Thokbirim | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-৫ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২০, ০৮:০৪

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-৫ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

১৯৩০ সনে স্কুলটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। স্কুলের মেয়েরা ট্রাকোমা নামক চক্ষু রোগে আক্রান্ত হয়। আগস্ট মাসে এক ভোরে ভূমিকম্প হয়, মাটি ফাঁটিয়া যায়, স্থানে স্থানে ফাঁটা জায়গা দিয়া ভিতর হইতে বালি ও পানি বাহির হইয়া আসে, মিশন কম্পাউন্ডের অনেক স্থান উচু-নিচু হয়। গির্জাঘরসহ অনেক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভগ্ন গির্জাঘর রেভা: ভি. জে. হোয়াইটের তত্ত্ববধানে পুনরায় মেরামত করা হয়। অনেকেই তাঁহাকে এই কাজে সাহায্য করে। বোর্ডিং এর মেয়েরাও কায়িক শ্রম দিয়া এই গির্জাঘর মেরামত কাজে সাহায্য করে। এই বৎসর মিস ক্লার্ক অস্ট্রেলিয়া হইতে ফিরিয়া আসিলে মিস ফিন্ডলে তাঁহার নিকট স্কুলের দায়িত্বভাব দিয়া পাবনায় চলিয়া যান।

১৯৩১ সনে মিসেস কাজিনের প্রিন্সিপাল থাকাকালে Mrs. Woodthrope বিরিশিরিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এ্যাকজিবিশিনে আসেন। সেই সময়ে তিনি বিলিকা স্কুলও পরিদর্শন করেন। এই সময়ে স্কুলে ছাত্রী সংখ্যা ছিলো ৭৩, বোর্ডিং-এ ছিলো ৪৪ জন বালিকা। এই বৎসরে দুই প্রাক্তন ছাত্রী নেলি মোমিন ও মুক্ত মারাককে শিলচর ট্রেনিং কলেজে প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হয়। স্কুল ছাত্রী জেংমি মারাক (যিনি পরবর্তী সময়ে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হয়।) হাইস্কুলে পড়িবার জন্য সরকারি বৃত্তি লাভ করে। এই স্কুলে বাংলায় লেখা-পড়া শিখাইবার আগে পরীক্ষামূলকাভাবে প্রথম দুই বৎসর গারো ভাষায় লেখাপড়া শিখান হইত। ১৯৩২ সনে এই ব্যবস্থা পরিত্যাগ করা হয়। এই বৎসর লোহিনী মারাক প্রধান শিক্ষিকা নিযুক্ত হয়। এই বৎসর রেভা: জি, জে, হোয়াইটের তৈরি বিরিশিরির চলমান চিত্র দেখাইবার জন্য বাছাই করা উত্তম পাঁচজন মেয়েক ময়মনসিংহে প্রেরণ করা হয়।

১৯৩৩ সনে বোর্ডিং এ ছাত্রী ৪৪ জন এবং ডে-স্কলার ৮জন ছিলো। এই সনে তারিনীতে নূতন জাতীয় মিশন বৈথেল স্থাপিত হয়। বোর্ডিং এর ডখ্রষ্টিয় উদ্যোগে সমিতির মেয়েরা এই সময়ে এই নতুন মিশনকে সেখানকার স্কুলের জন্য ১৫৫.০০ টাকা দান  করে। বোর্ডিং এর পুকুর গভীর করিবার জন্য পুনরায় খনন কালে তাহারা এক সপ্তাহব্যাপী ৭০ জন গারো মহিলা শ্রমিককে দুপুর বেলা চিড়া ও মুড়ি খাইতে দেয়। এই বৎসরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম গুলিতে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণেও তাহারা সাহায্য করে। কলিকাতা ইইতে আগত  C.S.S.M এবং বাবু সনৎ কুমার মন্ডলের আত্মিক শিক্ষাদানে অন্যান্যদের ন্যায় এই স্কুলের বালিকারাও উপকৃত হয়। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা নলিনী বিশ্বাস বি. টি. আই. এর প্রধান শিক্ষক মি. জিতের নাথ বিশ্বাসকে বিবাহ করেন। চারুবালা সাংমা ময়মনসিংহ হইতে ফিরিয়া বোর্ডিং এর ম্যাট্রন হন।

১৯৩৪ সনে Miss Flo Harris  (মিস ফ্লো হ্যারিস) স্কুলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ১৬ বৎসর ধরিয়া এই স্কুলে নি:স্বার্থভাবে দক্ষতার সহিত কাজ করেন। ১৯৩৫ সনে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা লোহিনী মারাক  (মোমিন) বিবাহের জন্য পদত্যাগ করিয়া বাঘমারায় চলিয়া যান।

১৯৩৬ সনে পূর্ববঙ্গের স্কুল ইন্সপ্যাক্টর মিস সুরমা বিশ্বাস এই স্কুল পরিদর্শন করিয়া সন্তুষ্ট হন এবং খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য ৫০০.০০ টাকা দান করেন। এই বৎসর ১৬ বালিকা ও শিক্ষিকার একটি দল ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত ঝ.এ.ঈধসঢ় এ যোগদান করে। ১৯৩৭ সনে মিস ফ্লো হ্যারিস আবার বিদ্যালয়ের ভার গ্রহণ করেন এবং মিস কাজিন চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গমন করেন। এই বৎসরে পঞ্চম শ্রেণি খোলা হয়।

১৯৩৮ সনে ৬ষ্ঠ শ্রেণি খোলা হয়। অ্যাবরিজিনাল ওয়েল প্রদর্শনীতে এই স্কুলে সতেরটি প্রশংসা পত্র ও একটি রূপার মেডেল লাভ করে। এই বৎসরে আবার ব্যাপকভাবে ট্রাকোমা রোগ দেখা দেয়। এই এলাকার  অনেক লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়। ত্রিশ জন ছাত্রী ও সকল শিক্ষিকাও এই রোগে আক্রান্ত হয়। তখন এই স্কুলকে চিকিৎসাকেন্দ্র হিসাবে করা হয় এবং মেয়েরা নার্সদের মত চিকিৎসককে চিকিৎসার কাজে সহয়তা দান করে।

চলবে…

লেখক পরিচিতি

গারো সম্প্রদায়ের জ্ঞানতাপস, পণ্ডিতজন রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। বর্তমনে তিনি দুর্গাপুর থানা ধীন নিজ বাড়ি বিরিশিরির পশ্চিম উৎরাইল গ্রামে বসবাস করছেন।  দুই ছেলে  এক মেয়ে। স্ত্রী প্রতিভা দারিংও একজন শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে অবসরে আছেন। রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাকের অনেক লেখা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। উনার ‘বিরিশিরি মিশিন এবং ব্যাপ্টিস্ট মণ্ডলীর ইতিহাস’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বই।

গারো সম্প্রদায়ের পণ্ডিতজন ও লেখক রেভা মণীিন্দ্রনাথ মারাক

জ্ঞানতাপস মণীন্দ্রনাথ মারাক

 

আরো লেখা

 মধুপুর গড়াঞ্চলের আলোর দিশারী প্রয়াত প্রতিভা সাংমা পাচ্ছেন মরণোত্তর “অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা- ২০১৯” 

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-৪ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

“অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা- ২০১৯”  পাচ্ছেন এফ মাইনর




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost