Thokbirim | logo

১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

অপরূপ পাহাড়ি কন্যা সিমসাং (সোমেশ্বরী) হয়ে উঠেছে রাক্ষসী

প্রকাশিত : আগস্ট ০২, ২০২০, ১১:৪১

অপরূপ পাহাড়ি কন্যা সিমসাং (সোমেশ্বরী) হয়ে উঠেছে রাক্ষসী

‘সিমবিয়া সিমসাং চি’খো গোয়াল না’বে নাসং

নাম্বিয়া সিমসাং চি’খো  গিজাল  না’বে নাসং

উওয়ান আনচিং জিংজ্রতনি রাসং

উওয়ান আনচিং জিংজ্রতনি জাঙ্গি’

এই সুমধুর গানটি লিখেছেন গারো সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট কবি জেমস জর্নেশ চিরান। গানটির সুর ও লিরিক  এতো সুমধুর যে একসময় সবার মুখে মুখে বাজতো। গানে সুমেশ্বরী মানে সিমসাং নদীর পানি যাপিত জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে মিশে আছে। নদীর শীতল  স্নিগ্ধ পানি গারোদের রাসং( গর্ব-অংকার-সম্মান),  এবং জাঙ্গি মানে জীবন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় অসাধু ব্যবসায়ীদের বালূ উত্তলনে কিংবা নদীকে শাসন করতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের কাপালে কুড়াল মেরে যাচ্ছে। আজ রূপসী সিমসাং ফুঁসে উঠেছে। থাবা বসিয়েছে ঘরবাড়ি মসজিদ কিংবা মন্দিরে। অসহায় হয়ে পড়েছে দুই পাড়ের  সাধারণ নিরীহ মানুষ।

‘সোমেশ্বরী নদীর খুবই খারাপ অবস্থা। বিজয়পুর ক্যাম্পের উত্তরে অনেক ভাঙছে। বিশেষ করে বহেরাতলী, কামারখালি, বড়ইকান্দি গ্রামগুলোতে ক্ষতি হচ্ছে। নদীর ভাঙন থামছেই না। গতকাল কামারখালি বাজারের অনেক পুরনো শতবর্ষী বটগাছটি নদী ভেঙে নিলো। আর মন্দিরের অবস্থাও খুবই খারাপ। প্রদীপ রিছিল মিন্টু রিছিল বরেন বাবু তাদের বাড়ির উত্তরে ভাঙছে। যদিও বরেন বাবু নিজ উদ্যোগে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই সামান্য দিয়ে কি নদীর ভাঙন রক্ষা করা যায়?’

বলছিলেন কুল্লাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মি. শুভ্র চিরান।বর্ষাকাল আসলেই সোমেশ্বরীর তীরবর্তী লোকগুলো কিংবা গ্রামগুলোর ঘুম হারাম হয়ে যায় নদী ভাঙনের চিন্তায়। এই বছরও ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু প্রতিবছরের তুলনায় এই বছর যেন বেশি রাক্ষসী হয়ে উঠেছে অপরূপ সুন্দরী সোমেশ্বরী। তার সুন্দরের রূপ পাল্টে হয়ে উঠেছে ভঙ্কর। গ্রাস করে চলেছে গ্রামের পর গ্রাম, রেহায় পাচ্ছে না প্রার্থনালয়ও।

সিমসাংয়ের ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না

নদী ভাঙনে কোনো সহাযতার কথা বলতে গিয়ে মি. শুভ্র বলেন, ‘আপাতত কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি। তবে ব্যক্তিগত কিছু সহায়তা পেয়েছি। আমি নিজেও বাঁশ দিয়ে বস্তা দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছি। কিন্তু এটা দিয়ে তো নদীর ভাঙন রক্ষা করা সম্ভব না। এলাকার যুবকরা এই কাজে এগিয়ে আসছে। স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছে। তারা গ্রাম থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।’

তিনি আরো বলেন,  ‘নদী ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য সরকারিভাবে বাঁধ দিতে হবে, ব্লক দিতে হবে। এটা সরকারি বড় বাজেটের দরকার। আর এটা না করা হলে সোমেশ্বরীর ভাঙনে গ্রামের পর গ্রাম মসজিদ মন্দির গির্জা বিলীন হয়ে যাবে’

সারা বছর যে নদী শীতল-স্নিগ্ধ-অপরূপ সেজে থাকে সেই নদীই বর্ষাকাল এলে পাল্টে ফেলে তার রূপ। হয়ে ওঠে রাক্ষসী। ভাসিয়ে নিয়ে যায় সব কিছু। এর দায়ও কিন্তু শুধু নদীর একার না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারা বছর বালু তুলে নদীর এই হাল করেছে বলছিলেন বিরিশিরির এক সচেতন যুবক।

কামারখালি গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, আর বলবেন না, নদীর ভাঙনের চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না। কখন বাড়ি ভেঙে যায় এই ভয় কাজ করে। গতকাল তো আমাদের অনেক বছরের পুরান গাছ তলিয়ে গেল।কপালে কী যে হবে কেউ বলতে পারে না।

সোমেশ্বরী এখন এলাকার মানুষজনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙছে পাড়, ভাসিয়ে নিচ্ছে ঘরবাড়ি রেহায় পাচ্ছে না মন্দির মসজিদ।  সোমেশ্বরী নদী পাড়ের গ্রামগুলো বিশেষ করে  বিজয়পুর,  রানীখং, বহেড়াতলী, কামারখালী, বড়ইকান্দি, কুল্লাগড়া, ডাকুমাড়া, শিবগঞ্জ, গাওকান্দিয়া গ্রামগুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয়। দ্রুত সোমেশ্বরী নদীর পাড় বাঁধের ব্যবস্থা না হলে গ্রামকে গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। তাই নদীর করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পেতে এলাকার চেয়ারম্যান, জনসাধারণ সরকারের কাছে বিশেষ সহায়তা চেয়েছেন এবং সরকারের উপর মহলের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

কৃতজ্ঞতা : কুল্লাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মি. শুভ্র চিরান, কবি জেমস জর্নে শ চিরান, তরুণ লেখক দিশন অন্তু রিছিল এবং এলাকার মানুষজন।

।। বিশেষ প্রতিনিধি




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x