Thokbirim | logo

২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১২ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গারো অঞ্চলে খ্রিষ্ট ধর্মের আগমন  ।।  শেষ পর্ব ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

প্রকাশিত : আগস্ট ০৫, ২০২০, ১১:০৩

গারো অঞ্চলে খ্রিষ্ট ধর্মের আগমন  ।।  শেষ পর্ব ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক গারোজাতিসত্তার একজন পণ্ডিতজন এবং সমাজ চিন্তক। তিনি পুরো জীবনটাই লেখালেখি আর সমাজ ভাবনায় ব্যয় করে যাচ্ছেন। বর্তমানে উনার বয়স প্রায় ৮৫ বছর। রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাকের  ‘ গারো অঞ্চলে খ্রিষ্ট ধর্মের আগমন ’ লেখাটি থকবিরিম পাঠকদের জন্য  লেখকের প্রকাশিতব্য ‘প্রবন্ধ সংগ্রহ’ গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিক প্রকাশ করা হচ্ছে। ‘গারো অঞ্চলে খ্রিষ্ট ধর্মের আগমন’ লেখাটির আজ শেষ পর্ব প্রকাশ করা হলো-সম্পাদক।

প্রথম মহাযুদ্ধের আগে আগে নাজারিন চার্চ মিশন কিশোরগঞ্জকে কেন্দ্র করে পূর্বধলা অঞ্চলের গারো গ্রামগুলোতে ব্যাপ্টিস্ট চার্চে অনুপ্রবেশ করেন। এই মিশনের প্রচারকগণ চন্দ্রকোণা, কেশিয়া পাড়া পর্যন্ত প্রচার কাজ চালান। কিন্তু বিশেষ সুবিধা করতে না পারায় তাঁরা এই ক্ষেত্র পরিবর্তন করেন। ফলে পূর্বধলার চার্চগুলো চার্চ অব ইংল্যান্ডে যোগ দেন।

বিগত বিংশ শতব্দীতে দ্বিতীয় দশকের ১৯৯৩ সনে Father A. Pianazzi তুরায় একজন ক্যাথলিক ব্যান্ড মাস্টারকে বিদায় দিতে আসেন। কিন্তু প্রশাসক তাঁকে তুরায় থাকতে দেন নাই। Father A. Pianazzi এবং Father Rocco ডুবরী থেকে গারো হিলসের ক্যাথলিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। কারণ জেলা প্রশাসক ব্যাপ্টিস্ট ছাড়া অন্য খ্রিষ্ট সম্প্রদায়কে গারোহিলসে প্রচার করতে দিতেন না। পরে Salvation    ফাদারগণ গারোহিলসে সীমান্তে প্রচার করতেন। পরে Salesian মিশনারিগণ সেই কাজ করেন। ফাদার জি গিল গারোহিলসের সীমা বরাবর কয়েকটি গির্জাঘর তৈরি করেছিলেন।

ব্যাপ্টিস্টরা সেসব গির্জাঘর পুড়ে দেয়। ক্যাথলিক মিশনরিগণ ও চার্চ ইংল্যান্ডের লোকেরা জেলা প্রশাসক Mr. William Show এর কাছে গারোহিলসে থেকে প্রচার করার অনুমতি আবেদন করলেও তিনি অনুমতি দিলেন না। পরবর্তীতে আসাম ভেলি কমিশনার মি, হিগিন্সের হস্তক্ষেপে জেলা প্রশাসক নিষেধজ্ঞা তুলে নেয়। এভাবে ১৯৩৫ সন থেকে সব খ্রিষ্টান সম্প্রদায় গারোহিলসে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে সুযোগ পায়।

বর্তমানে গারোহিলসের নানা স্থানে ক্যাথলিক মিশন স্থাপিত হয়েছে এবং গারোহিলসে একটি ধর্ম প্রদেশ হয়েছে। আর এই ধর্ম প্রদেশে বিশপ মহোদয় একজন গারো। বিগত ১৯৫০ সন থেকে সেখানে Seven Day Advantist চার্চ গড়ে উঠেছে এবং সহভাগিত মণ্ডলীও সেখানে গড়ে উঠেছে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে সিলেটে প্রেসবিটেরিয়ান মিশনারিগণ কাজ করে আসছেন। সেখানে বর্তমানে সুনামগঞ্জের ভোগলা ও মুগাইপাড়ে গারো প্রেসিবিটেরিয়ান চার্চ আছে। আর যেসব গারো বাংলাদেশ থেকে খাসিয়া হিলসে গেছে তাঁদের মধ্যেও অনেকে প্রেসবিটেরিয়ান হচ্ছে। আবার বাংলাদেশের কথাই বলছি। ১৯৫৬ সনে মনসাপাড়ার ব্যাপ্টিস্ট শিক্ষক ও প্রচারক আর্থিক কারণে Seven Day Advantist চার্চে চলে গেছেন এবং সেখানে মিশন করলেন।

কালক্রমে আকনপাড়া, চেংগিনি, খুজিউড়া, বিরিশিরি, কয়ারপুর, মলাজানী, শিবানন্দখিলা প্রভৃতি স্থানে চার্চ গড়ে উঠেছে। খ্রিষ্ট মণ্ডলী ও নব প্রৈরিতিক মণ্ডলী হয়েছে। এসব মণ্ডলী গারো ব্যাপ্টিস্ট মণ্ডলীর লোকদের দিয়েই গড়ে উঠেছে। আসামের গোয়ালপাড়াতে অস্ট্রেলিয়ান মিশনারিদের প্রচারে গোয়ালপাড়া গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশন গড়ে উঠেছে।

আমার এ লিখায় গারো অঞ্চলে খ্রিষ্টধর্মের আগমন সম্পর্কেই উল্লেখ করলাম। তবু পূর্ণাঙ্গ হয়েছে এ কথা বলব না। খ্রিষ্টান মিশনারিদের অবদান কী, তাদের কার্যাবলী কেমন ছিলো, খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণের ফলাফল কী প্রভৃতি এ লিখার বাইরে রয়ে গেল।

গারোরা বিভিন্ন খ্রিষ্ট সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়েছে। এই বিভক্তির মধ্যে সাম্প্রদায়িক তিক্ততা ছিলো স্বীকার করি। আর থাকাটাও অস্বাভাবিক ছিলো না। কিন্তু আনন্দ করি এই জন্য যে আমরা রক্তারক্তি বা খুনাখুনিতে লিপ্ত ছিলাম না। Fredderick S. Downs তাঁর Christianity In North East India তাঁর ‘Nevertheless insofar as denomination loyalties are strong and have sometimes led to conflict within the Christian community, and insofar as missions come in denomination Garb, some consideration of denomination developments is unavoidable. শেষেংশে সাধু পৌলের একটি উক্তি উল্লেখ করে লিখা শেষ করছি। তিনি বলেন-“একটা কথা নিশ্চয় কপটতায় কি সত্যভাবে, যে কোনো প্রকারে হোক খ্রিষ্ট প্রচারিত হচ্ছেন, আর এতেই আমি আনন্দ করছি, হ্যাঁ পরেও আনন্দ করব।” (ফিলিপিয় ১:১৮)

লেখক মণীন্দ্রনাথ মারাক

।। সমাপ্ত

আরো লেখা

সংস্কৃতি সংরক্ষণে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানার প্রয়োজনীয়তা  ।। পর্ব-১ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

সংস্কৃতি সংরক্ষণে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানার প্রয়োজনীয়তা  ।। পর্ব-২ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

সংস্কৃতি সংরক্ষণে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানার প্রয়োজনীয়তা ।। পর্ব-৩ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

গারো জাতিসত্তার উজ্জ্বল নক্ষত্র রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক ।। নীলু রুরাম

পালাগান ‘সেরেজিং’ ।। পর্ব-৭ ।।মতেন্দ্র মানখিন




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x