Thokbirim | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গারো জাতিসত্তার উজ্জ্বল নক্ষত্র রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক ।। নীলু রুরাম

প্রকাশিত : আগস্ট ০৪, ২০২০, ১৪:৫৪

গারো জাতিসত্তার উজ্জ্বল নক্ষত্র রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাক ।। নীলু রুরাম

রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাককে (রংমা) অনেক আগে থেকেই জানি প্রিন্সিপাল মণীন্দ্রনাথ মারাক হিসাবে। আরেকটি পরিচয় তিনি সুবক্তা এবং অনেক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। অধিকাংশ প্রবন্ধই নিজস্ব গারো জাতি সম্পর্কীয়। উনার সাথে প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ হয়েছে যখন আমি ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশীয় শিক্ষা কমিশনের শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলাম।

তার সাক্ষাৎ অনুসারে পাক আমলে মেট্রিক পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিরিশিরির এক মিশনারির এক স্কুল টিচার হিসেবে চাকুরি দিয়েছিলেন। তখন তার চাকুরি  মনপূত: হয়নি। ভারতে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানেও টিকতে পারেননি। মেঘালয়ের পারিপার্শ্বিকতা তার পছন্দ হয়নি। খাপ খাওয়াতে পারেননি লামদানী গারোদের সমাজ ব্যবস্থার সাথে মেঘালদের আচিকদের সমাজ ব্যবস্থা।

আবার দেশে ফিরে এলেন। তার পরের তাঁর ইতিহাস তো জিবিসির সদস্যদের সকলই জানা। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (P.T.I Primary Teachers’ Institute)  সারা জীবন আত্মনিয়োগ করেছেন প্রাথমিক ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৭৭ সালে তৎকালিন বিরিশিরি উপজাতীয় কালচারাল একাডেমির প্রথম ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়াও ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ও কারিতাস আঞ্চলিক দপ্তর ময়মনসিংহে বিভিন্ন কর্মসূচি সহায়তা করেন। উল্লেখিত দুটো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে পরিচিতি লাভ করেন। উপজেলা পর্যায়ে তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও সুসং কলেজের গভর্নিং বোর্ডের সদস্য হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

থকবিরিম প্রকাশিত রেভা. মণীন্দ্রনাথ মারাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বই

তাঁর কর্মস্থল জীবনে তিনি অনেক গবেষণা মূলক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। এ প্রবন্ধগুলো বিভিন্ন সভা সেমিনার, কর্মশালায় বক্তা হিসেবে উপস্থাপনা করেছেন। তাঁর সাথে আমি গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশন পুস্তকের সম্পাদনায় ২০০৫ সালের বিভিন্ন সময়ে একত্রে কাজ করেছি। এর পূর্বেও ২০০০ সালের দিকে আমি একটি প্রস্তাব রেখেছিলাম “দাদা আপনার পাণ্ডুলিপিগুলো আমাকে দেন আমি কম্পিউটার কম্পোজ করে আপনাকে দেব।” আমার প্রস্তাবটি পরবর্তীতে বাস্তবে রুপায়িত হয়নি। যদিও তিনি বার্ধ্যকে পরিণত হয়েছেন তবুও তার স্মরণ শক্তি এখনো প্রখর। তার সাথে কথোপকথনে এখনো অতীতের অনেক ঘটনা তিনি বর্ণনা করতে পারেন।

আমার জানা মতে, “গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশনের ইতিহাস” পুস্তকটিই পুস্তাকারে প্রথম প্রকশিত পুস্তক। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধের মধ্যে “গারো অঞ্চলে ব্যাপ্টিস্ট মণ্ডলীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং বিরিশিরি মিশন” (গারো অঞ্চলে খ্রিষ্ট ধর্মের আগমন এবং অবদান ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশ শতবর্ষ জুবিলি উৎসব ফেব্রুয়ারি ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ) ও “গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশনও প্রাসঙ্গিক কথা (শালোম, দি জিবিসি খ্রিষ্টীয়ান হেলথ প্রজেক্ট জয়রামকুড়া সুবর্ণ জয়ন্তী স্মরণিকা ২০০৪) উল্লেখ যোগ্য।

আগেই বলেছি মণীন্দ্র নাথ মারাক এর সাথে প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে। ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের শিক্ষক শিক্ষিকাগণ পর্যায়ক্রমিকভাবে পিটিআই ভর্তি হয়েছিলেন। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গের কিছু কিছু শিক্ষক শিক্ষিকাগণও এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণের জন্য আসতেন। এ সমস্ত আমাকে শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে সমন্বয় সাধন করতে হতো। প্রতি মাসে তাদের সাথে দেখা করে প্রশিক্ষণের অগ্রগতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতাম। কোন সমস্যা থাকলে তা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতাম। এভাবে তাঁর সাথে যোগাযোগ। আমার সাথে কারিতাসে কর্মরত মি: সেকেন্দ্র স্নাল সহায়তা করত। কারিতাস এ সমস্ত প্রশিক্ষণার্থীদের মাসিক ভাড়ার ব্যবস্থা করেছিল পিটিআই বিভাগের মাধ্যমে।

একটি বিষয় খুবই লক্ষণীয় তিনি বিভিন্ন তথ্য তার ডায়রিতে ফটোকপি ও নিজে সামান্য কাগজের টুকরো হলেও লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। তার কাছে ABMS (Australian Baptist Mossion Society) এর অনেক তথ্য নির্ভর কাগজ রয়েছে। অনেক কাগজ পত্র যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে পোকায় কাটছে।

নীলু রুরাম গারো সম্প্রদায়ের কবি ও গল্পকার।




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost