Thokbirim | logo

৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনা মহামারি, কেমন যাচ্ছে কালাচাঁদপুর মান্দিদের দিন ।। পর্ব-১

প্রকাশিত : আগস্ট ০৫, ২০২০, ১২:৫২

করোনা মহামারি, কেমন যাচ্ছে কালাচাঁদপুর মান্দিদের দিন ।। পর্ব-১

‘দুই মাস বন্ধ ছিলো। এপ্রিল থেমে মে পর্যন্ত। আমাদের দোকান ৮০% গারোদের উপর ডিপেন্ড কিন্তু করোনার কারণে বেচাবিক্রি কমে গেছে ৬০%। চাকরি করি বলে এখনও টিকে আছি। এ গলি (নাংরিমা গলি) থেকে প্রায় ৫০% লোক চলে গেছে। কেউ বাড়ি গেছে, কেউ মেসে উঠে গেছে। যাদের বউ পার্লারে কাজ করতো তাদের বউ গ্রামে চলে গেছে আর সে নিজে মেসে উঠে গেছে। আবার অনেকের চাকরি নাই। মেসে থেকে চাকরি খোঁজ করছে।’

সমৃদ্ধি স্টোর

বলছিলেন  মালঞ্চ লাইব্রেরি অ্যান্ড সমৃদ্ধি স্টোর এর কর্নধার নিউটন চিছাম। নিউটন চিছাম গারো সম্প্রদায়ের লোক। বিয়ে করেছেন নিজ সম্প্রদায়েরই অন্য মাহারির মেয়ে অমলা চিরানকে। এক ছেলে প্রসপার চিরান আর এক মেয়ে সমৃদ্ধি চিরান। মেয়ের নামেই রেখেছেন দোকানের নাম। দোকানে পুরোদিন সময় দেন স্ত্রী অমলা চিরান। তারা  বেশ কয়েক বছর আগে  রাজধানী ঢাকার গুলসান থানার কালাচাঁদপুর এলাকায় শিশুমালঞ্চ স্কুলের সামনে দোকান দিয়েছেন।

নিউটনের মুখেই জানা গেল- করোনার আগে ব্যবসা হতো জমজমাত। লোকে ভিড় করতো দোকান কিংবা স্কুলের আশপাশ। কিন্তু করোনার কারণে সব স্তব্ধ হয়ে গেছে। তাকেও ব্যবসা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছে দুই মাস। মাত্র একমাস আগে থেকে আবার নতুন করে শুরু করেছেন দোকান। কিন্তু সেই আগের আড্ডা কিংবা ভিড় বা ছাত্রছাত্রীদের হৈহুল্রোড় আজ আর নেই। স্কুল বন্ধ ফলে এক রেক চিপসই শেষ হয় না। অথচ আগে ৪/৫টা  রেক রাখলেও শেষ হয়ে যেতো দ্রুত।

এই গলিতে দোকান কেমন ছিলো বা এখন কেমন আছে? জানতে চাইলে বলেন- এই গলিতে ৯টা মান্দি দোকান আছে। কিন্তু জানা মতে ২ টা ছেড়ে দিসে। বাকিদেরও তেমন চলছে না। অনেকেই হয়তো ছেড়ে দেবে। এখন সবাই হিসাবে চলছে। দিনটা কোনোমতে পার করার চেষ্টা করছে।

নাংরিমা গলির যে দোকানটায় জমজমাট আড্ডা হতো সেই টাইরা চিসিমের দোকানে এখন ফার্মেসির দোকান বসেছে। টাইরা চলে গেছে অন্য কোথাউ। একইভাবে কাপড়ের দোকানও বন্ধ হয়ে গেছে। আরো কয়েকটি দোকান বন্ধ হবে হবে করছে। করোনা মহামারিতে পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আক্রান্তও হচ্ছেন প্রতিদিন। করোনার কারণে বন্ধ হয়েছে অফিস ফলে অনেকেরই চাকরি চলে গেছে ।এরফলে সঞ্চিত টাকা পয়সা খরচ করেও টিকতে না পেরে অনেকে ছেড়ে দিয়েছে বাসা। চলে যেতে বাধ্য হয়েছে গ্রামের বাড়ি। মানুষজনকে ভাবতে হচ্ছে বিকল্প পন্থা। অনেকে জীবন বাজি রেখেই নেমে পড়েছেন কাজে। খুলে বসেছে চায়ের দোকান কিংবা কুৎচিয়ার দোকান।

চলবে…

।। বিশেষ প্রতিনিধি




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost