Thokbirim | logo

৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

একান্ত আলাপ ।। গারো নারী মুক্তিযোদ্ধা তুষি হাগিদকের সাথে লেখক সরোজ ম্রং

প্রকাশিত : আগস্ট ৩০, ২০২০, ১১:৫৬

একান্ত আলাপ ।। গারো নারী মুক্তিযোদ্ধা তুষি হাগিদকের সাথে লেখক সরোজ ম্রং

বাঙালির ইতিহাসে ১৯৭১ সাল একটি নতুন দিগন্ত, একটি নতুন ইতিহাস, চিরউজ্জন চিরভাস্বর একটি মাইলফলক। ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল একটি রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র অর্জনের পিছনে শুধু বাঙালিদের রক্তই ঝরেনি সুধু বাঙালিররাই জীবন উৎসর্গ করেনি। বাঙালিদের মত আদিবাসীদের রক্তও ঝরেছে, আত্মত্যাগ করেছে, জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। বাঙালিরদের কাধে কাধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ১৩ শতাধিক গারো মুকযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই দাবি গারো মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন ও নেতৃবৃন্দের। কিন্তু এই সংখ্যার ভিতর গারো নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কতজন গারো নারী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারও কোনও তথ্য নেই। কারণ এসব নিয়ে পৃথক কোন গবেষণাা বা সমীক্ষা এখনো হয়নি। তের শত গারো মুক্তিযোদ্ধার সাথে যদি নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা যোগ করা হয় তাহলে গারো মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা দাঁড়াবে কম হলেও ১৪০০।

১৯৮১ সালের সরকারিী সেন্সাস অনুযায়ি গারো জনসংখ্যা ৬৮,২৮০ জন। তার মানে ১৯৭১ সালে এই সংখ্যা আরো কম? যাহোক এই ৬৮,২৮০ জন জনসংখ্যা থেকে যদি ১৩৫০ জনও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকে তাহলে শতকরা হিসেবে কতজন গারো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন? উত্তর আসবে প্রায় ২ শতাংশ। অন্যদিকে খোদ বাঙালিরাই এই মাহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ০.২৪৬ শতাংশ। এই সংখ্যাটি আরোও কমবে যদি ৪৫টি আদিবাসীদের জনসংখ্যা হিসেব করা হয়। ১৯৭১ সালে তখন দেশের মোট জনসংখ্যা ৭,৫০,০০০(সাড়ে সাত কোটি) এই সংখ্যার ভিতর ৪৫টি আদিবাসী জনসংখ্যাও আছে। সে যাই হোক। এই মোট জনসংখ্যা থেকে যদি গারো জনসংখ্যা ৬৮,২৮০ জন বিয়োগ করা হয় তাহলে থাকে ৭,৪৯,৩১,৭২০ জন। গত ২০১৪ সালের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের তথ্য মতে দেশের মোট মুক্তিযোদ্ধা ১,৮৬,০০০(এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার)। এই সংখ্যা থেকে ১৩৫০(তেরশত পঞ্চাশ) জন গারো মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিলে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধ হচ্ছে ১,৮৪,৬৫০ জন। শতকরা হিসেবে দাঁড়াচ্ছে মাত্র ০.২৪৬ শতাংশ। মুক্তিযুদ্ধে আদৌ অংশগ্রহণ করেনি অথচ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে সরাসরি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন বাঙালিরা। এ নিয়ে প্রায়ই কথা হয়, তদন্ত হয়, ভুয়া সনদপত্র বাতিলও হয়। অথচ চিত্রটি আদিবাসীদের ক্ষেত্রে বিপরিত। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাদের নাম নেই। এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। নারী মুক্তিযোদ্ধা তুষি হাগিদক তাদেরই একজন। জন্ম নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার রামপুর গ্রামে। বাংলাদেশ বেতারের গারোদের জন্য অনুষ্ঠান সালগিওলের প্রথম দিকের প্রথম সারির জনপ্রিয় শিল্পী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন মিশনারি স্কুলের শিক্ষিকার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তুষি হাগিদক স্বনামধন্য কবি গীতিকার মতেন্দ্র মানখিনের স্ত্রী। মুক্তিযোদ্ধা তুষি হাগিদকের সাথে যে আলাপচারিত হয়েছিল তা থকবিরিম পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো- সম্পাদক

সরোজ ম্রং: দিদি আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা কখনো শুনি নাই তো? গোপন রেখেছিলেন কেন?

তুষি হাগিদক :  আমি একমাস সশস্ত্র গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্বেও প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি বা সে সুযোগ হয়ে উঠেনি। আমাদেরকে যুদ্ধে পাঠাননি উর্ধতন কর্মকর্তারা। আমি যুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক সেবা দিতাম। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ভাবে সাহ্যায্য সহযোগিতা দিতাম মাত্র। তাই নিজেকে আমি সে ধরনের মুক্তিযোদ্ধা মনে করিনাই। এছারাও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তো আমার নাম নেই। গত বছর সংশধিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম উঠে এসেছে। শুধু আমার নয়, আরো ১৬ জনের নাম উঠে এসেছে।

সরোজ ম্রং:  ১৬ জনের মানে?

তুষি হাগিদক : ১৬ জনের মানে হচ্ছে আমরা মানে আমাকে নিয়ে ১৭ জন গারো মেয়ে আমরা একসাথে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। তাদের সবার নাম উঠে এসেছে।

সরোজ ম্রং:  দিদি আপনি মুক্তিযুদ্ধে গেলেন কেন? ৭১ সালের এই মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসীদের কোনো স্বার্থ ছিল কি?

তুষি হাগিদক : আদিবাসীদের স্বার্থ ছিলো কি ছিলো না তা তো জানি না। কিন্তু দেশ তো আমাদের আমাদের পূর্বপুরুষদের। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার দ্বিতীয় কারন হল সেই সময় পাক আর্মিরা আমাদের গ্রামের খুব কাছেই রংরা ক্যাম্পে ঘাটি গেড়ে বসেছিল। জেবি নকরেক নামের এক যুবক আমাদের বাড়িতে থাকত। একদিন জেবি নকরেককে রাস্তায় পেয়ে আর্মিরা… এই ছোকরা লাড়কি হায় না লাড়কি? যা লাড়কি লিয়ে আয়। বলে নির্দেশ দেয়। লাড়কি বলতে জেবি বুঝেছিল লাককি বা খড়ি। জেবি এক বোঝা লাকড়ি মাথায় করে নিয়ে ক্যা¤েপ গেলেন। আর তা দেখে পাক আর্মিরা রেগে গিয়ে জেবির পাছায় এলপাথারি প্রহার করে ছেরে দেয়। এই ঘটনা বাসায় এসে জেবি আমাদেরকে বলেছিল। নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা সে রাতেই ভারতে পালিয়ে যাই। লাড়কি হায় না, কথা শুনে ভিষণ রেগে গিয়েছিলাম। মনে মনে ভেবেছি পুরুষ হলে আমিও মুক্তিযুদ্ধে চলে যেতাম। তাদের গুলি করে মেরে ফেলতাম, কিন্তু আমি তো মেয়ে! এর পরেও ভেবেছি যদি সুযোগ পাই যুদ্ধে যাবো।

সরোজ ম্রং:   সুযোগ পেলেন কীভাবে?

তুষি হাগিদক : সুযোগ পেলাম কিভাবে? একদিন মল্লিকা ঘাগ্রা এসে আমাকে বললো, রংরা ক্যা¤েপর ক্যাপ্টেন চৌহান পুরুষদের পাশাপাশি নারী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যেও একটি ক্যা¤প প্রতিষ্টা করেছেন। নারীদেরও মুক্তিযুদ্ধে রিক্রুট করা হচ্ছে। রিক্রুট হবে নাকি? আমি সংগে সংগে রাজী হয়ে হয়ে যাই। আমরা মোট ১৭ জন নারী একসাথে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। আমাদের ক্যা¤েপর নাম ছিল কমলা ক্যা¤প। এটি ক্যাপ্টেন চৌহানের ছোট মেয়ের নামে নামকরণ করা হয়েছিল।

সরোজ ম্রং:  এই ১৭ জনের মধ্যে কতজন গারো নারী? তাদের নাম মনে আছে কি?

তুষি হাগিদক : হ্যাঁ মনে আছে। এই ১৭ জনের মধ্যে সবাই ছিল গারো নারী। একজনও বাঙালির বা অন্য সম্প্রদয়ের কোন নারী ছিল না। এই ১৭ জনের নাম হচ্ছে।

১। মল্লিকা ঘাগ্রা

২। তুষি হাগিদক

৩। ছায়া বনোয়ারী

৪। মগ্ধলিনা নেংমিঞ্জ

৫। সঞ্চিতা জরিনা রেমা

৬। পরিচয় চিসিম

৭। সেলিনা হাউই

৮। জিতা নকরেক

৯। টুনটুনী নকরেক

১০। রীতা রেমা

১১। সুজানা জাম্বিল

১২। মুকুল আজিম

১৩। রচিতা হাগিদক

১৪। বেঞ্জিনা নকরেক

১৫। নীকাবতী রেমা

১৬। অনিতা নকরেক

১৭। হাসিনা বনোয়ারী

সরোজ ম্রং:   মানে শেষেরটা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মিতা নাকি?

তুষি হাগিদক : (হাসতে হাসতে) হ্যা শেখ হাসিনার মিতা।

সরোজ ম্রং:  প্রত্যক্ষ যুদ্ধে যাননি কেন?

তুষি হাগিদক : আমাদেরকে যুদ্ধে পাঠাতে চেয়েও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে পাঠানো হয়নি। তাছারাও যুদ্ধ জয়ের সময়টাও ঘনিয়ে এসেছিল।আমাদের মুলত তিনটি কারনে রিক্রুট করা হয়েছিল। প্রথম হচ্ছে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা শুশ্রষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া। দ্বিতীয়ত গুপ্তচর বা গোয়েন্দাগিরির কাজ আর তৃতীয়ত প্রয়জনে যুদ্ধে অংশগ্রহণ।

সরোজ ম্রং:  আপনি কি রাইফেল চালাতে জানতেন?

তুষি হাগিদক : শুধু রাইফেল নয়। এস এম জি, এল এম জি, গ্রেনেড চার্জ সবকিছুই প্রশিক্ষণ পেয়েছিলাম চালাতে পারতাম।

সরোজ ম্রং:  দিদি আপনার কোনো স্মরনীয় ঘটনা?

তুষি হাগিদক : স্মরণীয় ঘটনা তো আছেই কোনটা রেখে কোনটা বলি? এক হচ্ছে- গোয়েন্দাগিরি কীভাবে করতে হবে, কীভাবে প্রেমের অভিনয় করতে হয়, কীভাবে ভালবাসার ভান করতে হবে এসব নিয়ে ক্যাপ্টেন পিয়ারীলাল আমাদের শিখিয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের মধ্যে সুজানা জাম্বিলা ছিল সব থেকে সুন্দরী। এই লাড়কী হাম তুমসে পেয়ার কারেগা বলে ক্যাপ্টেন পিয়ারিলাল সুজানার পাশে গিয়ে বসে।সুজানা তখন বসে থাকা বেঞ্চ থেকে ভয়ে লাফিয়ে উঠে খরের কোনায় পরে গিয়েছিলো। হয়তোসে ভেবেছিলো সত্যি সত্যি পিয়ারীলাল তাকে পেয়ার করতে চাচ্ছে। এ নিয়ে আমরা সবাই হেসে উঠেছিলাম। দুই হচ্ছে এক আহত বাঙালির মুক্তিযোদ্ধাকে আমাদের ক্যাম্পে আনা হয়েছিল। তার ডান হাতে গুলি লেগেছিলো। ছেলেটার নাম রুহুল আমিন। পাক আর্মিরা নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে ফেলেছিলো। ছেলেটি পালাতে না পেরে বিলের মধ্যে ঝাপিয়ে পরে এবং মাথায় কচুরিপানা দিয়ে লুকিয়ে থাকে। এভাবে বিলের মধ্যে ছেলেটি ৩/৪ দিন লুকিয়ে থাকে। ৪ দিনের মাথায় তার সহযোদ্ধারা তাকে উদ্ধর করে আমাদের ক্যা¤েপ নিয়ে আসে। তার হাতটা পাছে পাছে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। ড্রেসিং করতে গিয়ে আমি তার উপরেই বমি করে দিয়েছিলাম। তাকে পাঠানো হয়েছিল টুরায় (টুরা শহরে)। ছেলেটি মরে গিয়েছিলো নাকি বেঁচে আছে জানা নেই। এই ঘটনা মনে পরলে দারুন খারাপ লাগে, নিজেকে অপরাধি মনে হয়।

দুই হচ্ছে খুবই সুন্দরী শিক্ষিত ও স্মার্ট এক বাঙালি তরুণী। আমাদের ক্যা¤েপর অদূরে এক বাড়িতে এসে আস্রয় নিয়েছিল। সে ছিল পাকিস্তানী গোয়েন্দা। তার হাতে ছিল একটি ঘড়ি। সে আমাদের সাথে মিশতো কথা বলতো আর সুজোগ পেলেই কথা বলত ঐ ঘরিতে কান রেখে। মেয়েটি পিয়ারিলালের সাথে ভাব জমাতে চেষ্টা করত। তার লক্ষ্য ছিল পিয়ারিলালকে কৌশলে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া। আমরা বিষয়টি ক্যাপ্টেন চৌহানকে বলি। মেয়েটি সে সময় জায়গা বদল করে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিলেন। অন্যদিকে আমরা সে সময় মল্লিকাদিকেও খুজে পাচ্ছিলাম না। আমরা ধরে নিয়েছিলাম সম্ভবত মলি¬কাদি ক্যাপ্টেন পিয়ারিলালকে বিবাহ করেছেন। কিন্তু বিষয়টি সে রকম ছিল না। মল্লি¬কাদিকে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই বাঙালির তরুণীর পিছে। মল্লি¬কাদি পরে জানিয়েছেন সেই বাঙালির তরুনীকে ভারতীয় আর্মিরা নাকি গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়েছেলেন।

সরোজ ম্রং:  মুক্তিযুদ্ধের সনদপত্র পেয়েছিলেন কি ?

তুষি হাগিদক : এখনো ¯পষ্ট মনে আছে ১৯৭১, ১২ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ মানচিত্র খচিত যেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিল সেই সনদপত্র আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন চৌহান, বলেছিলেন কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ স্বাধীন হতে যাচ্ছে। এই সনদপত্রগুল যতœ করে রাখবেন। কিন্তু যত্ন করে রাখা যায়নি। বঙ্গবন্ধুকে পরিবার সহ মেরে ফেলার পর গুজব ছরিয়েছিল যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল তাদেরকেও মেরে ফেলা হবে নয়ত জেলে যেতে হবে। ভয়ে সে সনদপত্র পুরিয়ে ফেলেছিলাম।

সরোজ ম্রং:  পংকজ আজিমের নাম কখনো শুনেছিলেন কি? যে পংকজ আজিম গারো এলাকা থেকে ১০ ট্রাক গারো যুবকদের নিয়ে ৭ই মার্ছ রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। পংকজ আগিমের স্বপ্ন ও বিশ্বাস ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হলে গারো সহ অন্যান্ন আদিবাসিরা তাদের হারানো মর্যাদা ফিরে পাবে, আদিবাসীদের রক্ষাকবচ ব্রিটিশ প্রণিত ও স্বীকৃত আংশিক শাসন বহির্ভুত এলাকার মর্জাদা পুনপ্রতিষ্ঠিত হবে এ স¤পর্কে যদি কিছু বলেন?

তুষি হাগিদক : আমি তো মেয়ে মানুষ অতকিছু জানি না। তবে পংকজ আজিমের নাম শুনেছি। তিনি যে গারো যুবকদের নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে হাজির ছিলেন ছয় থানা নিয়ে কাজ করতেন এগুলো পরে শুনে জেনেছি।

সরোজ ম্রং:  মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে, সরকারের কাছে কিছু চাওয়ার আছে কি?

তুষি হাগিদক : ব্যক্তিগত চাওয়া বা দাবি কোনটাই নেই। কিন্তু সরকার আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধাদেরও সম্মান স্বীকৃতি মর্যাদা দিক এটা চাই, চাইতেই পারি। আদিবাসী ছেলে মেয়েদের জন্য শিক্ষা চাকরির সুযোগ করে দিক সরকার ।

সরোজ ম্রং:  গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় কেওয়াচালা গ্রামে পূর্বে অনেক গারো ছিল, এই গারো গ্রামটি এখন পাড়ায় পরিণত হয়েছে অন্যদিকে গ্রামটি শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এই গারোপাড়ায় গারো মুক্তিযোদ্ধা অনিল সাংমার নামে একটি রোডের নামকরণ করা হয়েছে। হালুয়ঘাটে শহীদ পরিমল দ্রং এর নামে একটি মার্কেটের নামকরণ হয়েছিল এখন তা নেই। বাঙালির মুক্তিযোদ্ধার নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক কিছুর নামকরণ করা হয়ে থাকে। এ ধরনের নামকরণ গারো মুক্তিযোদ্ধাদের নামেও নামকরণ হোক তা কি আপনারা চাননা?

তুষি হাগিদক : হ্যাঁ হ্যাঁ সত্যিই তো , সবকিছুই তো বাঙালির মুক্তিযোদ্ধার নামেই হচ্ছে। গারো মুক্তিযোদ্ধাদের নামে একটিও হচ্ছে না। এটা অন্যায় এটা অবিচার। আমি একা চাইলেই কি হবে ? আমরা গারো মুক্তিযোদ্ধারা তো সংগঠিত না। এসব দাবি কে করবে? কাজেই গারো মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে আলাদা একটি সংগঠন দাঁড় করা দরকার। আমি গারো মুক্তিযোদ্ধাদের অনুরোধ করছি বা করতে চাই আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সংগঠন গড়ে তুলি দেশের সার্থে গারো মুকযোদ্ধাদের সার্থে।

সরোজ ম্রং: মুক্তিযোদ্ধা দিদি আপনাকে ধন্যবাদ

তুষি হাগিদক : আপনাকেও ধন্যবাদ।

করোনাকালে কেমন আছেন মুক্তিযোদ্ধা সন্ধ্যারানী সাংমা

https://www.youtube.com/watch?v=MZ2chv7Q7K8

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost