Thokbirim | logo

২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১২ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গারো জাতির আদিতত্ত্ব কথা ।। বেনেডিক্ট এম. সাংমা

প্রকাশিত : আগস্ট ১৬, ২০২০, ১৮:০১

গারো জাতির আদিতত্ত্ব কথা ।। বেনেডিক্ট এম. সাংমা

গারো সম্প্রদায়ের কবি ও লেখক বেনেডিক্ট এম সাংমা গত ২৬শে মে ২০২০ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর অসংখ্য লেখা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ‘গারো জাতির আদিতত্ত্ব কথা’ লেখাটি থকবিরিমের বিশেষ প্রতিনিধি তরুণ লেখক জাডিল মৃ বেনেডিক্ট এম. সাংমার ছেলের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন। থকবিরিম পাঠকদের জন্য পুরনো লেখাটি নতুন করে লেখকের ছেলের অনুমতি নিয়ে প্রকাশ করা হলো -বি.স

গারোরা ইজরায়েল জাতির বংশোদ্ভুত। বাইবেল অনুসারে, পৃথিবীতে মনুষ্য জাতির মধ্যে ইসরায়েল জাতি হচ্ছে ঈশ্বরের আশির্বাদ ধন্য জাতি। বিখ্যাত গারো  গ্রন্থাকার- দেয়ান সিং রংমুথু লেখা- APASONG AGANA (OUR FATHERS TEL US) নামক গ্রন্থে গারোদের পৌরাণিক কথা কাহিনিগুলো যথাক্রমে ২২৮ পৃষ্ঠা ও ২২৯ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত আছে। লেখকের জন্ম স্থান : দক্ষিণ গারো পাহাড়ের জেলা এবং মেঘালয় অঙ্গ রাজ্যে মনুষ্য সৃষ্টির বংশাবলির পরিচয় পত্র, বাইবেলের ১ম অধ্যায় অনুসারে, প্রথম আদিপুরুষের নাম আদম ও প্রথমা নারীর নাম হাওয়া বা হবা। প্রথম পুরুষ ও নারীর বহুসহস্র বংশ-জাতের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্ম হয়। তার নাম লেবীয়, লেবীর ঔরসে মহাপরাক্রম শালী ৬(ছয়) পুত্রের জন্ম হয় প্রথম পুত্রের নামঃ ঈষাখর, দ্বিতীয় জনের নাম-বিন্যামিন বা বেঞ্জামিন এবং আরও অনেকে।

প্রাচীনকালে ইজরায়েল দেশ থেকে বেঞ্জামিনের বংশের, এহেরা নামে এক ব্যক্তি স্ত্রী বেহেরা এবং দলের বহুসংখ্যক লোকজনকে নিয়ে ইসরায়েল দেশের সমারীয়া নামক স্থান ত্যাগ করে চলে যায় এবং সিরিট নামক রাজ্যে গিয়ে দলবলসহ বসতি স্থাপন করে। সেখানে এহেরার ঔরসে বেহারার গর্ভে দুটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। প্রথম পুত্রের নাম-১) জাপান ও দ্বিতীয় পুত্রের নাম ২) আচিক (ACHIK) বর্তমানে সিরিট নামের দেশটি, রাশিয়ার দক্ষিণাংশে অবস্থিত।

পূনঃরায়  এহেরা এবং বেহেরা সবাইকে নিয়ে মজিব নামক দেশে চলে যায়। সেই জায়গাটি সমতল ভূমি ছিল এবং এহেরা-বেহেরার এক সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা ছিল কিম্পল। এই সময় সেখানে তাদের বসতি ছিল, সেখানে প্রায়ই সময়ে আশে পাশে মানুষের চিৎকার আওয়াজ শোনা যেত, অথচ দেখা দিত না। অতঃপর অদৃশ্যের আওয়াজ ও চিৎকারে অতিষ্ট হয়ে সবাইকে নিয়ে মজিব দেশটি ত্যাগ করে জিন নামক স্থানে চলে যায়। এখানে ১ (একটি) বছর বসবাসের পর একপুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রেখেছিল Waib(ওয়েব)। কিমপল এবং ওয়েব, মহাশক্তিশালী এবং লড়াকু পুরুষ ছিল।

পরবর্তীকালে এই দুই ছেলেকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। জিন দেশটি পাহাড় পর্বতে আবৃত ছিল। এখানেও প্রতিরাত্রে অদৃশ্যের চিৎকার আর আওয়াজ শুনতে পেত। অতঃপর জিন এই দেশটি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সেই অদৃশ্যের চিৎকারে । তাই সমগ্র  লোকজনকে নিয়ে চেমাং নামক পাহাড়ে চলে যায়। সেখানে তিন বছর বসবাস করে এবং এক সন্তানের জন্ম হয়।

যার নাম বাংকুলা পরে এবান নামের আর এক সন্তানের জন্ম হয়। এখানে অদৃশ্য শক্তির এক ছলনাময়ীর দ্বারা প্ররোচিত হয়ে এহেরা বেহেরার প্রথম পুত্র সন্তান জাপান একটি দলবল নিয়ে পূর্ব দেশের উদ্দেশ্যে চলে যায় কোন অজানার সন্ধানে। বর্তমানে সূর্যোদয়ের দেশ অথবা জাপান দেশ বলে পরিচিত।

এহেরার দ্বিতীয় সন্তান, যার নাম  আচিক (ACHIK দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতো এবং নিদ্রা যেতো। যা নিতান্তই অস্বাভাবিক। অন্যান্য মানুষের ন্যায় মাটিতে বিশ্রাম এবং নিদ্রা যাওয়ার অভ্যাস ছিল না। তাই তারই নির্দেশে SANGKO বা MASANG তার উচ্তার পরিমাপে তৈরি করা হয়।

আগামী পর্বে  সমাপ্ত ।

আরো লেখা...

গারো অঞ্চলে খ্রিষ্ট ধর্মের আগমন  ।।  শেষ পর্ব ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

সংস্কৃতি সংরক্ষণে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানার প্রয়োজনীয়তা  ।। পর্ব- ৪।। মণীন্দ্রনাথ মারাক




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x