Thokbirim | logo

১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

প্রকৃতির উপহার ও প্রাকৃতিক সুস্থ থাকা । পর্ব-২।। সুমনা চিসিম

প্রকাশিত : আগস্ট ০৩, ২০২০, ০৯:৪১

প্রকৃতির উপহার ও প্রাকৃতিক সুস্থ থাকা । পর্ব-২।। সুমনা চিসিম

পূর্বে প্রকাশের পর…

অন্যদিকে আয়ুবের্দাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য তাঁর বিখ্যাত ‘চিরঞ্জীব বনৌষধি’ গ্রন্থের প্রথম খন্ডে সবধরনের তরিতরকারী বা শাকসব্জিকে ‘শাক’ বলেই বর্ণনা করেছেন যা গারো আদিবাসীরা ‘বিজাক’ বা “সামবিজাক’ বলে থাকে। তিনি সবরকম সব্জিকে ছয়টি ভাগে ভাগ করে দেখিয়েছেন এইভাবে;  ১. পালং, নটে, পুঁইশাক, বাঁধাকপি ইত্যাদি হলো পত্রশাক। ২. ফুলকপি, মোচা, বকফুল ইত্যাদি পুষ্পশাক। ৩. লাউ, কুমড়ো, বেগুন, ঢেড়স, পেঁপে হচ্ছে ফলশাক। ৪. ওল, কচু, লাউ, কুমড়ো, শালুক ফুলের ডাটাগুলি নালশাক। ৫. আলু, ওল, কচু, মূলো এরা হলে কন্দশাক। ৬. পাতালকোঁড়, ভুঁই ছাতা হচ্ছে সংস্বেদজ শাক। এই গ্রন্থে তিনি শাক সর্ম্পকে বলেছেন যে, “শাক’ শব্দটি কিন্তু কেবল লতা বা বৃক্ষের পাতাকে বোঝায়না। পাতা, ফুল, ফল, নাল, কন্দ এবং পুরাণ পচা মাটিতেও যে গাছ জম্মে (ছত্রাক) সবই শাক। ওল ভাতে, মান সিদ্ধ, পটোল সিদ্ধ, বকফুল ভাজা, কাঁচাকলা সিদ্ধ, লাউ-কুমোড়ের ডাটা খেলেও তাকে শাক খাওয়াই বলা হবে। অথবা আমরা যেসব ব্যঞ্জন প্রস্তুত করি তাও শাকাহারেরই বিভিন্ন রূপ। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যাহার জন্ম যেখানে, তাহার ভেষজও সেখানে জন্মগ্রহণ করে; তাই বলা হয়ে থাকে-যাহাই মুস্কিল তাহাই আসান। প্রাচীনমতে মুস্কিল অর্থ ভয়, অর্থাৎ ভয় যেখানে নিবারণও সেখানে। যেকোন প্রকার ভয়-নিবারকতাই ভেষজ।

