Thokbirim | logo

১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রাষ্ট্রের অ্যান্টাগনিজম ।। নিগূঢ় ম্রং

প্রকাশিত : আগস্ট ০৯, ২০২০, ২৩:২৭

রাষ্ট্রের অ্যান্টাগনিজম ।। নিগূঢ় ম্রং

‘আমরা মনে করি, আত্মপরিচয়ের অধিকার আদিবাসীদের রয়েছে। রাষ্ট্র কোনো জাতির পরিচয় চাপিয়ে দিতে পারে না। আইএলও কনভেনশনে উদ্ধৃতি দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদিবাসী অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন, যা সঠিক নয়।আইএলও কনভেনশনের মূল কথাই হলো আত্মপরিচয়ের নীতিকে শ্রদ্ধ করা।’-সঞ্জীব দ্রং  (প্রথম আলো ১২-০৮-২০১১)

নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে আদিবাসী আদিবাসী পরিচয় নির্ধারণে আদি বাসিন্দা কিংবা আদি বাসিন্দা নয়। এটা মূখ্য বিষয় নয়, মূখ্য বিষয় অন্য কিছু। খুব সহজভাবে বলা হয়ে থাকে, প্রাক ঔপনিবেশিক সময় থেকে যাঁরা যে এলাকায় বসবাস করে আসছেন, তাঁরা সেই এলাকার আদিবাসী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং যাঁদের সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পূদের সম্পর্ক  আছে, যাঁদের নিজেদের সামাজিক,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা আছে,যাঁদের নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতি এবং বিশ্বাস আছে, তাঁরাই আদিবাসী।’-শাহানা হুদা (২৩,১০,২০১০)

‘আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী,  আদিবাসী (Indigenous) বলতে যা বোঝানো হয় তা হলো, যেসব জনগোষ্ঠী  প্রাক ঔপনিবেশিক সময় থেকে কোনো অঞ্চলে বসবাস করছে এবং তার ভাষা, প্রথা, আইনকানুনসহ সংস্কৃতি অক্ষুণ্ণও রেখেছে এবং যারা সে দেশের অধিপতিশীল জনগোষ্ঠীর অংশ নয়।তারাই সে দেশের আদিবাসী বলে বিবেচিত হবে। সে হিসেবে বাংলাদেশের বসবাসরত  আদিবাসীরা কেন আদিবাসী হিসেবে বিবেচিত হবে না? সে বিষয়ে সরকারের বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন, সরকার যদি নিজের মতো করে আদিবাসী সংজ্ঞায়ন করে (যা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে) তাহলে তো খুবই মুশকিল। মুশকিল বোধ করি নৃবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবেও,সমস্যাবোধ করি একজন নাগরিক হিসেবে’- জোবাইদা নাসরিন(প্রথম আলো ৩১-০৫-২০১১)

উপরোক্ত কথাগুলো আদিবাসী আছে? আছে!  নামক আদিবাসী নাম বির্তকের প্রবন্ধ সংকলন থেকে নেওয়া।  আমার নতুন করে বলার কিছু নাই উপরোক্ত কথাগুলোর সাথে দু কথা লিখলাম- আদিবাসীদের অধিকারের প্রশ্নে এদেশ এই রাষ্ট্র সরকার উদাসীন।

সংবিধান

সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আছে “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

একইভাবে ২৮(১১) অনুচ্ছেদে আছে, কেবল ধর্ম,গোষ্ঠী,  নারী পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে  কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না।

সংবিধানে  যেখানে বলা আছে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না। কিন্তু আমরা পরিস্কার দেখতে পাই এদেশে সংখ্যায় কম বলে বিভিন্ন অপরাপর জাতিগুলোর প্রতি এদেশের সংখ্যাগুরুদের সাথে রাষ্ট্র মিলে সকল সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে চাই -করছে। এর হাতিয়ার হিসেবে তুচ্ছার্থে  উপজাতি কিংবা ক্ষুদ্র নামকরণে শব্দগুলো আমদানি  করছে।  সাংবিধানিক  স্বীকৃতির এ দাবিকে বারবার অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে বরং জাতি-রাষ্ট্র আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাথে একটা বৈরী সম্পর্ক তৈরি করছে! সমাজ বিজ্ঞানের পরিভাষায় অ্যান্টাগনিজম’  রাষ্ট্র কি তাহলে এ বৈরী সম্পর্কই তৈরি করতে চাই?

সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপুমনি তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়  বলেছেন- জনসংখ্যার মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ  মানুষকে বিশেষ আর উন্নত পরিচয় দিতে গিয়ে বাকি ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ  মানুষের অধিকার হরণ করা যাবে না।

ভাবুন তো- ৯৮দশমিক ৮শতাংশ মাত্র ১দশমিক ২ শতাংশ অবহেলিত মানুষের দায়িত্ব নিতে পারবে না? কিসের সংখ্যাগুরু!

আদিবাসী হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আমাদের জীবনযাপনের সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান, এর সাথে জড়িত আমাদের ভাষা ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিচর্চা র অধিকার। আশা করি সরকার রাষ্ট্র দেশ সংখ্যাগুরু এবং সংবিধান এই সত্যতা একদিন বুঝবে।

সংবিধান কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়, আমরা চাইলে একে আবার সংশোধন করতে পারি। মানুষই সংবিধান তৈরি করে মানুষের জন্যই।

কভার ছবি :  নিজস্ব সাজে  গারো সম্প্রদায়ের দুই শিশু। ছবি সংগৃহীত

লেখক পরিচিতি ; নিগূঢ় ম্রং গারো সম্প্রদায়ের তরুণ লেখক।

লেখক নিগূঢ় ম্রং




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x