Thokbirim | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১৯৬৪ সালের  রায়ত ।। ৬ই ফেব্রুয়ারির ট্র্যাজিডি হয়ে উঠুক অম্লান ।।  সরোজ ম্রং

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২০, ১১:৫৯

১৯৬৪ সালের  রায়ত ।। ৬ই ফেব্রুয়ারির ট্র্যাজিডি হয়ে উঠুক অম্লান ।।  সরোজ ম্রং

৬ই ফেব্রুয়ারির ট্রাজিডির রাজপথ ধরেই এগিয়ে এসেছে এই দেশে, এই এলাকায়, আদিবাসীদের  সংখ্যালঘু করনের সাম্প্রদায়িক সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আদিবাসীদের  হাজার বছরের শেকড় সে থেকেই উপড়ে যেতে থেকে, আদিবাসীরা উধাও হতে থাকে, উচ্ছেদ হতে থাকে, বিতাড়িত হতে থাকে নিজস্ব আবাসভূমি থেকে। এভাবে আগনতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক সরকারের সৃষ্ট আদিবাসী  শূন্যকরণের। কেয়ামতের কালপর্ব টিকে থাকা অবশিষ্ট আদিবাসীরা সংখ্যা লঘু হয়ে ঐতিহাসিক প্রত্নতত্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাবিয়া দোজকের  উপর। এরপরও তৃপ্ত নয় রাষ্ট ও সরকার। এই প্রশ্নতত্তের উপর গুজব নাজিল করছেই্ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আদিবসীদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘ বিশ্বেও আদিবাসীদের  সাহস ও স্পিরিট জোগাচ্ছে, ছায়া দিচ্ছে, আলো দিচ্ছে। সে আলোয় আলোকিত হয়ে বাংলাদেশের  আদিবাসীরাও  জেগে উঠেছে  নিজস্ব স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায়। বৃহত্তর ময়মনসিংহের লড়াকু আদিবাসীদের  জন্য বিশেষ শুভবার্তা রয়েছে। বার্তাটি হচ্ছে ৬ই ফেব্রুয়ারির অনাদরে অবহেলায় ওয়ারিজ হয়ে থাকা পানিহাটা পেকামারার আদিবাসী শহিদদের  রক্ত, রক্তগোলাপ হয়ে আপনাদের  পিছু ডাকছে কী, শুনতে পাননা  শহিদ আত্মা ডাকছে কান পেতে শুনুন। পেছনের দিকে  তাকিয়ে দেখুন। আসুন আমরা এদের  বরণ করে নিই।

১৯৪০ সালের মুসলিম লীগের লাহোর প্রস্তাব পাক-ভারতের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত। এই লাহোর  প্রস্তাবের অন্যতম  দিক ছিল পাকভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণ। এই  সুপ্রসিদ্ধ প্রস্তাবের দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছিল- যেসব অঞ্চল নিয়ে রাষ্ট্রসমূহ গঠিত হবে সেসব অঞ্চলের মুসলিম ছাড়াও অন্যান্য সংখালঘু সম্প্রদায়ের  ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক,  রাজনৈতিক, শাসনতান্ত্রিক এ অন্যান্য  অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য তাদের  সাথে পরামর্শ করে  যথোপযুক্ত কার্যকরী ও বাধ্যতামূলক রক্ষাকচচের ব্যবস্থা সংবিধানে পর্যাপ্ত বিধান থাকতে হবে। এই লাহোর  প্রস্তাবগুলো জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণা থেকে বেশী শক্তিশালী  ও কার্যকরী প্রস্তাব। অথচ এই মুসলিম প্রতিনিধিগণ ভারত পাকিস্থান বিভক্ত হবার পরই এসব উচ্চমানের প্রস্তাব ভুলে গেলেন? নাকি ভুলে যাবার ভান করলেন?

বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার উত্তরাঞ্চল সাবেক ৬ টি থানা দেয়ানগঞ্জ  শ্রীবর্দী, নালিতাবাড়ি, হালুয়াঘাট, দূর্গাপুর ও কলামাকান্দা  আদিবাসীদের  স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার আংশিক শাসক বহির্ভূত এলাকার স্বীকৃতি  ও মর্যাদা দিয়েছিল। পাকিস্তান সরকার আদিবাসী সংখ্যালঘুদের জন্য গৃহীত বাধ্যতামূলক এই রক্ষাকবচটি বাতিল করে দিয়েছিলেন ১৯৬২ সালে। এর নামই কী তাহলে লাহোর প্রস্তাব? লাহোর প্রস্তাবে সংখ্যালঘুদের  যে স্বার্থ ও অধিকারের কথা বলা হয়েছিল তা কি আদিবাসীদের   জন্য মূলা ঝুলানো হয়েছিল? না কি ফায়দা লুঠে নেয়ার একটি পলিসি বা ধাপপাবাজী ছিল মাত্র? সেটা যে আসলে ধাপপাবাজী তার প্রমাণ হচ্চে ময়মনসিংহের আদিবাসীরা। ১৯৬২ সালে ময়মনসিংহের আদিবাসীদের  জন্য বাধ্যতামূলক রক্ষাকবচ বলবৎ রাখার বদলে বাতিল করলেন।  সে সাথে আসাম প্রত্যাগত মোহাজেরদের কেবান পরিকল্পনাপ ও নীতিমালা না নিয়েই গারো  অধুসিত এলাকায় হিংস্্র বাঘকে লোকালয়ে  ছেড়ে দেবার মত করে ছেড়ে দিলেন।

বাংলায় এত এত জায়গা থাকতে এই মোহাজের গারো অধ্যুসিত এলাকায় ঠেলে পাঠিয়ে দেয়ার কারণ উদ্দেশ্য সহজেই  অনুমান করা যায়। অনুমান করা যায় রাষ্ট্র ও সরকারের মনোভাও দৃষ্টিভঙ্গি। মুসলিমদের  আল্লাহ ও হিন্দুদের  জন্য ভগবানের কি রহমত তা ভাবাই যায় না। তাদের  জন্য এ রহমত না থাকলে কী আদিবাসীদের  দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়? নিশ্চয় হয় না।

চলবে…

 

আরো লেখা…

গারো সম্প্রদায়ের প্রচলিত খেলাধূলা ।। শেষ পর্ব।। মতেন্দ্র মানখিন

৭১-এর রণাঙ্গনে নাকুগাঁও খালের অবদান ।। ধীরেশ চিরান

আসছে নারী ফুটবলার মারিয়া মান্দার আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ

https://www.facebook.com/IndependentTVNews/videos/1211504035676807

আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে বইমেলায় 'থকবিরিম'

একুশে বইমেলায় আদিবাসীদের সাহিত্য চর্চা নিয়ে হাজির হয়েছে #থকবিরিম প্রকাশনী। দেশসেরা প্রকাশনীগুলোর পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে এটি। এক নজরে দেখে নিন……….

Gepostet von independent24.tv am Freitag, 22. Februar 2019

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost