Thokbirim | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গারোরণ কিংবা ওয়াদ্দা (ছেড়ে দেয়া) দিঘির খোঁজে এক শুক্রবার

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২০, ১২:৪৬

গারোরণ কিংবা ওয়াদ্দা (ছেড়ে দেয়া) দিঘির খোঁজে এক শুক্রবার

গারোরণ-নামের সাথে পরিচয় থাকলেও ওয়াদ্দা দিঘির সাথে  পরিচয় ছিলো না। কারণ গারোরণ একটি প্রসিদ্ধ নাম।ছোটকাল থেকে শোনা। গল্পের মতো।  যেখানে গারো সম্প্রদায়ের বসবাস ছিলো। রাং, আদুরি, দামার শব্দে মুখর হয়ে থাকতো পুরো গ্রাম। সেই গল্পের গ্রাম গারোরণ-এ বর্তমানে গারো নাই। গারোশূন্য গ্রাম। শুধু নামটিই টিকে আছে তাও লোকমুখে। বিভিন্ন সাইনবোর্ডে রাস্তার নাম ফলকে গারোরণ হয়ে গেছে গাড়ারণ।

আমি আর লেখক সরোজ ম্রংগারোরণ-নামের খোঁজে চলে গেছি গতকাল। ছুটির দিন। গারোরণ জায়গাটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানায় অবস্থিত। নানা নানিদের মুখে শোনা এবং লোকমুখে কথিত আছে সেখনে একসময় গারোদের আবাস ছিলো। শ্রীপুর থেকে সাত খামারই যেতে ঠিকমাঝখানে পড়েছে গারোরণ গ্রামটি। গ্রামটি বেশ বড়। উত্তর গারোরণ দক্ষিণ গারোরণ মধ্য গারোরণ পশ্চিম গারোরণ পূর্ব গারোরণ। এই গারোরণ নিয়ে ২০০৭ কি ২০০৮ সালের দিকে লেখক সরোজ ম্রং লিখেছিলেন একটি ওয়ানগালার ম্যাগাজিনে। লিখেছিলেন গারোরণ গ্রামের ইতিহাস।

লেখকের ভাষ্য মতে, একসময় এখানে বিশাল বিল ছিলো সেই বিলের দক্ষিণ পাশে মুসলমান এবং হিন্দু সম্প্রদায় সংখ্যা গরিষ্ঠ এবং উত্তর পাশে গারো সম্প্রদায় সংখ্যা গরিষ্ঠ ছিলো। তো সেই বিলে মুসলমান-হিন্দু সম্প্রদায় গোসল করতো আর গারো সম্প্রদায় গরু মহিষ গোসল করাতো। সমস্যাটা হয় গরু মহিষ গোসল করানোকে কেন্দ্র করে। যেহেতু মানুষ গোসল করে সেহেতু গরু মহিষ গোসল করানো ঠিক না। এই নিয়ে মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে গারো সম্প্রদায়ের বাক বিতন্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে ভীষণ মারামারি হয়। যে কারণে গ্রামটির নামই হয়ে যায় গারোরণ। আর যে বিলটিকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ মারামারি সেই বিলটিকে এক সময় গারো সম্প্রদায় ছেড়ে দেয় নিজস্ব মালিকানা থেকে মানে ওয়াদ্দা (ওয়াদ্দা মানে স্বত্ব ত্যাগ করা ছেড়ে দেয়া, উৎসর্গ করা ) করে। ফলে বিলটির নাম হয়ে যায় ওয়াদ্দা বিল। কিন্তু সেই বিলটি কালক্রমে আর বিল থাকেনি। বিলের চারপাশে লোকের বসতি গড়ে ওঠে। বর্তমান দর্শনে দেখা গেছে বিলটির চারপাশে জনবসতি গড়ে উঠেছে ফলে বিলের বদলে তৈরি হয়েছে দিঘি। স্থানায়ীদের কাছে জানা গেছে, শ্রীপুরের কোনো একজন সরকার থেকে লিজ নিয়ে দিঘিটিতে মাছ চাষ করছেন।

সেই গারোরণ  থেকে গারো সম্প্রদায়ও ধীরে ধীরে বিলীন হতে থাকে। তারাও নিরপদ আশ্রয়ের জন্য অন্য কোথাও চলে যায়। কিন্তু টিকে থাকে মুসলমান সম্প্রদায় এবং হিন্দুজনগোষ্ঠী সাথে গারোরণ নামটি।

বর্তমানে বিলটির চারপাশে জনবসতি গড়ে উঠেছে। তিনটি সান বাঁধানো ঘাট রয়েছে। আর বিলের অর্ধেক মাটি ভরাত করে ঈদগা মাঠ তৈরি করা হয়েছে। মাঠের নাম দেয়া হয়েছে ওয়াদিয়া ঈদগা মাঠ।  ১৯৯২ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য  ঈদগা মাঠের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন।

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের গারোরণ থেকে ওয়াদ্দা দিঘি যেতে যে ইটের সলিং এবং কালভার্ট তৈরির  ন্যামফলক সেখানে লেখাে হয়েছে ‘ গাড়ারণ-ওয়াদ্দা দিঘি যাওয়ার রাস্তায় ইটের সলিং এবং আওয়ালের বাড়ির পাশে রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণ’।

এখনও অনেক মুরুব্বিদের মুখেই গারোরণ বা গারোপাড়া নামটি উচ্চারণ করতে শোনা গেছে এবং ওয়াদ্দা দিঘি বলে সবাইকে বলতে শোনা গেছে।

গারোরণ থেকে আরো আলাপ করতে করতে কয়েক মাইল পশ্চিমে ‘উজিলাব’ নামক গ্রামে পৌছে যাই আমরা। এই উজিলাব গ্রামেই নাকি লেখক সরোজ ম্রং-য়ের বাপ দাদার বাড়ি ছিলো, গ্রাম ছিলো। এখান থেকেই সুদূর মরিয়ম নগর (শেরপুর জেলা) চলে গেছেন। সেই উজিলাব গ্রাম ঘুরে দেখেও আমাদের আশ মেটেনি কারণ আমরা তো খোঁজ করছি সেই গ্রামের ঐতিহাসি সানবাঁধানো ইন্দিরাকুয়া। না, কোথাও নেই। চলে গেছি সাত খামারই রেল স্টেসন। সেও এক ইতিহাস। আবার কোনো এক শুক্রবারে যাবো সেই ইতিহাস জানার জন্য। এই পথের সাথী ছিলেন লেখক সরোজ ম্রং, না বলতেই কর্ণেল কামা পথের ভাড়া মিটিয়ে বলেছেন-  তুমি গারোরণ কেন আরো অনেক ঐতিহাসিক গ্রামে যাবা, এইরকম জায়গায় গেলে এমনিতেই মন ভালো হয়ে যায়।

লেখক সরোজ ম্রং

লেখক সরোজ ম্রংয়ের সাথে যখন ঢাকায় ফিরছি তখন ‘সালনা’ কিংবা ‘সাল’নাআ’ স্থানের নামকরণ নিয়ে আলাপ চলছে। তাহলে এটাও কি গারো শব্দ?

।। মিঠুন রাকসাম

 

“অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা- ২০১৯”-  প্রাপ্ত প্রয়াত প্রতিভা সাংমা এবং এফ মাইনরকে অভিনন্দন

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-৫ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost