Thokbirim | logo

৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পালাগান ‘সেরেজিং’ ।। পর্ব-৭ ।।মতেন্দ্র মানখিন

প্রকাশিত : আগস্ট ১০, ২০২০, ১৩:৩০

পালাগান ‘সেরেজিং’ ।। পর্ব-৭ ।।মতেন্দ্র মানখিন

ওরা সেরেনজিংকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরদিন সকালে নোরেং (মাসি) থোরার বাবাকে খবর দেয় বিয়ের আয়োজন করতে। ঘটা করে আর সেরেনজিংকে বিয়ে দেয়া গেল না। একজন  খামাল (পুরোহিত) ডেকে দুটো মোরগ বধ করে খামালের মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে থোরার সাথে সেরেনজিংয়ের বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হল। তবে খামাল দোবিক সিম্মা অর্থাৎ মোরগের নাড়িভূরি পরীক্ষা করে বলেছে এ বিয়েতে মিলন হবেনা বিচ্ছেদ হবে। সব কিছু উপলদ্ধি করার পর সেরনজিং নীরব রয়ে গেলো। তবে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো সে কোনমতেই থোরার সাথে বাসর শয্যায় মিলিত হবে না।  এ কখনো হতে পারে না। আগেই বলা হয়েছে থোরা ছিলো নিতান্ত হাবা গোছের লোক। অভিভাবকেরা সেরেনজিংকে থোরার ঘরে ঢুকিয়ে দেয়ার পর সেরেনজিয়ং তার সাথে এটা ওটার অনুযোগ অভিযোগ জানিয়ে কয়েকদিন কাটিয়ে দিল। ছোট বোন সেরেনজিংকেও সে এখন  ধারে কাছে পায় না। তাকেও চোখে চোখে রাখে মাসি। একদিন কি একটা কাজে সেরানী এসেছিল থোরার ঘরে। দিদিকে কাছে পেয়ে কিছু বলতে চায়লো সেরানী। সেরানী থোরার কাছে বিড়ি চাইলে সে অন্য ঘর থেকে বিড়ি আনতে গেল। এই ফাঁকে সেরেনজিং ছোট বোন সেরানীকে বললো

-নদী ঘাটের যে ছোট বাড়িটা সেখানেই ওয়ালজানের রাখাল বন্ধু থাকে। তাকে যেন সে খবর দেয় ওয়ালজামকে খুঁজতে।

সেরানীর কথামত ওয়ালজামকে খোঁজতে বের হল ওয়ালজামের রাখাল বন্ধু। অনেক খুঁজা খুঁজির পর তাকে পাওয়া গেল। অন্য এক পাহাড়ে পাগলের মত বেড়ায় সে। বন্ধুকে পেয়ে সব খুলে বলল। ওয়ালজান প্রথম সে কথা বিশ্বাস করতে চায়নি। তখন বন্ধুটি বললে।

-তোমার জন্য দিন গুনছে সেরেনজিং। যদি তুমি তাকে গ্রহণ না করে তবে সে আত্মহত্যা করবে।  এই  তার শেষ কথা। আমি সব জেনে এসেিেছ। সে সতীনারী আগামী বুধবার মেসো মাসি ও মামারা সেরেনীর  পাত্র খোঁজার জন্য বাড়ি থেকে অনেক দূরে চলে যাবে। এই সূবর্ণ সুযোগ। দুই বন্ধুতে অনেক্ষণ আলাপের পর ঠিক হল বুধবার রাতেই সেরেনজিংকে নিয়ে পালাতে হবে। সেদিন থোরাকে সারাদিন “চু” মদ খায়ানো হল। সন্ধার সাথে সাথেই সে ঘুমিয়ে পড়েছে। সেরেনিকে কাছে ডেকে বিয়ের অলংকারাদি সব তার কাছে রেখে সেরেনজিং রাতের আঁধারে গৃহত্যাগ করলো ওয়ালজানের বন্ধুর সাথে। সিমসাং নদীর ওপারে ওয়ালজান অপেক্ষা করছিলো। ওয়ালজামকে দূরবর্তী পাহাড়ে জুমক্ষেতে মাচাং বেঁধে ক্ষেতপাহাড়া দেবার কাজে নিয়োজিত করেছে। ওয়ালজান সেখানেই থাকে। সেরানী তার জন্য খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যায়। ওয়ালজানকে কিছুদিন ধরে দেখতে না পেয়ে সেরেনজিংয়ের মন কাঁদে। ঘরের কাজে মন বসে না । মন ছুটে যায় নীল পাহাড়ে জুম ক্ষেতে।

“রামা বাখো রেগিনক সিলাংদারে রারাজক

আংআসামিং দংনাজক সংও ওয়ালজাম দংজাজক”।

বাংলা

কোন পথে যাবো আমি চারদিকে পাহাড় আর পর্বত

ওয়ালজাম ছাড়া অন্ধকার আমি দেখি এ জগত।

সেরেনজিং এর মনের অবস্থা কে বোঝে! যদি ওয়ালজামকে সে একবার কাছে পেত। এদিকে তার মামাত ভাই থোরার সাথে তার বিয়ের দিন তারিখ ঘনিয়ে এসেছে। একদিন তার ছোট বোন সেরানীকে সে বলে।

-ওয়ালজানকে আজ সন্ধায় নদীর ঘাটে বট গাছের কাছে থাকতে বলবে। যদি না আসে তাহলে আমি সোমেশ্বরী জলে ডুবে মরব।

চলবে…

পালাগান ‘সেরেজিং’ -এর অন্যান্য পর্বগুলো:

পালাগান সেরেজিং ।। পর্ব-৬।।মতেন্দ্র মানখিন

পালাগান সেরেজিং ।। পর্ব-৫।।মতেন্দ্র মানখিন

পালাগান সেরেজিং ।। পর্ব-৪ ।।মতেন্দ্র মানখিন

পালাগান সেরেজিং ।। পর্ব-৩।।মতেন্দ্র মানখিন




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost