Thokbirim | logo

৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত আদিবাসী ফোরামের প্রবন্ধমালা

প্রকাশিত : আগস্ট ০৭, ২০২০, ১৫:৩৫

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত আদিবাসী ফোরামের প্রবন্ধমালা

৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস। এ বছর ২৬তম আদিবাসী দিবস পালন করতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় -“কোভিড ১৯ মহামারি ও আদিবাসীদের জীবনজীবিকার সংগ্রাম’। বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসীগণও পালন করতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০১৯) সকাল ১১:৩০ মি.  ঢাকায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২০ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধ পাঠ করে শোনান বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মি. সঞ্জীব দ্রং। পাঠকৃত সেই প্রবন্ধ থকবিরিম পাঠকদের জন্য সংগ্রহ ও অনুলিখন করেছেন থকবিরিমের বিশেষ প্রতিনিধি জাডিল মৃ।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পক্ষ থেকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। প্রতি বছর আমরা আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। এবার কোভিড ১৯ এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ওয়েবিনার আয়োজন করছি। এই সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা সবাই জানি, কোভিড ১৯ এর কারণে পুরো পৃথিবী কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবার ও  স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। বিশেষ করে মানুষের সেবা করতে গিয়ে যে সকল স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য , সরকারি ও বেসরকারি কমকর্তা, স্বেচ্ছাসেবী ও নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের অবদানও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

আপনারা জানেন, ৯ আগস্ট বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ ঘোষিত ২৬তম আদিবাসী দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১৯৯৪ সালে রেজুলেশন ৪৯/২১৪ গ্রহণ করে ৯ আগস্টকে আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং তা পালনের জন্য ̈ সদস্য ̈ রাষ্ট্রসমূহকে আহবান জানায়। তারপর থেকে গত ২৫ বছরে বৈশ্বিক পর্যায়ে অনেক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তন্মধ্যে ২০০০ সালে জাতিসংঘে আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম গঠন, ২০০১ সাল থেকে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোটিয়ার নিয়োগ, ২০০৫-২০১৪ সালের সময়কালকে দ্বিতীয় আদিবাসী দশক হিসেবে পালন, ২০০৭ সালে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র গ্রহণ, ২০০৭ সালে আদিবাসী অধিকার সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কর্মব্যবস্থা প্রবর্তন, ২০১৪ সালে সাধারণ পরিষদের বিশ্ব আদিবাসী সম্মেলন আয়োজন এবং এ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘আউটকাম ডকুমেন্ট’ গ্রহণ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘কাউকে পেছনে ফেলে রাখা নয়’ বা  ‘Leave No One Behind’ শ্লোগান নিয়ে যে এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ̈ ২০৩০ এজেন্ডা জাতিসংঘ গ্রহণ করেছে, সেখানে আদিবাসীদের কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে। তাই করোনাকালেও আগামীতে এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদিবাসী জনগণ এবং আদিবাসী সংগঠনসমূহ কিভাবে অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ করতে পারে, তার উপায় খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।

আপনারা জানেন, আদিবাসীদের জীবনধারা, মৌলিক মানবাধিকার, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি তথা আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকার সম্পর্কে সদস্য ̈ রাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া, সংখ্যাগরিষ্ঠ অ-আদিবাসী জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করে তোলা এবং আদিবাসীদের অধিকারের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি করাই হলো আদিবাসী দিবস উদযাপনের মূল লক্ষ্য। দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য̈ করছি, বিগত দুই যুগেও আমাদের দেশে এই কাজগুলো বাস্তবায়নে সরকারসমূহ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার পরিচয় দিতে এগিয়ে আসেনি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

জাতিসংঘের মতে, বিশ্বের ৯০টি দেশে প্রায় ৪০ কোটির অধিক আদিবাসী রয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত ২০২০ সালের আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য ̈ বিষয় “Covid 19 and Indigenous People’s Resilience.” এই মূলসুরের সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে, “কোভিড ১৯ মহামারি ও আদিবাসীদের জীবন জীবিকার সংগ্রাম”। আদিবাসীদের বর্তমান বাস্তবতায় এই মূলসুর অত্যন্ত  তাৎপর্যপূর্ণ। আদিবাসী জনগণ দারিদ্রের মধ্যেও প্রান্তিক। তারা ঐতিহাসিকভাবে শোষণ, বৈষম্য̈ ও বঞ্চনার শিকার। এখন করোনার কারণে আদিবাসীদের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়েছে। আদিবাসী সংগঠনসমূহের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এরই মধ্যে আমাদের দেশে সমতলের আদিবাসীরা শতকরা ৭০ভাগ দারিদ্রসীমার নীচে চলে গেছে। অনেক আদিবাসী চাকুরি হারিয়েছেন। শহরে আদিবাসী গার্মেন্টস কর্মী, হোটেল কর্মী, বিউটি পার্লারের নারী কর্মী, গাড়ি চালক, গৃহকর্মী, সিকিরিটি গার্ড ও অন্যান্য ̈ ইনফরমাল সেক্টরের আদিবাসীরা তাদের চাকুরি হারিয়ে অনেকে গ্রামে ফিরে গেছেন। এই ধরনের চাকুরি হারানো আদিবাসী মানুষের সংখ্যা অন্তত কয়েকহাজার হবে। কৃষি ও অন্যান্য ̈ কাজের সঙ্গে যুক্ত আদিবাসীদের অবস্থাও অনিশ্চিত। যে সকল আদিবাসী দিনমজুর ও দৈনিক পারিশ্রমিকের কাজ করেন, তাদের জীবনেও নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। আমরা কেউ জানি না কোভিড পরিস্থিতি কবে শেষ হবে। এই পরিস্থিতি যদি আরো দীর্ঘায়িত হয়, তবে আদিবাসী প্রান্তিক মানুষেরা অবস্থা হবে আরো শোচনীয়। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আদিবাসীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা সহায়তা দেয়া হোক। এই ধরনের প্রণোদনা প্রদানের সময় স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনসমূহকে যুক্ত করতে হবে যাতে কোনো আদিবাসী বঞ্চিত না হন। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, এবারে বিশাল আকারের বাজেট প্রণীত হলেও করোনা-সহায়তা হিসাবে আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। গতানুগতিক বাজেট হয়েছে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ

স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর হতে চললো, দেশের ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগণ মানবাধিকার ও মৌলিক  স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সম্পূর্ণ এক অনিশ্চিত ভবিষ ̈তের দিকে আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ক্রমাগতভাবে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এক সময় যেসব অঞ্চলে আদিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, সেখানে ‘পপুলেশন ট্রান্সফারের’ ফলে আদিবাসী জনগণ নিজভূমিতে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। আদিবাসীদের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা, এখন আত্ম-পরিচয়, মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার উপর এসে পড়েছে এই কোভিড ১৯, যার কারণে আদিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক মানুষের জীবন ও জীবিকা আরো অনিশ্চিত ও হুমকির মুখোমুখি হয়েছে। সরকার করোনা মোকাবেলায় চেষ্টা করছে,  কিন্তু আদিবাসী প্রান্তিক মানুষের অসহায়ত্ব ও বিপন্নতা অনেক গভীরে, যে কারণে আমরা এই করোনার সময় বিশেষভাবে অথনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে আদিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

আপনারা নিশ্চয় জানেন, আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো নয়। এই করোনাকালেও আমাদের এই কথাগুলো বলতে হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আদিবাসীদের ভূমি জবরদখল ও তাদের চিরায়ত ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার হীন উদ্দেশ্য আদিবাসীদের উপর সাম্প্রদায়িক হুমকি, আদিবাসীদের ভূমি জবরদখল ও উচ্ছেদ, আদিবাসী নারী ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণসহ নৃশংস সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে আদিবাসী নারীর উপর সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২ বছর অতিবাহিত হলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ বাস্তবায়িত হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন থমকে আছে আর পাহাড়ের মানুষ সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মধ্যে দুর্বিষহ জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের অবস্থাও ভালো নয়।

সরকার বার বার সমতলের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন করেনি। এই বিষয়ে নূন্যতম পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো লক্ষণ নেই।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

আমরা সব সময় দেশের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজকে সাথে নিয়ে নানা প্রতিকূলতা সত্তেও বাংলাদেশের আদিবাসী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলছি। দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজ আদিবাসী অধিকার রক্ষায় ও জনসচেনতা তৈরিতে অবদান রাখছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সংগ্রামের পথেই আদিবাসীরা একদিন না একদিন তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের পথে নতুন চেতনায় উজ্জীবিত  ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন। এ বছর বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আমরা আমাদের মূল সমাবেশ, র‌্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করছি না।

তাই কোভিড এর কারণে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও আমাদের সহযোগী বন্ধুরা নীচে উল্লেখিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে :

– ৭ আগস্ট রাত ৮টায় আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস আয়োজিত আদিবাসী দিবস উপলক্ষে ওয়েবিনার। ককাসের কনভেনর জননেতা ফজলে হোসেন বাদশা এমপি সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

– ৮ আগস্ট বিকাল ৩টায় এএলআরডি-প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল ওয়েবিনার। একই দিন জনইতিহাস চর্চা কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আদিবাসী দিবস উদযাপন বিকাল ৪টায় যেখানে ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র যোগ দিবেন।

– ৯ আগস্ট সকাল ১০টায় শুরু হবে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনা।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভিডিও বার্তা। দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তা। আদিবাসী

শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা। বিকালে ওয়েবিনার আলোচনা যেখানে বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন।

রাত ৮টায় বিশ্বব্যাপী কোভিড মহামারিতে যারা মৃত্যু ̈বরণ করেছেন তাদের স্মরণে এবং ধরিত্রীর সুস্থ্য̈তার জন্য প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। নিজ বাড়িতে বসে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও এক মিনিট মৌনব্রত পালন।

– ১০ আগস্ট বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আদিবাসী দিবস উদযাপন।

-১১ আগস্ট বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার যেখানে জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ

বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন।

– ১২ আগস্ট আইইডি ও জনউদ্যোগ আয়োজিত আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান।

– ১৩ আগস্ট বিএনপিএস ও আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক আয়োজিত আদিবাসী নারীর অধিকার বিষয়ক সেমিনার।

এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলায় নানাভাবে আদিবাসী দিবস উদযাপন করা হবে।

সাংবাদিক বন্ধুগণ,

আপনারা জানেন বহু বছর ধরে আমরা আদিবাসীদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ অধিকারসহ সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি জানিয়ে আসছি। আজ করোনাকালীন এই বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কয়েকটি দাবি আপনাদের মাধ্যমে তুলে ধরছে :

১. আদিবাসীসহ সকল নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যেহেতু আদিবাসীরা

অতি প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করেন এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অবস্থা নাজুক, তাই বিশেষ গুরুত্ব  দিয়ে আদিবাসী অঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

২. করোনা মহামারির কারণে যে সকল আদিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং অনিশ্চিত জীবনের সম্মুখিন, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় এককালীন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করতে হবে।

৩. সারা দেশে কমপক্ষে ১০,০০০ হাজার আদিবাসী পরিবারকে করোনাকালে খন্ডকালীন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে পারেন।

৪. আদিবাসী ছাত্রছাত্রী যাতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে না পড়ে, তার জন্য আর্থিক সহায়তাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৫. সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা এসডিজি বাস্তবায়নে আদিবাসীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

৬. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে সময়সূচি-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। ভূমি কমিশন আইন অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন ও অপারেশন উত্তরণ প্রত্যাহার করতে হবে।

৭. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র অনুসমর্থন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। আইএলও কনভেনশন ১০৭ বাস্তবায়ন ও ১৬৯ নং কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করতে হবে।

৮. সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়সহ ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য অবিলম্বে ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। আদিবাসীদের ঐতিহ্য ̈গত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।

৯. আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস কর্তৃক প্রণীত আদিবাসী অধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে।

১০.আদিবাসীদের উপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। আদিবাসী নারীসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

১১. গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের উপর চরম মানবাধিকার লংঘনের বিচার করতে হবে এবং অবিলম্বে তাদের ভূমি ফেরত দিতে হবে।

১২. মধুপুর বনে ঘোষিত রিজার্ভ ফরেস্ট গেজেট বাতিল করতে হবে এবং আদিবাসীদের ভূমি মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।

১৩. পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের উপর মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

১৪.জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

আজ আদিবাসী দিবসের প্রাক্কালে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে যে, আপনারা আদিবাসীদের উপর মানবাধিকার লংঘনের প্রতিবাদে ও প্রতিরোধে নানাভাবে এগিয়ে এসেছেন। আমরা মনে করি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া, মানবাধিকার সংগঠন, এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আদিবাসী অধিকার রক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে। আদিবাসী জনগণের সাথে বাঙালি জনগণের মধ্যে  সংহতি স্থাপন ও সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আদিবাসী জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেখানে আস্থাহীনতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব রয়েছে, সেখানে আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তি রচনায় কাজ করতে হবে। আসুন, সকলে মিলে আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সকল বাধা-ব্যবধান দূর করে আদিবাসীদের পাশে দাঁড়াই। আদিবাসীদের অধিকার হলো মানবাধিকার।

আদিবাসী ইস্যুতে জনসচেতনতা তৈরিতে সরকার, জাতিসংঘ, নাগরিক সমাজ ও গণ-মাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা পালন করা জরুরি। জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্রে যে সকল অধিকার আদিবাসীদের দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা এবং আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক ও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় আদিবাসীদের স্বাধীন ও পূর্বাবহিত সম্মতি গ্রহণ নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব।

আবারো আপনাদের সকলকে আদিবাসী দিবসের অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই করোনাকালে সকলে সুস্থ্য থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন, এ কামনা করছি। আপনাদের সকলকে অশেষ ধন্যবাদ ।

অজয় এ মৃ

সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম

সঞ্জীব দ্রং

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম

ঢাকা, আগস্ট ৬, ২০২০

 

কভার ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost