Thokbirim | logo

১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রতিভা সাংমার জীবনী

প্রকাশিত : আগস্ট ০৬, ২০২০, ২১:৩৯

প্রতিভা সাংমার জীবনী

প্রতিভা সাংমা মধুপুর গড়াঞ্চলের মান্দি সম্প্রদায়ের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে  আজীবন কাজ করে গেছেন। আলোর দিশারী প্রতিভা সাংমার জন্মঃ ১৯৩২ সালের ডিসেম্বর মাসে। বাবা মৃত সনাতন মৃ, মা মৃত বংগবালা চাম্বুগং। চার ভাইবোনের মধ্যে প্রতিভা সাংমা ছিলেন তৃতীয়।

শিক্ষা

প্রতিভা সাংমা  ১৯৩৮ সালে ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখানে শিশু হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ১৯৪৯ সালে এ স্কুল থেকেই ম্যাট্রিক পাস করেন।  এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে ইন্টার পাশ করেন।

কর্মক্ষেত্র

প্রতিভা সাংমা  ১৯৫২ সালে ময়মনসিংহ শহরের হলিফ্যামিলি হাইস্কুলে শিক্ষিকা হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি হালুয়াঘাট উপজেলার সেন্টমেরি মিশনারি হাইস্কুলেও শিক্ষকতা করেছেন । ১৯৭০ সালে তিনি হালুয়াঘাটের সেন্টমেরি মিশনারি হাইস্কুলের চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামের স্কুলে চলে আসেন। ভুটিয়া প্রাইমারি স্কুলে তিনি নামমাত্র বেতনে শিক্ষকতা করে গেছেন। পীরগাছা স্কুলেও তিনি কাজ করেছেন। এছাড়াও আশপাশের দুটি মিশন স্কুলে অতিথি শিক্ষক হিসাবে বিনা বেতনে ক্লাস নিতেন। ১৯৭২ সালে মধুপুর গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা হলে তিনি সেখানে যোগ দেন। এবং এখান থেকেই ১৯ ৯১ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মধুপুর বনাঞ্চলের জলছত্র খৃস্টমিশনে অতি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসহ নানা সহযোগিতা দিতেন। মিশনের ভেতরে ছিল গোপন হাসপাতাল। সেখানে চলতো  আাহতদের চিকিৎসা। আর এ হাসাপাতালে নার্স হিসাবে যোগদেন প্রতিভা সাংমা। এর আগে তিনি স্কাউট বা গার্লসগাইডের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন । সেই প্রশিক্ষণকে কাজে লাগান একাত্তরে অবৈতনিক নার্স হয়ে। এভাবে মানবতার জয়গানে সামিল হন তিনি।

প্রতিভা সাংমা

সংস্কৃতিমনা

প্রতিভা সাংমা ছিলেন সংস্কৃতিমনা। তখন মান্দিরা মিশনারিদের প্রচারের প্রভাবে সুপ্রাচীন ধর্ম সাংসারেক ছেড়ে খ্রিস্টান হচ্ছিলেন। তিনি তখন বলতেন , খ্রিস্টান হলেও মান্দিরা মান্দিই থাকবে। নিজের কৃষ্টি-সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে। সংস্কৃতি চচার্র প্রতি তাঁর আগ্রহ দেখে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সরকার আদিবাসী কোটায় গালর্স গাইডের নেত্রী হিসেবে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানের পেশোয়ারে পাঠিয়েছিলেন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান

প্রতিভা সাংমার জীবনে অবসর বলে কিছু ছিল না।  তিনি শিক্ষকতা শুরু ময়মনসিংহ শহরের হলিফ্যামিলি হাইস্কুলে। সেই শিক্ষার প্রদীপ জ্বালানো শুরু। তিনি বিভিন্ন গারো গ্রামগুলোতে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন শিক্ষা ছাড়া মান্দি সমাজের অন্ধকার কিংবা কুসংস্কার দূর করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষকতার পেশা থেকে অবসরে গেলেও তিনি গ্রামের গারো শিশুদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাচ্চাদের বিনা বেতনে পড়াতেন। স্কুলে যেতে তাগিদ দিতেন। তার প্রচেষ্টা  আজ সার্থক। মধুপুর বনাঞ্চলের গারোদের মাঝে  শিক্ষার হার প্রায় শতভাগ।

জীবন সংসার

জীবনের সুন্দরমুহূর্তগুলো মানব সেবায় কাটিয়ে দেখেন বসন্ত চলে গেছে। তিনি থেকে গেলেন চিরকুমারী হয়ে।  পালকপুত্র নিয়ে ছিলেন। পালকপুত্রও ক্যান্সারে মারা যাবার পর নাতিপুতি নিয়েই কাটিয়েছেন জীবনের শেষ দিনগুলি।

সম্মাননা/ স্বীকৃতি

বেসরকারি সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশ ১৯৯৬

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ ২০০২

এবং

ডেইলি স্টার ও আইপিডিসি ফিন্যান্স লিমিটেডের উদ্যোগে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিভা সাংমাকে “Unsung Women Nation Builders 2018”   বিশেষ সন্মাননা প্রদান করেন।

কৃতজ্ঞতা : এই লেখাটি তৈরি করতে কবি বচন নকরেকের ব্লগ এবং  উদীযমান ইদিলপুরের ফেসবুক পেজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কভার ছবি ফাদার ডোনাল্ড-এর ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

।। থকবিরিম ডেস্ক




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x