Thokbirim | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১৯৬৪ সালের রায়ত ।।  অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদকারী   ঢাকার আর্চ বিশপ গ্রেইনার সি.এস.সি ।। সরোজ ম্রং

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২০, ১১:৫১

১৯৬৪ সালের রায়ত ।।  অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদকারী   ঢাকার আর্চ বিশপ গ্রেইনার সি.এস.সি ।। সরোজ ম্রং

ভগবানের দেশ ভারতের আসাম রাজ্যে মুসলিম প্রজাদের  উপর ভগবানের নেক নজর পড়লো। হাজার হাজার মুসলিম প্রজা বিতাড়িত হয়ে ১৯৬২ সালে আল্লাহর রাষ্ট্র পাকিস্তানে আশ্রয় নিলেন। ভগবানের রাজ্য থেকে মুসলিমরা বিতাড়িরত হয়েছে, কাজেই আল্লাহর রাজ্য থেকে বিজাতীদের তাড়ানো জায়েজের কাম বলে মনে করলেন পাকিস্তান সরকার। পুনর্বাসনের কোন নীতিমালা ও পরিকল্পনা ছাড়াই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হিন্দুদের  উপর প্রতিহিংসায় জ্বলে উঠা প্রতিশোধ পরায়ন ওসব বাস্তচ্যুত মানুষদের  আদিবাসীদের  জন্য সংরক্ষিত এই বিশেষ এলাকায় দিলেন। নিরন্ন ক্ষুধার্থ বাস্তচ্যুত এসব মানুষ প্রথমে ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করে। সরকারের নীরব সমর্থন ও মদদে এসব মানুষ প্রকাশ্যে আদিবাসীদের উপর প্রতিহিংসার ঝাল মেটাতে শুরু করে। গোলাঘর লুট করে, গরু বাছুর টেনে নিতে থাকে। এরপর লুঠপাট হত্যা ধর্ষণ, গ্রামকে গ্রাম অগ্নিসংযোগ, জ্বালাও পোড়াও, স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য দখল হত্যাকার সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের সাম্রাজ্য কায়েম করে।

হাজার বছরের শান্ত সুনিবির আদিবাসীদের  স্বপ্নভূমি হিংসা  আর সন্ত্রাসের আগুনে জ্বলে উঠে। পরিণত হয় মানবতা লংঘনের অবাধ স্বপ্নপুরিতে। রেভা. সুভাষচন্দ্র সাংমা তার জি. বি.সি এর ইতিহাস পুস্তিকায় জানিয়েছেন এসব অন্যায় অবিচার ও মানবতা লংঘনের বিষয় সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে উল্টো অপমান অপদস্ত হতে হতো বলে। সরকার ও প্রশাসনের এহন নির্লজ পক্ষপাতিত্ত্ব, নীরব সমর্থন ও আদিবাসী উৎকাতের ষড়ষন্ত্র দেশের অগ্রসর অংশের মানুষ ও মানবতাবাদীদের স্থিমিত করে  তোলে। সরকারের এমন অমানবিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি প্রথম প্রতিবাদের  ঝড় তোলেছিলেন তিহি হচ্ছেন ঢাকার আর্চ বিশ্বপ গ্রেইনার সি.এস.সি। (প্রতিবেশী সাপ্তাহিক ১০/১১/১৯৮০) আদিবাসীদের  কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে রাষ্ট্র ও সরকার সাথে বিমাতাসুলভ করছে। চরম নিরাপত্তাহীনতার  মধ্য আদিবাসী দেশ ত্যাগ করতে থাকে।

আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও দাতাদেশের  ধিক্কার ও তোপের মুখে পড়ে সরকার। পরিস্তিতি সামাল দিতে সরকার আইওয়াজমূলক পদক্ষেপ নেয়, মোতায়ন করে  পুলিশ ও আনসার বাহিনী।

সাম্প্রদায়িক  দাঙ্গা প্রশমিত করার কাজে নিয়োজিত এসব পুলিশ ও আনসারদের  ভবন  পোষন দিতে হতো আদিবাসীদেরই। এসব বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের প্রচেষ্ট তো করেইনি উল্টো দাঙ্গাকারীদের  গোপনে সাহায্য সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ আছে।

সাম্প্রদায়িক  সহিংসতা এমন ব্যাপক আকার ধারণ করে  আদিবাসীদের  দেশত্যাগ ছাড়া কোন গতি ছিল না। এই ইক পেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামানোর সরকারের সদিচ্ছা ছিল বলেও মনে হয় না। তাই আদিবাসীরা  দলে দলে দেশ ত্যাগ বা হিজরত করতে থাকে ভারতে। কিন্তু আদিবাসীরা নির্বিঘ্নে নিরাপদে হিজরত করতে পারতেন না, সীমান্ত রক্ষীদেশ সশন্ত্র প্রতিরোধের সন্মখীন হতেন।

চলবে…

আরো খবর

১৯৬৪ সালের  রায়ত ।। ৬ই ফেব্রুয়ারির ট্র্যাজিডি হয়ে উঠুক অম্লান ।।  সরোজ ম্রং

আসছে নারী ফুটবলার মারিয়া মান্দার আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ

https://www.facebook.com/IndependentTVNews/videos/1211504035676807

আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে বইমেলায় 'থকবিরিম'

একুশে বইমেলায় আদিবাসীদের সাহিত্য চর্চা নিয়ে হাজির হয়েছে #থকবিরিম প্রকাশনী। দেশসেরা প্রকাশনীগুলোর পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে এটি। এক নজরে দেখে নিন……….

Gepostet von independent24.tv am Freitag, 22. Februar 2019




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost