Thokbirim | logo

৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গারো জাতির আদিতত্ত্ব কথা ।। শেষ পর্ব।। বেনেডিক্ট এম. সাংমা

প্রকাশিত : আগস্ট ১৯, ২০২০, ১২:১৭

গারো জাতির আদিতত্ত্ব কথা ।। শেষ পর্ব।। বেনেডিক্ট এম. সাংমা

গারো সম্প্রদায়ের কবি ও লেখক বেনেডিক্ট এম সাংমা গত ২৬শে মে ২০২০ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর অসংখ্য লেখা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ‘গারো জাতির আদিতত্ত্ব কথা’ লেখাটি থকবিরিমের বিশেষ প্রতিনিধি তরুণ লেখক জাডিল মৃ বেনেডিক্ট এম. সাংমার ছেলের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন। থকবিরিম পাঠকদের জন্য পুরনো লেখাটি নতুন করে লেখকের ছেলের অনুমতি নিয়ে প্রকাশ করা হলো -বি.স

SANGKO বা MASANG -এর উপরে ছাউনি করা ঘরে ACHIK এবং তার মা বেহেরা দুজনেই দাঁড়িয়ে হেলান দিয়ে নিদ্রা যেতো। মা ছেলেকে ছেড়ে থাকতে মনে কষ্ট পেত। পরবর্তীকালে SANGKO বা MASANG করা ঘরে দাঁড়িয়ে ঘুমাতো বলেই মা-র গোত্র SANGA (সাংমা) পরিচিত বা চিহ্নিত হয়। দীর্ঘ বছর পর, আচিকের নাতি নাতনিদের ঔরস্যে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। যার নাম BOHOL (বহল) বহল একটু অন্য ধরনের স্বভাবের ছিল। আপন মাসির মেয়ের রূপে আকৃষ্ট হয়ে বিয়ের প্রস্তাব জানায়। মেয়েটি বহল ছেলেকে পছন্দ করত না। আর বহলের সাথে বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। কিন্তু বহল ছেলেটি ঐ মেয়েটিকে ছেড়ে দেবার মত পাত্র নয়। তাই সাতটি বছর পর্যন্ত পেছনে লেগেছিল। নানা কৌশল অবলম্বন করেও মেয়েটির মন জয় করতে পারেনি। মেয়েটির মন অতিব কঠিন, এবং স্বচ্ছ, নীতি-আদর্শ, সতি-সাবিত্রীর ন্যায় চরিত্র। তাই গারো ভাষায় MAA “RAKGIPA অর্থাৎ কঠিন স্বভাবের মা বলে আখ্যা দেয়। তখন থেকেই মায়ের গোত্রে MARAK (মারাক) অনুস্মরণ করা হয়।

আপাতত মায়ের দুটি গ্রোত্র পাওয়া গেছে। যথাক্রমে ১. SANGMA (সাংমা) ও ২. MARAK (মারাক)। গারো জাতিগণ সাধারণতঃ মাতৃতান্ত্রিক। তাই মায়ের উি গোত্র অনুস্মরণ করে থাকে।

আচিকের এক পুত্রের নাম মোহর। মোহর নিজেই মোমীন গোত্রধারী বলে জানা যায়। কালক্রমে এহেরা-বেহেরার অগণিত বংশ বিস্তার লাভ করে। আর দুঃসাহসিক, লড়াকু এবং তর্কযুদ্ধে অপরাজিত জাতি হিসাবে খ্যাতি অর্জন করে। পরবর্তীকালে চেমাং (CHEMANG) পাহাড় ত্যাগ করে লাওরি চিগা তিমবরিতে বসবাস করে (চারদিকে বিশাল পাহাড়ের দ্বারা বেষ্টিত এক জলময় জায়গা। যাহা হ্রদ বলা চলে), এই জায়গায়-৫ (পাঁচ বছর বসবাস করে, প্রথমে এখানে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম-নসীমে রানি। নসীমে রানির জন্মের কয়েক বছর পর তার ছোট বোন বালসীমের জন্ম হয় এবং এই স্থানে ১৫ (পনের) বছর বসবাস করে। এখানে একটি অঘটন ঘটে।

ঘটনাটি হচ্ছে-একদিন বালসীমে মুজিব মেরান নামক জায়গা থেকে একাকী জল তুলতে যায়।পথি মধ্যে এক বিশাল আকারের বানর রাজা, জোর পূর্বক ধরে প্রেম নিবেদন করে যা সাধারনতঃ নারী ধর্ষণের পর্যায় পড়ে। এ জাতীয় বানরকে গারো ভাষায়-রাঙ্গল বলে থাকে। সাধারণ বানর এবং রাঙ্গলের আকৃতিতে অনেক তফাৎ যেমন-রাঙ্গলের শরীরের গঠন অবিকল মানুষের আকৃতির মত। শুধু মুখমণ্ডল বানরের আকৃতি আর লেজ বিশিষ্ট। রাঙ্গলদের সংখ্যা-যেমন সীমিত, বানরদের বংশ ধারা তেমনই অসংখ্য। এই বানর রাজার ঔরস্যে, বালসীমের গর্ভে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। যে সন্তানের চরিত্র ছিল সৎ ধার্মিক অথচ মহাশক্তিশালী পুরুষ। তার স্বভাব ছিল, সৎ মানুষের কাজে বিপদে-আপদে সাহায্য করা। অন্যায়কে কোনদিনই প্রশ্রয় দিত না। যারা সনাতন বা হিন্দু ধর্মবিলম্বী, বালসীমের পুত্র সন্তান, তথা বানর রাজার বংশকে হনুমান বলে থাকে এবং দেবতার স্থানে অর্চনা করে থাকে।

।। সমাপ্ত

কভার ছবি মিখাইল আরেং

গারো কবি ও লেখক বেনেডিক্ট_এম_সাংমা

গারো কবি ও লেখক বেনেডিক্ট এম. সাংমা

আগের পর্ব…

https://thokbirim.com/2020/08/16/%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost