূর্ববঙ্গের গভর্নর স্যার ফিরোজ খান নূনের স্ত্রী লেডি নূন উপস্থিত ছিলেন। ইহার কিছুদিন পর ময়মনসিংহ গার্লস গাইড ও ব্লুবার্ডস যুক্ত র‌্যালি  হয়। এই স্কুলের ৪৫ জন জন গার্লস গাইড ও ব্লুবার্ড সেই র‌্যালিতে যোগা দান করেন। এই বৎসর অবিবাহিত শিক্ষিকাগন বিবাহের জন্য পদত্যাগ করিয়া চলিয়া যান এবং তাহাদের পদে নূতন শিক্ষিকাগণ নিযুক্ত হন। এই বৎসর পাকিস্তানের গার্লস গাইডে অবদান রাখার জন্য ইহার স্বীকৃতি স্বরূপ মিস জে. এ. রেডম্যানকে গার্লস গাইড মেডেল দিয়া সম্মানে ভূষিত করা হয়।

১৯৫৩ সনে এই স্কুলে অষ্টম শ্রেণি খোলা  হয়। এই সৎসর কোয়েটায় অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান গাইডার ট্রেনিং ক্যাম্পের যোগদানের জন্য এই স্কুলের দুইজন গাইডার পূর্ববঙ্গের দলের সঙ্গে সেখানে গমন করে। ১৯৫৪ সনে অস্ট্র্রেলিয়ার মিশনারিগন মিশনের যাবতীয় কাজকর্মের দায়িত্বভার দেশীয় গারো খ্রিষ্টীয়ান নেতাদের হাতে অর্পণ করেন। আর তাহারা গারো ব্যাপ্টিস্ট ইউনিয়নের অধীনে সহযোগী কর্মী হিসাবে থাকার চুক্তি সম্পাদন করেন। এই কাজটি একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে এই স্কুলের মেয়েরাও যোগদান করে। এই বৎসর গাইড আন্দোলনে দীর্ঘকাল কাজ করিয়া যাওয়ায় স্কুলকে “করোনেশন মেডেল” দেওয়া হয়। এই স্কুলের পাঁচজন গাইডার ঢাকায় গিয়া সেই মেডেল গ্রহণ করে।

চলবে…

লেখক পরিচিতি

গারো সম্প্রদায়ের জ্ঞানতাপস, পণ্ডিতজন রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। বর্তমনে তিনি দুর্গাপুর থানা ধীন নিজ বাড়ি বিরিশিরির পশ্চিম উৎরাইল গ্রামে বসবাস করছেন।  দুই ছেলে  এক মেয়ে। স্ত্রী প্রতিভা দারিংও একজন শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে অবসরে আছেন। রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাকের অনেক লেখা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। উনার ‘বিরিশিরি মিশিন এবং ব্যাপ্টিস্ট মণ্ডলীর ইতিহাস’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বই।

গারো সম্প্রদায়ের পণ্ডিতজন ও লেখক রেভা মণীিন্দ্রনাথ মারাক

জ্ঞানতাপস মণীন্দ্রনাথ মারাক

 

আরো লেখা..

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-৫ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-৬ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

রবীন্দ্রনাথের চোখে ।। মতেন্দ্র মানখিন

গারো জাতির সন্তান জন্ম ও নামকরণ, একটি সংস্কৃতির ধারা ।।  বেনেডিক্ট এম. সাংমা

https://www.facebook.com/IndependentTVNews/videos/1211504035676807

আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে বইমেলায় 'থকবিরিম'

একুশে বইমেলায় আদিবাসীদের সাহিত্য চর্চা নিয়ে হাজির হয়েছে #থকবিরিম প্রকাশনী। দেশসেরা প্রকাশনীগুলোর পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে এটি। এক নজরে দেখে নিন……….

Gepostet von independent24.tv am Freitag, 22. Februar 2019

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x