তাছাড়া বৈদিক যুগে ভারতে ভেষজ্যদীক্ষা প্রাপ্তির কথা ‘চিরঞ্জীব বনৌষধি’ গ্রন্থে আয়ুবের্দাচার্য শিবকালী ভট্টাচায যে বর্ণনা করেছেন তা হলো-‘বৈদ্যকগুরু সোমের কাছে বৃক্ষ লতাদির সমাগম এবং তাদের আলাপন থেকে তাদের প্রত্যেকের কি কি রোগ দূর করার সার্মথ্য আছে তা জানা যায়,—সেই বৈদ্যকগুরু সোমের কাছে মানবের কল্যাণে তাদের (বৃক্ষরাজির) কার কি রোগ নিরাময়ের দক্ষতা আছে সেটাই যেন তারা জ্ঞাপন করেছে। কেউ বললে—-আমি গূড়–চী, ফুলো দূর করতে পারি; আবার কেউ বললে- ক্ষয়রোগ দূর করতে পারি, আমি-পৃশ্নিপর্নী এই রকম অর্শসঃ অপামার্গ। আমি গূদজাত অর্শ দূর করতে পারি-আমি মুখপাক, ক্ষত, বাতরোগ দূর করতে পারি, আমি ‘নির্গুন্ডী। সোম তখন ডাকলেন অন্যান্য শ্রেষ্ঠ বৃক্ষাদিকে; পলাশ ধব তমাল অসন প্রভৃতিকে।–অর্থাৎ উত্তম বৃক্ষগণ! তোমরা পরস্পর বলো কে কোন্ কোন্ ব্যাধি দূর করতে পার?–এরাও নিজের নিজের রোগনাশক যোগ্যতার কথা বললে-সোম তখন সকলকে একত্র ক’রে বললেন-আপনারা সকলের কল্যাণের জন্য কি সর্বত্র যেতে পারেন? সেখানে ব্যাখা করা হয়েছে, কোথায় অর্থাৎ কোন্ কোন্ দেশে কোন্ গাছটি স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে তারও ইঙ্গিত কথোপকথনচ্ছলে ব্যক্ত করেছেন-এমনকি কোন্ প্রাণীর ভক্ষ্য সে হতে পারে অর্থাৎ কোন্ প্রাণীর সে খাদ্য, সে কথাও বলা হয়েছে। –এরপর সেই উদ্ভিদগণ সোমকে বললেন, আপনি আমাদিগকে প্রাণিগণের কল্যাণের জন্য প্রেরণ করুন। তাদের এই প্রেরণা বাণী শুনে ঔষধিরাজ সোম ঋষিদিগকে বললেন-আপনারা জীবের কল্যাণের জন্য এই ভেষজ্যগুলিকে উৎসর্গ করুন, এ’রা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বলছেন, আমরা দেহ ও প্রাণ দিয়ে ভূত কল্যাণ করব। এই ভাবে ভারতে ভৈষজ্যদীক্ষা দান করা আছে বৈদিক সুক্তগুলিতে।

উপরোক্ত বর্ণনা থেকে বলা যায়, বৈদিক যুগে প্রাচীন ভারতে প্রাপ্ত ভেষজ দীক্ষা ও Dr. Tharsush K Sangma বর্ণিত গারো আদিবাসীদের প্রথম ঔষধিগাছ প্রাপ্তির মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। আবার যদি ÔBack To Eden’-লিখিত ÔBack To Eden’–এর কথা ধরি, তাহলে দেখি যে প্রকৃতিই জীববৈচিত্র্যের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। ÔBack To Eden’–এ তিনি যে মূল্যবান উক্তি করেছেন তারই অংশ তুলে ধরছি-

Who is she that Goeth forth as the morning-fair

As the moon, clear as the sun, and with banner

floating above her? The true healing art

Whence art thou?- I come from nature.

What art thou?- Herbs, water, food, pure air,

sun shine, exercise, and rest.

Where art thou going?- On the wings of the

morning to the ends of the earth.

What is thy commission?-To go to every

physician and nurse and whosoever will,

to restore many families, prevent.

much suffering and premature death, and wipe

the tears from many eyes.

Speed on thy flight, thou message of health and joy.

অর্থাৎ  ‘কে সে অবিরত সুন্দর সকালের ন্যায়-

চাঁদ ও স্বচ্ছ সূর্য্যরে মত প্রতিদিন বার্তা বহন করে কোথায় যায় ? – পৃথিবীর সত্যিকার সুস্থ্যতা আনার জন্য।

কোথা থেকে তুমি এসেছো? – আমি প্রকৃতি থেকে এসেছি।

প্রকৃতি তুমি কে? -বনৌষধি, পানি, বিশুদ্ধ বাতাস, সূর্য্যর কিরণ, ব্যায়াম এবং বিশ্রাম।

চলবে…




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost