Thokbirim | logo

২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১২ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রিয়ন্তিনীর সেবার মশাল।। রকি গৌড়ি 

প্রকাশিত : আগস্ট ১৭, ২০২০, ১৫:৩৪

প্রিয়ন্তিনীর সেবার মশাল।। রকি গৌড়ি 

হাজার হাজার শিশুরা তুলোর মতন ভূষণ পরা । তাদের হাস্যোজ্বল মুখ জোছনার হাজার চাঁদের চেয়ে লাবণ্যময় দেখাচ্ছে। তাদের পেছনে এক লণ্ঠনধারিণী দাঁড়িয়ে আছে স্ট্যাচু অফ লির্বাটির মতো। চোখে তার স্বপ্ন পলাশ ফুটে আছে । চুলগুলো মেলে আছে শত অস্ত্রের ফলার মতো। পাহাড়ি নদীর মতো যৌবেনের স্নিগ্ধ আলো নিগূঢ় ভাঁজের আঙিনায় মিশে আছে উর্বরতায় । শিশুরা তার মহিমায় মুগ্ধ নয়নে দৃষ্টি রেখে বলল, আমাদের সাথে খেলবে। আমাদের ভালোবাসবে ।

সেই লণ্ঠনধারিণী তার রুপের ঝর্নার মতো জ্বলতে থাকা লণ্ঠন ছুঁড়ে দিলো আকাশে নীল ঠোঁটের মতন চুম্বন করার অপেক্ষায় থাকা মেঘের দিকে । নীল ঠোঁটের চুম্বনে মিশে গেছে লন্ঠনের তৃষিত পুরো শরীর । আকাশ জুড়ে শুভ সকালের সূচনা হলো । শিশুদের আকুল আহ্বানের মূর্ছনায় শিশুদের অন্তরে অন্তর রেখে দুটো হাত আঁকড়ে ধরার মতো প্রসারিত করে শিশুদের কাছে ডাকল।সেই মেয়ে । শিশুরাও তার কাছে এলো । তখন মহালিঙ্গনের সমুদ্রস্রোতে জাগড়িত হলো সমাজের সকল অসেচতন চোখ । দমকা হাওয়ার মতো একটা মশা কানের কাছে উড়ে যেতেই ঘুম ভাঙল প্রিয়ন্তিনীর ।

প্রিয়ন্তিনী বাবা মার একমাত্র সন্তান । সবে বিয়ে পাশ করল । বিয়ের পিঁড়িতে বসাতো দূরে রইল তার আশে-পাশেও সে নেই । স্বপ্নের রুপবতী লণ্ঠনধারিণী সেই । তার ই্চ্ছে সে শিশুদের নিয়ে কাজ করবে । সেই আহ্ববান তার স্বপ্নে খেলা করে রীতিমত । তবে কীভাবে সে শিশুদের সেবা করবে, শিশুদের তার কাছে টেনে নেবে? প্রশ্নোত্তর খুঁজে ।

পত্রিকার পাতায় পড়ে তাবীব মাহমুদের ভাইরাল হওয়া গালিবয়ের জীবনী । গালিবয় রানা সত্যি অসাধারণ । এমনি অনেক প্রতিভা ছড়িয়ে আছে সারাদেশে । যারা একটু ভালবাসা সহযোগিতা পেলে জেগে উঠতে পারে অবহেলার মরুভূমি থেকে । প্রিয়ন্তিনীর স্বপ্ন সে পথে-ঘাটে পড়ে থাকা শিশুদের তার সেবা ও ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলবে । একদিন প্রিয়ন্তিনী তার বান্ধবী জেসিকার কাছে ইচ্ছের বিষয়টা জানাই । জেসিকা প্রফুল্লচিত্তে বলল আরে! সেতো ভাল কথা । কাল আমার বাসায় আসবি তোকে নিয়ে এক জায়গায় যাবো ।

প্রিয়ন্তিনী প্রবল আগ্রহে জানতে চাইল, কোথায় নিয়ে যাবি?

জেসিকা বলল, দেখিস নিশ্চয় তোর স্বপ্ন পূরণের দেশে ।

– দেশে? সে আবার কোন দেশ?
-তুই গেলেই দেখতে পাবি ।

প্রিয়ন্তিনী তার বাসায় আসল । সন্ধ্যা পেরিয়ে শুরু হলো প্রিয়ন্তিনীর রাতের ব্যকুল সময়ের স্বপ্নজ্বালা । আবার সেই আহ্ববান । ঘুম ভাঙে তার শিশির জলবিন্দুর পাতায়
পূজিত র্সূযত্যাজে । নিজেকে সতেজতার স্নানে ভিঁজিয়ে । সেজেগুজে রওনা হয় জেসিকার বাসায় । জেসিকাও প্রস্তুত হয়ে একসাথে রওনা হয় এক জায়গায় । তারপর তারা একটি প্রাচীর ঘেরা বড় আঙিনায় প্রবেশ করে । প্রায় শত শত শিশুরা খেলা করছে সেই বড় আঙিনায় । ঘাস-গাছপাতা – সবুজ পাতার দেশে । মাদার তেরেজার মতো পোশাক পরা কিছু নারী তাদের সাথে খেলা করছে ।

তাদেরকে দেখতেই এগিয়ে এলো একজন নারী । পরনে তার সাদা শাড়ি । মাথায় চুল সাদা রঙের কাপড়ে ঢাকা ও নীল পাড় আছে। জেসিকা ওনার কাছে প্রিয়ন্তিনীর ই্চ্ছের কথা প্রকাশ করল । তিনি তখন বললেন, হ্যাঁ আমাদের সাথে কাজ করতে পারে । তবে আমাদের কিছু প্রক্রিয়া আছে । আমরা যারা মানবতার জন্য কাজ করি আমরা শুধু এই পথেই হাঁটি । আমরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই না । এই কথা জেনে প্রিয়ন্তিনীর দিকে তাকাতেই দেখে সে তার পাশে নেই দূরে বাচ্চাদের সাথে খেলা করছে । তারপর প্রিয়ন্তিনীকে ডেকে সব কথা জানায় ।

প্রিয়ন্তিনী হাসিমুখে বলে, ঠিকাছে কাল আমরা আবার আসছি । তারপর দুজন সেখান থেকে প্রস্থান করে । প্রিয়ন্তিনী বাবা মার কাছে সব কথা বলে । বাবা মা অমত পোষণ করে । কিন্তু একটা সময় বাবা মা মেয়ের প্রবল বাসনা জানতে পেরে তাকে আর বাধা দেয়নি । তারপর একদিন প্রিয়ন্তিনীর বাবা মা প্রিয়ন্তিনীকে নিয়ে আসে সেই শিশুদের রক্ষাকেন্দ্রে ।

বাবা মা খুব চিন্তায় আছে মেয়েকে একলা রেখে যেতে । প্রিয়ন্তিনী বলল বাবা মা আমার জীবনের জন্য তোমাদের অনেক ধন্যবাদ । আমি তোমাদের যে কষ্ট দিয়েছি তার জন্য দুঃখিত । বাবা মা বলল, তুই আমাদের মাথা উঁচু করেছিস মা । মানব সেবার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে । তোর জন্য অনেক আর্শীবাদ রইল । তোকে একা রেখে যেতে ইচ্ছে করছে না মা । একটুপর অবাক হয়ে দেখে জেসিকা সাদা শাড়ি নীল পাড় মাথায় তার সামনে এসে দাড়িঁয়েছে । বন্ধু আমি আছি তোর সাথে । বাবা মা এ দেখে নিশ্চিন্ত হলো ।

একটু পর দেখল শত শত শিশু প্রিয়ন্তিনীর সামনে এসে দাড়িঁয়েছে । তারা শুভ্রপোশাক পড়া । তাদের প্রত্যেকের হাতে প্রজ্বলিত মোমবাতি । প্রিয়ন্তিনীকে স্বাগত জানাচ্ছে । সকল শিশুরা একত্রে বলে উঠল আমাদের সাথে খেলবে। আমাদের ভালোবাসবে । প্রিয়ন্তিনী সেই স্বপ্নের মতো নিজের দুহাত প্রসারিত করে সবাইকে আপন করে নেয় । মেঘের সাথে প্রিয়ন্তিনীর স্বপ্নের পবিত্র চুম্বন হলো । শিশুদের সেবাই মাতৃত্বের হলো পূর্ণতা।

প্রচ্ছদ  তিতাস চাকমা

আরো লেখা

https://thokbirim.com/2020/08/09/%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%80-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a5%a4/




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x