Thokbirim | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-৩ ।। মণীন্দ্রনাথ মরাক

প্রকাশিত : আগস্ট ৩১, ২০২০, ১০:২০

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-৩ ।। মণীন্দ্রনাথ মরাক

১৯০৩ সনে বালিকা বোর্ডিং স্কুলের ম্যাট্রন তারামনি সাংমা বালক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে বিবাহ করেন। একজন ছাত্রী লোয়ার প্রাইমারি পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করে। রেভা: পি.সি. নল বন্যার কবল হইতে রক্ষার জন্য বালিকা বিদ্যালয় গৃহ মাটির মেঝের পরিবর্তে পাটাতন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং ১৯০৪  সনে ঐ গৃহ নির্মাণ সমাপ্ত করেন। মিশনারিদের থাকার ঘর নির্মানও এই বৎসরে সমাপ্ত হয়। জেলা বোর্ড এই সনে বালিকা বিদ্যালয়কে প্রতিমাসে ৬.০০ টাকা করিয়া আর্থিক সাহায্য দিতে আরম্ভ করে।

১৯০৫ সনে মি. বিহারী লাল বাউলকে বালক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়। রেভা: পি,সি, নল ও মিসেস নল ফারলোতে চলিয়া যান এবং রেভা: এইচ.জে. সাটন তাঁহাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯০৬ সনে স্কুলগৃহে আবার অগ্নিকান্ড ঘটে। ১৯০৭ সনে বোর্ডিং এ ছাত্রীদের সংখ্যা কমিয়া সাত জন হয়।

১৯০৮ সনে বেশি সংখ্যক ছাত্রীকে বোর্ডিং এ রাখা সম্ভব নয় বলিয়া মেয়েদের গ্রাম্য স্কুলে পড়ার জন্য মিসেস নল পরার্ম দান করেন। ১৯০৯ সনে বোর্ডিং এ ছাত্রী সংখ্যা ছিলো ১১ জন। ১৯১০ সনে ছনের ঘরের পরিবর্তে স্কুল ঘরটি ঢেউ টিন দিয়া নির্মান করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ৯০ ঘন্টা স্থায়ী প্রবল বন্যা হয় ও বিপুল ক্ষতি সাধন করে।

১৯১১ সনে বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহেশ রেমা অবসর গ্রহণ করিলে বিহারী লাল বাউলকে আবার বালক বিদ্যালয় হইতে বালিকা বিদ্যালয়ে আনা হয়। এই বৎসর স্কুলের গারো ছাত্রীরা বিরিশিরি গীর্জা ঘর নির্মানের জন্য ১৫.০০ টাকা দান করে। ১৯১২ সনে ম্যাট্রনের জন্য কোন গারো মহিলাকে না পাওয়ায়, গারো ভাষায় কথা বলিতে পারেন এমন একজন বাঙ্গালী মহিলাকে ম্যাট্রন নিয়োগ করা হয়। ১৯১৩ সনে স্কুলের গারো ছাত্রীরা তাহাদের খ্রিষ্টীয় উদ্যোগ সমিতির এক টাকা ছয় আনা তিন পয়সা রাঙ্গামাটির দুর্ভীক্ষে পীড়িত   লোকদের সাহায্য দান করেন।

১৯১৪ সনে মিস ম্যাকলিন (Miss Mclean) মিসেস নলের নিকট হইতে বালিকা বিদ্যালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মিসেস নল ফারলোতে চলিয়া যান। ১৯১৫ সনে মিস ম্যাকলিন এই বৎসর দু’জন প্রাক্তন ছাত্রীকে শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্য যথাক্রমে ময়মনসিংহ ও কৃষ্ণনগরে প্রেরন করেন।

১৯১৬ সনে ১৪ বৎসর বয়সী এক গারো যুবতী এই বিদ্যালয়ে নিজের খরচে পড়িতে আসে। সে বাংলায় কথা বলিতে পারিত না (এখানে আসার আগে সে গারো হিলসে পড়িত এবং গারো ভাষায় লেখা বই ভাল পড়িতে পারিত। এই বৎসর চারুবালা সাংমা কৃষ্ণ নগর হইতে ফিরিয়া আসেন এবং কিছুকাল পরে দুই বৎসরের প্রশিক্ষনে ময়মনসিংহে চলিয়া যান। দুই বৎসর পর ফিরিয়া আসিয়া তিনি প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে বিহারী লাল বাউলের নিকট হইতে স্কুলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯১৮ সনে ভীষন এক ভুমিকম্পের দুই মাস পর এক ভীষণ বন্যা মিশন কম্পাউন্ডের উপর দিয়া ৯২ ঘন্টা ব্যাপী প্রবাহিত হয়। এই বন্যার পানি বালিকা বিদ্যালয় গৃহের পাটাতন মেঝ ও বালিকা বোর্ডিং এর মেঝের উপর দিয়াও প্রবাহিত হয়।

১৯১৯ সনে মিস মার্গাটে ফিন্ডলে (Miss Margarett Findlay) মিসেস নলের নিকট হইতে স্কুলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু কিছুদনি পর ১৯২২ সনে তিনি অষ্ট্রিলিয়া চলিয়া যান। তাই মিসেস নলকেই আবার কয়েক মাসের জন্য স্কুলের দায়িত্বভার নিতে  হয়। তিনি স্কুলের ভার নিয়াই শিক্ষক-শিক্ষিকা সংখ্যা কম থাকায় বিহারী লাল বাউলকে আবার সাময়িক ভাবে স্কুলে কাজ করার জন্য নিয়া আসেন। এই বৎসর জুলাই মাসের শেষের দিকে মিস ক্লার্ক (Miss Clark) বিরিশিরিতে আসিয়া স্কুলের ভার গ্রহণ করেন এবং মিসেস নল ফারলোতে চলিয়া যান।  আর মিসেস নল গ্রামের মহিলাদের মধ্যে কাজ করিতে আত্ম নিয়োগ করেন।

১৯২৩ সনে প্রবোধদায়িনী ঘোষ, শিক্ষিকা ও চারুবালা সাংমা দ্বিতীয় শিক্ষিকা এবং ম্যাট্রন নিযুক্ত হন। ১৯২১ সনে মিস শেরিফ (Miss Sheriff) পাবনা হইতে আসিয়া স্কুলের ভার গ্রহণ করেন। কিন্তু কিছুদিন পর ১৯২২ সনে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলিয়া যান। তাই মিসেস নলকেই আবার কয়েক মাসের জন্য স্কুলের দায়িত্বভার নিতে  হয়। তিনি স্কুলের ভার নিয়াই শিক্ষিকার সংখ্যা কম থাকায় বিহারী লাল বাউলকে আবার সাময়িক ভাবে স্কুলে কাজ করার জন্য নিয়া আসেন। এই বৎসর জুলাই মাসের শেষের দিকে মিস ক্লার্ক  বিরিশিরিতে আসিয়া স্কুলের ভার গ্রহণ করেন এবং মিসেস নল ফারলোতে চলিয়া যান।

১৯২৩ সনে  মিস ক্লার্ক অন্যত্র চলিয়া যান এবং মিস উইলিয়াম স্কুলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এই বছরে মিস ফ্লো হ্যারিস (Miss Flo Harris), যিনি পরবর্তীতে স্কুলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তিনি প্রথম বিরিশিরি পরিদর্শনে আসেন। এই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াইবার ব্যবস্থা ছিলো। শিক্ষিকা তৈরি করা প্রয়োজন বিধায় আরও শিক্ষা ও জ্ঞান লাভের জন্য যে সমস্ত ছাত্রীদের মেধা আছে তাঁহাদের পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণি পড়াইতে ময়মনসিংহে প্রেরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনা অনুসারে এই বৎসরেই তিন জন ছাত্রীকে ময়মনসিংহে প্রেরন করা হয়। তাঁহাদের মধ্যে ব্রজ ও শোভা ভাল ফল করে।

চলবে…

লেখক পরিচিতি

গারো সম্প্রদায়ের জ্ঞানতাপস, পণ্ডিতজন রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। বর্তমনে তিনি দুর্গাপুর থানা ধীন নিজ বাড়ি বিরিশিরির পশ্চিম উৎরাইল গ্রামে বসবাস করছেন।  দুই ছেলে  এক মেয়ে। স্ত্রী প্রতিভা দারিংও একজন শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে অবসরে আছেন। রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাকের অনেক লেখা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। উনার ‘বিরিশিরি মিশিন এবং ব্যাপ্টিস্ট মণ্ডলীর ইতিহাস’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বই।

পণ্ডিতব্যক্তি রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক

লেখক মণীন্দ্রনাথ মারাক

আরো লেখা

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-২ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

বিরিশিরি বালিকা বিদ্যালয়ের ইতিহাস ।। পর্ব-১ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost