Thokbirim | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মাদার হাউজে একদিন ।। ফাদার গৌরব জি. পাথাং, সিএসসি

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২০, ২২:০৩

মাদার হাউজে একদিন ।। ফাদার গৌরব জি. পাথাং, সিএসসি

৩১শে জুলাই, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ। কলকাতার আকাশের বুক চিরে অঝোরে বৃষ্টি ঝরছে। তবু বৃষ্টি উপেক্ষা করে মায়ের টানে দেশি-বিদেশি, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, ধর্মবিশ্বাসী-অবিশ্বাসী অনেক মানুষ কলকাতার ‘মাদার হাউস’-এ ভিড় করছে। কলকাতার সকল পথ যেন ‘আচার্য জগদ্বীশ চন্দ্র বোস’ নামক রোডে এসে মিশেছে। আমরাও সেই পথ ধরে মায়ের আকর্ষণে বাংলাদেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মাদার হাউজে গিয়ে উপস্থিত হলাম। মাদার তেরেজার জীবন, সেবাকাজ ও সমাধি দর্শনের পাশাপাশি প্রার্থনা করার সুযোগ পেয়েছি বলে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান এবং ধন্য মনে করছি।

মাদার হাউজে এসে প্রবেশ দ্বার খুঁজে পেতে বেশ সমস্যাই হচ্ছিল। কারণ আমি ভেবেছিলাম মাদার হাউজের প্রবেশ দ্বার হবে বেশ প্রশস্ত এবং সৌন্দর্যমন্ডিত। কিন্তু না, তা নয়। যেমন আশা করেছিলাম তেমন নয়। গেইট একেবারে সাদাসিধে। প্রবেশ দ্বারে আসতেই মনে হল: মাদার তেরেজা সাধারণের মাঝে অসাধারণ ছিলেন। প্রবেশ পথ দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল মাদার তেরেজার মূর্তি ও পাশে যিশুর মা মারিয়া মূর্তি। আসলে মাদার হাউজটি চোখে পড়ার মত নয়, কিন্তু যিনি এইখানে শায়িত আছেন তিনি সবার চোখের মণি, সবার প্রিয়জন, সবচেয়ে মূল্যবান এবং অসাধারণ।

মাদার হাউজের তিনটি রুম মাদার তেরেজার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রথম রুমটিই মাদার তেরেজার সমাধি ও উপাসনালয়। দ্বিতীয় রুমটি জাদুঘর আর তৃতীয় রুমটি মাদার তেরেজার লিভিং রুম। মাদার তেরেজার সমাধি সৌধ যেন তীর্থ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তার আশীবার্দ ও প্রসাদ লাভের আশায় দেশি বিদেশি সকল ধর্মের লোক আসে প্রার্থনা ও মোনাজাত করতে। তার সমাধিটি সাদা পাথর দিয়ে গড়া। সমাধির উপরে সমুখপানে মা মারিয়ার মূর্তি দণ্ডায়মান। পাশে মোজাইক করে লেখা ইংরেজি ভাষায় মাদার তেরেজা ও মিশনারিজ অব চ্যারিটি। সমাধির সাথেই উপালনালয়। যারা মানত নিয়ে আসেন ও প্রার্থনা করতে চান তারা এখানে প্রার্থনা করতে পারেন। দরজার পাশে কাগজ ও কলম রাখা আছে। তারা নিজেদের প্রার্থনা ব্যক্ত করতে পারেন।

সমাধির পাশেই আমি বসে আছি আর ধ্যান করছি। এমন সময় একজন মুসলিম লোক এলেন। মাথায় টুপি দেওয়া। এসেই সমাধিতে লুটিয়ে পড়লেন আর সমাধির চারপাশে ঘুরে ঘুরে মোনাজাত করলেন। মায়ের প্রতি তার শ্রদ্ধা-ভক্তি, ভালবাসা ও বিশ্বাস অতুলনীয়। পরে জানলাম তিনি গুজরাত থেকে এসেছেন মায়ের আশীর্বাদ লাভের জন্য।

দ্বিতীয় রুমটি জাদুঘর। এখানে মাদার তেরেজার সমস্ত কিছু সংরক্ষিত আছে। তার ব্যবহৃত পোষাক, থালা বাতি, কলম, চিঠি পত্র, ব্রত গ্রহণের বাণী, বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাতের ছবি, তাকে নিয়ে লিখিত বিভিন্ন বই, নোবেল পুরস্কারসহ অন্যান্য পুরস্কার, তাকে চিকিৎসার বিভিন্ন সরঞ্জাম।

জাদুঘরে এসে মনে হবে মাদার এখনও জীবিত, তিনি আমাদের সাথে পথ হাঁটছেন, তার ব্যবহৃত জিনিসপত্রের পরশ পেয়ে মনে হবে তিনি আমাদেরই একজন, তিনি আমাদেরই মা।

তৃতীয় রুমটি মাদার তেরেজার লিভিং রুম। এটি দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। তিনি এই রুমেই ১৯৫০ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত আমৃত্যু বসবাস করেছেন। তার লিভিং রুমটি অতিসাধারণ। তার থাকার জন্য যতটুকু স্থানের প্রয়োজন ছিল, ততটুকুই ব্যবহার করেছেন। তার বেশি ব্যবহার করেননি। রুমটি রাজা রানির মত এত জৌলুস কিংবা চাকচিক্য নয়। ছিল না কোন এয়ার কন্ডিশন কিংবা বৈদ্যুতিক পাখা। প্রকৃতির শীতল হাওয়াই তার জন্য যথেষ্ট ছিল। তিনি ঈশ্বর ও প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল ছিলেন। মানুষকে ভালবেসে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং আত্মত্যাগ করেছেন। আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসীতা ত্যাগ করেছেন। মানুষের কল্যাণে সেবাকাজ করেছেন।

 

।। ফাদার গৌরব জি. পাথাং লেখক এবং খ্রিষ্টান যাজক

পরিচালক, মরো সেমিনারি, ২৮ জিন্দাবাহার ১ম লেন, ঢাকা-১১০০।

gourobcsc@gmail.com

বন্ধুত্ব, সে তো চিরদিনের ।। ফাদার গৌরব জি. পাথাং

আসছে এফ মাইনর-এর নারীমুক্তির গান ‘ আলো  আসবেই আলো আসবেই’

“অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা- ২০১৯”-  প্রাপ্ত প্রয়াত প্রতিভা সাংমা এবং এফ মাইনরকে অভিনন্দন

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost